১. বাগেরহাটের স্থাপনসাল: বাগেরহাট জেলা ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ সালে স্থাপিত হয়েছিল। এ বাগেরহাট জেলাটি ১৮৪২ সালে খুলনা মহকুমার অন্তর্গত একটি থানা ছিলো । পরবর্তীতে ১৮৬৩ সালে যশোর জেলার অন্তর্গত একটি মহকুমা (উপজেলা) হয় । যার পরে ১৯৮৪ সালে বর্তমান পরিচিতি পায়।
To know about Top twelve interesting facts of Bagerhat in English click the link below:

২. যেভাবে বাগেরহাট নামটি এসেছে: বাগেরহাটের নাম কে বা কারা কীভবে দিয়েছিলেন তা যথেষ্ট গবেষণা সাপেক্ষ হলেও আজ তা নিরূপন করা দুঃসাধ্য। কারো কারো মতে বাগেরহাটের নিকটবর্তী সুন্দরবন থাকায় এলাকাটিতে বাঘের উপদ্রব ছিল, এ জন্য এ এলাকার নাম হয়ত ”বাঘেরহাট”হয়েছিল যা ক্রমান্বয়ে বাগেরহাট নামে রূপান্তরিত হয়েছে।

মতান্তরে হযরত খানজাহান (রঃ) এর প্রতিষ্ঠিত ”খলিফাত-ই-আবাদ”এর বিখ্যাত ‘‘বাগ’’ অর্থ বাগান, এ অঞ্চলে এতই সমৃদ্ধি লাভ করে যে, তা থেকেই হয়ে দাঁড়িয়েছে বাগের আবাদ বা বাগানের আবাদ তথা ‘‘ বাগেরহাট’’ ।

তবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতটি হচ্ছে শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদীর উত্তর দিকের হাড়িখালী থেকে বর্তমান নাগের বাজার পর্যন্ত যে লম্বা বাঁক অবস্থিত, পূর্বে সে বাঁকের পুরাতন বাজার এলাকায় একটি হাট বসতো। আর এ হাটের নামে এ স্থানটির নাম হয়েছিলো বাঁকেরহাট। কালক্রমে বাঁকেরহাট পরিবর্তিত হয়ে দাঁড়িয়েছে বাগেরহাট নামে।
৩. বাগেরহাটে প্রথম বসতি স্থাপন করে অনার্য শ্রেণীর মানুষ: বাগেরহাটে প্রথম বসতি স্থাপন করে অনার্য শ্রেণীর মানুষ। এদের মধ্যে রয়েছে ভূমধ্য সাগরীয় অঞ্চল হতে আসা অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় এবং মঙ্গোলীয় আলপাইন প্রভৃতি। এ অঞ্চলে অনার্য প্রভাবের বড় নিদর্শন হল পৌন্ড্রক্ষত্রিয় সম্প্রদায়। এ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে রামপাল উপজেলায় এ সম্প্রদায়ের লোক বেশি বাস করে।
৪. বাগেরহাটের আয়তন: বাগেরহাটর আয়তন ৩,৯৫৯.১১ বর্গকিমি বা ১,৫২৮.৬২ বর্গমাইল যা আয়তনে বাংলাদেশের ষষ্ঠ বৃহত্তম জেলা। যদি এটি একটি দেশ হতো তাহলে আকারে ১৬৬ তম হতো। যার মানে পৃথিবীর ২ ৮ টি স্বতন্ত্র দেশ রয়েছে যাদের আয়তন বাগেরহাটর থেকেও কম।

বাংলাদেশের মধ্যে বাগেরহাট জেলার অবস্থান 
খুলনা বিভাগ 
খুলনা বিভাগের মধ্যে বাগেরহাট জেলার অবস্থান
৫. বাগেরহাটের জনসংখ্যা: ২০১১ সালের আদমশুনারী অনুযায়ী বাগেরহাটে প্রায় ১.৪৭৬ মিলিয়ন বা ১৪ লাখ ৭৬ হাজার ৯০ জন লোক বসবাস করে যা বাগেরহাটকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের ৪৪ তম জেলা বানিয়েছে । পৃথিবীর ৪৪ টি স্বতন্ত্র দেশ রয়েছে যাদের জনসংখ্যা বাগেরহাটর চেয়েও কম। বাগেরহাটর প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৩৭৩ জন লোক বাস করে।
৬. বাগেরহাটের পুরুষ / মহিলা অনুপাত: বাগেরহাটর পুরুষ মহিলার অনুপাত ১.০০৫: ১ । ২০১১ সালের আদমশুনারী অনুযায়ী পুরুষ ৭,৪০,১৩৮ জন এবং মহিলা ৭,৩৫,৯৫২ জন।
৭. বাগেরহাট জেলার পূর্ব নাম: বাগেরহাট একটি দুর্দান্ত ঐতিহাসিক স্থান। বাগেরহাট শহর এর মসজিদগুলির জন্য বিখ্যাত। হযরত খান জাহান আলী এই শহরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি ছিলেন পনেরো শতাব্দীর এক মহান সাধক। তাঁর রাজত্বকালে বাগেরহাট সুন্দরবন বনের একটি অংশ ছিল। তিনি জঙ্গল পরিষ্কার করেই এ অঞ্চলটি বাসযোগ্য করে তোলেন এবং এর নাম রেখেছিলেন খলিফাবাদ।

৮. বাগেরহাটের উপজেলা, ইউনিয়ন এবং পৌরসভা সংখ্যা: বাগেরহাট জেলার ৯ টি উপজেলা, ৩টি পৌরসভা এবং ৭ ৭ টি ইউনিয়ন রয়েছে।

৯. বাগেরহাটের মংলা বন্দর: বাগেরহাট মংলা বন্দরের মূল কেন্দ্র যা চট্টগ্রামের পরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর ।
১০. বাগেরহাটের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব: বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী ড.নীলিমা ইব্রাহিম (১৯২১-২০০২)সবুজ জমিনের কবি ও মানবতার কবি মতিউর রহমান মল্লিক (১৯৫৪-২০১০), কবি ও গীতিকার রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (১৯৫৬-১৯৯১), বীর উত্তম লিয়াকত আলী খান, বীর প্রতীক মোহাম্মদ হোসেন (১৯৩০- ২০০৭) সহ প্রমূখ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির জন্ম বাগেরহাট জেলাতেই।

ড.নীলিমা ইব্রাহিম (১৯২১-২০০২) 
মতিউর রহমান মল্লিক (১৯৫৪-২০১০) 
বীর উত্তম লিয়াকত আলী খান 
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
১১. বাগেরহাটের জনপ্রিয় খাবার: বাগেরহাট জেলা চিংড়ি মাছ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও বাগেরহাটের জনপ্রিয় কিছু খাবার হচ্ছে চুঁইঝাল মাংসের চুঁইঝাল মশলা এবং সেমাই পিঠা। বাগেরহাটে যেকোন মেহমানকে বিরিয়ানী, মাংস-এর পরিবর্তে সেমাই পিঠা পরিবেশন করা হয়

চিংড়ি মাছ 
সেমাই পিঠা ও গোশত 
চুঁইঝাল মশলা

