মনপুরা দ্বীপের পরিচিতি: মনপুরা দ্বীপ হচ্ছে বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর এলাকার উত্তরদিকে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত একটি দ্বীপ। এটি ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলায় কিছুটা অংশ জুড়ে অবস্থিত। এই দ্বীপের আয়তন ৩৭৩ বর্গ কিলোমিটার।এই দ্বীপটির জনসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যতে ভরপুর এই দ্বীপটির অবস্থান একটু দুর্গম। কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভিন্ন রূপ দেখতে এবং তাঁর স্বাদ নেবার জন্য প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক এ দ্বীপে ভ্রমণ করতে যায়।
Manpura Island, Bhola, Bangladesh (Find the article in English): https://iamnrdurjoy.wordpress.com/2020/12/29/manpuraisland-english/

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ দ্বীপে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উভয়ই দেখা যায়। ২০০৯ সালের বাংলাদেশের সাড়াজাগানো সিনেমা মনপুরার শুটিং এখানে করা হয়েছিল। এর পর পরই ভ্রমণ-প্রেমীদের মধ্যে দ্বীপটি আরও জনপ্রিয়তা পায়।

মনপুরা দ্বীপের গুগল লোকেশন: https://goo.gl/maps/8RxXeNT1QxKuAap37

মনপুরা দ্বীপের ইতিহাস: প্রাকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরা দ্বীপ; ভোলা সদর উপজেলা থেকে প্রায় ৮০ কিঃ মিঃ দুরত্বে সাগরের বুকে অবস্থিত। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনার বুকে জেগে ওঠা এই দ্বীপটি প্রায় আটশো বছরেরও পুরোনো। ভোলা জেলার ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, তেরশো শতাব্দীতে এ দ্বীপের উৎপত্তি হয়। তবে মানুষের বসবাস শুরু হয় তারও তিনশো বছর পর; মানে প্রায় ষোড়শ শতাব্দীতে।

বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনার মোহনায় ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মনপুরা উপজেলায় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। মিয়া জমিরশাহ’র স্মৃতি বিজড়িত মনপুরা দ্বীপ অতি প্রাচীন। একসময় এ দ্বীপে পর্তুগীজদের আস্তানা ছিল। ৬০০ বছর পূর্বে পর্তুগীজ দস্যুরা এই দ্বীপে আশ্রয় নিত। তারই নিদর্শন হিসেবে দেখতে পাওয়া যায় লম্বা লোমওয়ালা কুকুর। পর্তুগীজদের প্রস্থানের পর ভোলা, লক্ষ্মীপুর এবং নোয়াখালী থেকে মানুষজন এই দ্বীপে এসে বসবাস করতে শুরু করে।
ধারনা করা হয়, এ দ্বীপটি তৎকালীন বাকলা চন্দ্রদ্বীপের (বর্তমান বরিশাল) জমিদারি প্রথার অন্তর্ভূক্ত ছিলো। সেসময় কিছু ইউরোপিয় ভ্রমণকারী ডারমেথা লি ব্রাংক, সিজার ফ্রেডরিক ও মউনরিক এই দ্বীপে ভ্রমনে আসেন। ১৫১৭ সালে এই ভ্রমণকারীরা তাদের ব্যবসা-বানিজ্যের জন্য মনপুরাকে নির্বাচিত করে এবং তাদের বসতি স্থাপন করে। ইতিহাসবিদরা মনে করেন, তখন এ দ্বীপটির অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী ও জলাশয়ের মাছ, পশুসম্পদ, মহিষের দুধ, পনির এবং দই যে কোন আগন্তুকের মন ভরিয়ে দিতো বলে এই দ্বীপের নামকরণ করা হয় মনপুরা। ঐতিহাসিক বেভারিজ মনপুরার নামকরণ নিয়ে লিখেছেন, মনগাজী নামের এক ব্যক্তি অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সেই সময়ের জমিদারী থেকে মনপুর চর ইজারা নেন। পরবর্তীতে তার নামানুসারে এ দ্বীপটির নামকরণ করা হয় মনপুরা। স্থানীয় লোককাহিনী মতে, মনগাজী নামে এখানকার এক মাঝি একদা বাঘের আক্রমনে নিহত হন। স্থানীয় লোককাহিনী মতে, মনগাজী নামে এখানকার এক মাঝি একদা বাঘের আক্রমনে নিহত হন।

এই দ্বীপটি এক সময় হাতিয়া-সন্দীপের সাথে যুক্ত ছিলো এবং মোঘল শাসনামলে এখানে সন্দীপের লোকেরা বসতি স্থাপন করে। ১৮৩৩ সালে মনপুরাকে ভোলার অধীনে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়। এর প্রায় একশো বছর পর ১৯৮৩ সালে মনপুরা ভোলা জেলার একটি উপজেলায় পরিণত হয়।
মনপুরা দ্বীপের ভৌগলিক অবস্থান: মনপুরা দ্বীপটির উত্তরে মেঘনা নদী, পূর্বে হাতিয়া উপজেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে তজুমদ্দিন, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলা । মনপুরা দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে হাজার হাজার একরের ম্যানগ্রোভ বন। মাইলের পর মাইল সবুজ বৃক্ষরাজি মনপুরা দ্বীপকে সবুজের সমারেহে সাজিয়েছে। মনপুরা দ্বীপটি প্রানী ও উদ্ভিদের বৈচিত্রে ভরপুর। পর্যটক বা ভ্রমন পিপাসু মানুষকে আটকে রাখার জন্য বহু ধরণের জাদু ছড়ানো আছে এ দ্বীপে।

মনপুরা দ্বীপ থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিরল সুযোগ রয়েছে। এছাড়া এই দ্বীপে আছে হরিণের অভয়াশ্রম, মনপুরা ল্যান্ডিং স্টেশন এবং চৌধুরী প্রজেক্ট। মেঘনা নদীর ৫০০ মিটার ভেতরে মনপুরা ল্যান্ডিং স্টেশনটি তৈরি করা হয়েছে ভ্রমণকারীদের সুবিধার জন্য। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্থানীয় মানুষজন ও পর্যটকরা এখানে সময় কাটাতে আসেন।


দ্বীপের হরিণের অভায়াশ্রমের হরিণগুলো জোয়ারের সময় প্রধান সড়কের খুব কাছে চলে আসে। মাঝে মাঝে হরিণ পালের রাস্তা পার হবার জন্য বাইক, গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া এই দ্বীপে চৌধুরী প্রজেক্ট নামে একটি মাছের ঘের আছে। বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত পুকুর ও লেকের পাড় জুড়ে সারি সারি নারিকেল গাছ একটা বিকেল কাটানোর জন্য বেশ মোহনীয়। সাইক্লিং এবং ক্যাম্পিং করার জন্য মনপুরা দ্বীপ একটি আদর্শ জায়গা। সাইকেল নিয়ে নদী এবং সবুজের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া রোমাঞ্চকর অনুভূতি সৃষ্টি করে।
মনপুরা দ্বীপের চারপাশ এ দ্বীপের মূল আকর্ষণ পয়েন্ট। কেউ যদি ভ্রমণের মন থাকে এবং কোনও দ্বীপের মোহনীয় দৃশ্য দেখতে চায় তবে মনপুরা দ্বীপ তার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করবে। অন্যদিকে, উপভোগ করার জন্য আরও কিছু আকর্ষণীয় স্পট রয়েছে। তন্মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে মনপুরা উপজেলার ৪ নং সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থিত ম্যানগ্রোভ বন এবং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ক্রসডেম এরিয়া।

ক্রসডেম এরিয়াটি উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে। এখানে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। একই সময়ে, যেকোন পর্যটক এই অঞ্চলে হরিণ দেখতে পাবেন। লোকেরা অবসর সময় কাটাতে এই ক্রসডেম এলাকায় আসে। স্থানীয় লোকেরা বিকেলে সময় কাটাতে এই অঞ্চলটিকে খুব পছন্দ করে। মনপুরা উপজেলা সদর থেকে চৌধুরী প্রজেক্ট- প্রকল্পটি ৭ কিলোমিটার দূরে। একজন পর্যটক রিকশা বা মোটরবাইক নিয়ে সহজেই সেখানে যেতে পারবেন। সবুজ পরিবেশ দেখার জন্য এটি দুর্দান্ত জায়গা। স্পষ্ট করে বলতে গেলে এটি মূলত ফিশারি পুকুর এবং হ্রদ। লেকের চারপাশে প্রায় দুই হাজার নারকেল গাছ রয়েছে।

অবশ্যই মনে রাখতে হবে, শীতের মৌসুমে দ্বীপটি অতিথি পাখির স্বর্গ। বাংলাদেশে শীত মৌসুমে প্রায় ৬৫০ প্রজাতির অতিথি পাখি আসে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বেশিরভাগ প্রজাতি ভোলা জেলা বা মনপুরায় পাওয়া যায়। প্রথম দেখাতে মনপুরা দ্বীপটি, দ্বীপের মতো মনে হবে না। কারণটি হল, দ্বীপটি বিভিন্ন ধরণের গাছ দ্বারা পূর্ণ। তবে সত্যিই, এটি কোনও শিল্পীর সুন্দর অঙ্কনের চেয়ে কম নয়।
৪ নং সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থিত ম্যানগ্রোভ বন, চর পাইয়াল এবং চর পাতালিয়ার খুব কাছে। এটি মনপুরা সদর উপজেলা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। এ বনটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিসটি হল যেকেউ এখানে নিরীহ হরিণ দেখতে পাবেন। এর জন্য সাকুসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে করালিয়া বাজারে যেতে হবে। সেখানে যেকেউ মায়াবী হরিণ দেখতে পারেন এবং এখানে কিছু আশ্চর্যজনক সময় পার করতে পারেন।
যেভাবে মনপুরা দ্বীপে যাওয়া যায়: এমভি ফারহান এবং এমভি তাশরিফ ব্যবহার করে রাজধানী শহর ঢাকা সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে মনপুরা যাওয়া যায়। এটি হাতিয়ার জন্য সদরঘাটের ৩ নং প্লাটুন থেকে যায়। এটি ঢাকা থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা থেকে ছয়টায় হাতিয়ার জন্য রওয়ানা হয়। এবং সকাল সাতটার মধ্যে মনপুরা গিয়ে পৌছায়। যার মানে ঢাকা থেকে যাত্রাটি সম্পন্ন করতে প্রায় বারো থেকে তেরো ঘন্টা সময় লাগে।
সাধারণত, ডেকের জন্য একজন পর্যটককে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা খরচ করতে হয়। এছাড়া পর্যটকরা ব্যক্তিগত কেবিন নিতে পারেন। একক কেবিনের জন্য প্রায় ১,২০০ টাকা খরচ করতে হয় এবং যুগ্ন বা ডাবল কেবিনের জন্য প্রায় ২,২০০ টাকা খরচ করতে হয়।

যুগ্ন বা ডাবল কেবিন 
ডেক
মনপুরা পৌছার পর একজন পর্যটককে মনপুরা ঘাট থেকে হাজির হাট বাজার যেতে হয় । মনপুরা ঘাট থেকে হাজির হাট বাজার যাবার জন্য প্রায় ৫০ টাকা খরচ হয়।

অন্যদিকে, ভোলা সদর হয়ে ঢাকা বা বরিশাল থেকেও মনপুরা যাওয়া যায়। ভোলার তজুমুদ্দিন উপজেলায় পৌছে সি ট্রাকে করে তজুমউদ্দিন ঘাট থেকে মনপুরা যাওয়া যায়। সি ট্রাকটি তজুমুদ্দিন ঘাট থেকে বিকেল তিনটায় মনপুর যায় এবং মনপুরা থেকে সকাল দশটায় ফিরে আসে। একইভাবে চর ফ্যাসন বেতুয়া লঞ্চ ঘাট থেকে দুটি লঞ্চ নিয়মিত মনপুরার জনতা বাজারে আসে।
মনপুরা দ্বীপের ভ্রমন সময় ও ভ্রমণ খরচ: বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হিসাবে আপনি যে কোন সময় মনপুরা যেতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মনপুরা দ্বীপে যাবার জন্য ব্যবহৃত নদীটি বিপদজনক স্থান হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে, তাই এই রুটে লঞ্চ ঐ সময় লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে।
মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণের জন্য যেখানে থাকবেন: মনপুরা দ্বীপে তিনটি ডাকবাংলো রয়েছে। যাদের নাম হাজিরহাটে অবস্থিত মনপুরা ডাকবাংলো, পানি উন্নয়ন বোর্ড ডাকবাংলো, কারিতাস ডাক বাংলো, প্রেসক্লাব গেস্ট হাউস, এবং চৌধুরী সাহেবের ডাকবাংলো।

সরকারী ডাকবাংলোতে থাকার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নিতে হয়। এই সরকারি ডাকবাংলোটিই মনপুরায় থাকার সবচেয়ে কম খরুচে। একই সাথে, ডাকবাংলো বা রেস্ট হাউজের বাকি অংশগুলি স্পটে পৌঁছানোর পরে যে কোনও সময় বুকিং করা যায়। সরকারি ডাকবাংলোতে এক রাত থাকার জন্য এটি ২০০ থেকে ৩০০টাকা খরচ করতে হয়।
হাজির বাজারে কিছু বেসরকারী হোটেলও পাওয়া যায়। একক / যুগ্ন রুমের জন্য প্রায় ১০০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ করতে হয়। কিছু হোটেলের নাম হলো, হোটেল দ্বীপ, সায়মা হোটেল এবং হানিফ আবাসিক হোটেল, রাহি মাহি আবাসিক হোটেল, হোটেল আরাফ অহি ইত্যাদি।
আবাসিক হোটেলসমূহের গুগোল ম্যাপ লোকেশন:
- হানিফ আবাসিক হোটেল :https://goo.gl/maps/Zkdj6sTWHnVU4tpz8
- হোটেল আরাফ অহি : https://goo.gl/maps/j9CdnWxApTKeqJdFA
- উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো, মনপুরা : https://goo.gl/maps/csKDYtWATihi5WRV6
মনপুরা দ্বীপের খাদ্য পরিষেবা: মনপুরা দ্বীপে শীতের মৌসুমে হাঁসের মাংস খুব জনপ্রিয় । একইভাবে, মনপুরার প্রতিটি হোটেলে সমুদ্রের মাছগুলি খুব পরিচিত। উদাহরণস্বরূপ, কোরাল, বোয়াল এবং গলদা চিংড়ি।

এ দ্বীপে ইলিশ মাছও খুব জনপ্রিয় । সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে একটি সম্পূর্ণ থালা খাওয়ার জন্য আপনার কেবল ৬০ থেকে ৭০ টাকা খরচ করতে হবে। নদী থেকে ধরে আনা টাটকা মাছ, বন থেকে ধরে আনা খাসি আর চরাঞ্চলে ঘুরে বেরানো মহিষের পাল (বাতান) থেকে সংগৃহিত কাঁচা দুধ, এই দুধের দই এবং মহিষের মাংসের স্বাদই আলাদা।
মনপুরা দ্বীপের বর্তমান ও ভবিষ্যত: ভোলা থেকে বিচ্ছিন্ন হবার কারণে মনপুরা দ্বীপটি খুবই অবহেলিত। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল হবার কারণে মনপুরা দ্বীপে খাওয়া এবং থাকার তেমন কোন ভালো হোটেল নেই। একটি অঞ্চলকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘরে তুলতে যে জিনিসটি সবচেয়ে জনপ্রিয় তা হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রত্যন্ত অঞ্চল হবার কারণে পর্যটকদের জন্য যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি অসুবিধা হয়। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তারা যদি এগিয়ে আসে,তাহলে মনপুরা দ্বীপকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র বানানো সম্ভব। আশা করি কোন একদিন আমাদের সেই স্বপ্নও পূরণ হবে।







