ঘুরতে পছন্দ করি খুব, পছন্দ করি আল্লাহ তাআলার সুন্দর সুন্দর সৃষ্টি দেখতে। আর আমি সবচেয়ে পছন্দ করি আমার নিজ জেলা ভোলাকে দেখতে। ইদ উল আজহা ২০২০ এ আমি ভোলা জেলার বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমন করেছিলাম। বোরহানউদ্দিন উপজেলা, ভোলা সদরের তুলাতুলি নদী, ভোলা সদরের ভেদুরিয়া ব্রীজ ভ্রমণ করার পর আমার সৌভাগ্য হয় ভোলার বাঘমারা ব্রীজ ভ্রমণ করার। কেননা ভোলা জেলার নতুন এ ব্রীজটি সমন্ধে বহুদিন ধরে বন্ধুদের মুখে শুনে আসছি কিন্তু কখনো যাওয়া হয়নি।

আগস্ট ৭, ২০২০ রোজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায় করার পর মন ভালো করার জন্য আমার বন্ধু শান্ত, সাব্বির আর ছোট ভাই স্বপনের সাথে গল্প করছিলাম। হঠাৎ করেই সাব্বিরের মাথায় নতুন একটি সুন্দর পরিকল্পনা আসলো, সে বলে উঠলো, চলনা আমরা কোথাও হতে ঘুরে আসি। আমি বললাম ঠিকাছে; চলো যাওয়া যাক। শান্ত-ও খুব ইচ্ছা পোষন করলো। তারা বললো ঠিক ৪টায় তৈরি হয়ে থাকতে এবং সাব্বির এবং স্বপন তাদের মোটরবাইক নিয়ে আসবে। আমিও বাসায় গিয়ে অপেক্ষা করছিলাম তাদের জন্য। আমার আসলে উত্তেজনায় ঘুম আসলো না। বার বার হাতঘড়ি দেখছিলাম আর তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ৪ টায় আসবে বলে তারা তিনজন ঠিক সাড়ে পাঁচ টায় আমার বাসায় এসেছিলো। এবং আমরা চলছিলাম ভেদুরিয়া ব্রীজের উদ্দেশ্যে। যেহেতু আমি ঠিক গত পরশুই ভেদুরিয়া ব্রীজ ঘুরে এসেছিলাম তাই তাদের বাঘমারা ব্রীজে ভ্রমণ করার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। বাঘমারা ব্রীজে তারা তিনজনই কয়েকবার ভ্রমণ করেছিলো। তাই তারা বাঘমারা ব্রীজ সমন্ধে যথেষ্ট জানতো। এজন্য তাদের সাথে ভ্রমণ করাটা খুবই ভাগ্যের বটে।


একমাত্র নতুন ভ্রমণকারী হবার জন্য আমার উত্তেজনা অনেক বেশি ছিল। আর তাই গলায় ডিএসএলআর ক্যামেরা আর হাতে নোকিয়া ৬ মোবাইল নিয়ে আমি চললাম বাঘমারা ব্রীজের উদ্দেশ্যে।
আমরা ঠিক দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে নিলাম। শান্ত চললো সাব্বিরের নতুন বাইকে আর আমি চললাম স্বপনের বাইকে করে। সাব্বির খুব দ্রুত বাইক চালায় আর স্বপন খুব সাবধানে বাইক চালায়, আর তাই আমার স্বপনের বাইকে চড়তেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলাম।
আমি আসলো জানতাম না ভেদুরিয়া-ভেলুমিয়া পথ দিয়ে বাঘমারা ব্রীজে যাওয়া যায়। আসলে আমার জানা ছিলো না; বাঘমারা ব্রীজ কোথায় অবস্থিত। ভোলা সদর-ভেদুরিয়া-ভেলুমিয়ার পথ ধরে আমি বাঘমারা ব্রীজের দিকে যাচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম এ ভ্রমণটা কেমন হবে। ভোলার সবুজ শ্যামল প্রকৃতি আমাকে বরাবরের মতোই বিমোহিত করে। এ ভ্রমণটিও তার ব্যতিক্রম নয়। বাঘমারা যাবার পথে আমরা ভেদুরিয়া ব্রিজটিতে কিছু সময় কাটিয়েছিলাম। হালকা নাস্তা করার পর আমরা আবার বাঘমারা ব্রিজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।

বাঘমারা ব্রীজ মূলত বাঘমারা নদীর উপর অবস্থিত। ভোলা সদর উপজেলা থেকে বাঘমার ব্রিজ প্রায় ১৫ কি.মি দূরে অবস্থিত। অনেক ভোলাবাসীই বাঘমারার অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট কম ধারণা রাখে। অনেকেই জানে বাঘমারা ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার বাংলাবাজারে অবস্থিত। কিন্তু বাঘমারা মূলত ভেলুমিয়ার একটি গ্রাম। ভেলুমিয়া ভোলা উপজেলার সর্ব উত্তরের একটি ইউনিয়ন পরিষদ। বাঘমারা নদী মূলত উত্তর ভোলার সাথে পটুয়াখালী জেলার সংযোগ করে। অতীতে এ বাঘমারা নদী ব্যবহার করে প্রায় ২.৫ ঘন্টা সময় লাগতো উত্তর ভোলা থেকে পটুয়াখালী জেলায় ভ্রমণ করতে। ভোলা জেলার মানুষের দু:খ দূর করার জন্য ২০১২ সালে সরকার তমা কন্স্ট্রাকশন দিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত এ ব্রিজটি তৈরি করে। প্রায় ১৫০০ ফুট দীর্ঘ বাঘমারা ব্রীজ তৈরি করতে ৪২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। বাঘমারা ব্রিজের পূর্ব তীরে প্রায় ১২০ মিটার এবং পশ্চিম তীরে প্রায় ৩৬০ মিটার রাস্তা রয়েছে।
ভোলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে ভোলার পাশ দিয়ে বয়ে চলা নদী। যতোবারই আমি ভোলার এ সৌন্দর্য অবলোকন করি আমার সেই ক্লাস সেভেন, এইট-এ আমার করা আর্টের কথা মনে পড়ে। আমার সেই আর্টে থাকতো অনেক বড় বড় গাছ, তার পাশে খড়কুটো, গ্রামের দোচালা বাড়ি, গরুর খামার আর তার পাশে বয়ে যেত আঁকাবাঁকা নদী।
বাঘমারা যাবার আগে আমার ধারণা ছিল হয়তোবা ওখানে যাবার রাস্তাগুলো অতো গোছালো হবে না। কিন্তু ভেলুমিয়া হতে বাঘমারা যাবার রাস্তাগুলো আমার সেই ধারণা বদলে দিয়েছিল। প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় পর আমরা বাঘমারা ব্রিজে পৌছেছিলাম। বাঘমারা ব্রিজের যে জিনিসটা আমাকে সবচেয়ে অবাক করেছে তা হলো বাঘমারা ব্রিজের দৈর্ঘ্য। প্রায় ৪৫৭ মিটার এ ব্রীজটি ভোলাবাসীর জন্য এক বিশাল স্বপ্নের বাস্তবায়নও বটে।

প্রায় ২০ মিনিট পর আমরা বাঘমারা ব্রীজে গিয়ে পৌছালাম। ছোট এ ভ্রমণটি আরো উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল বিকেল বেলার সুন্দর প্রকৃতির জন্য। বিকেলে আমাদের প্রত্যেকটা সময় যেন স্বপ্নের মত কেটেছিলো। ভ্রমণের এক ফাঁকে আমরা সবাই হালকা নাস্তা করে নিলাম।
সন্ধ্যাবেলায় হালকা নাস্তা খাবার পর আমরা সবাই রওয়ানা দিলাম বাসার উদ্দেশ্যে। কিন্তু পথিমধ্যে কিছু সময় ভেদুরিয়া ব্রীজে সময় কাটানোর পর আমাদের সবার ইচ্ছা হলো তুলাতুলী যাবার। আপনাদের বলে বুঝাতে পারবো না আমরা ভোলাবাসীরা তুলাতুলী ঘুরতে যাবার ক্ষেত্রে কতটা আবেকপ্রবণ। কেউ যদি আমাদের রাত্র তিনটায়ও তুলাতুলী যাবার প্রস্তাব দেয় আমরা ভোলাবাসী-তাও পারবো। কিন্তু এবার তুলাতুলী যাবার কারণটা ছিলো কিছুটা আলাদা। কারণ ওখানো খুব সুন্দর খাটি গরুর খাটি দুধের চা পাওয়া যায় তাও যথেষ্ট কম দামে। তাই সাব্বিরের তুলাতুলী যাবার এই প্রস্তাবটাকেও না করতে পারলাম না।

রাত্র ৯টা ২০ মিনিটে আমরা তুলাতুলী গিয়ে পৌছালাম। ওখানে গিয়েই আমরা প্রথমে খাটি গরুর, খাটি দুধের চা পান করলাম। তুলাতুলীতে কিছুটা সময় কাটিয়ে প্রায় ১০ টায় আমরা আমাদের নিজ নিজ বাসার জন্য রওয়ানা দিলাম। সত্যি বলছি এবার মন না চাইলেও বাসাতেই গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার একটি জিনিস খুবই অবাক লেগেছে। বিকেল ৫ টা থেকে রাত্র ১০ টা ২০ মিনিট ; এই ৫ ঘন্টা ২০ মিনিট কিভাবে কেটে গেলো ; একজন একাউন্টেন্ট হয়েও আমি তা গনতে পারিনি।
সত্যিই মজার সময়গুলো এমনই হয়। আসে খুব দেরী করে কিন্তু যায় খুব তাড়াতাড়ি। কি বলেন বন্ধুরা।
To know Tour to Tour to Bhagmara Bridge of Bhola (NRD’s Tour 054) in English please click the link below: https://iamnrdurjoy.wordpress.com/2020/10/22/nrds-tour-054-english/





















