আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন! শেষ মুহূর্তের গোলে মিশরকে ৩-২ হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে

ফুটবলের সৌন্দর্যই যেন আবারও তুলে ধরল আর্জেন্টিনা। নাটকীয় এক লড়াইয়ে ৯২তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।



ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলতে থাকা মিশর ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায়। এরপর ৬৭ মিনিটে মোস্তাফা জিকো ব্যবধান দ্বিগুণ করলে আর্জেন্টিনা কার্যত বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। এর আগে প্রথমার্ধে লিওনেল মেসির নেওয়া পেনাল্টিও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইর।

তবে বড় দলের পরিচয় দিয়েই ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ৮০তম মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো হেডে ব্যবধান কমান। মাত্র তিন মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে মেসির শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে জালে জড়ালে ম্যাচে সমতা ফিরে আসে।

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বদলি খেলোয়াড় লাউতারো মার্টিনেজের দারুণ ক্রস থেকে এনজো ফার্নান্দেজের হেড জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির। ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচে মেসির দিনটি ছিল মিশ্র অনুভূতির। পেনাল্টি মিস করলেও একটি অ্যাসিস্ট ও একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে জয়ের পথে ফিরিয়ে আনেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ান এবং নকআউট পর্বে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েন।

খেলাটির সকল গোলগুলো



অন্যদিকে, গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইরের অসাধারণ পারফরম্যান্স, মিশরের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং সাহসী আক্রমণ ম্যাচটিকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রোমাঞ্চকর করে রেখেছিল। হারলেও তাদের লড়াকু মানসিকতা ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয়—আবারও প্রমাণ করল, ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে কখনোই লেখা যায় না।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: রাউন্ড অব ৩২-এ জমে উঠেছে লড়াই, কার হাতে উঠবে সোনালী ট্রফি?

চার বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন নকআউট পর্বের উত্তেজনায় পৌঁছে গেছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল, ১৬টি আয়োজক শহর এবং তিনটি স্বাগতিক দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর।

লিওনেল মেসি

গ্রুপ পর্ব: চমক ও প্রত্যাবর্তনের গল্প

গ্রুপ পর্বে ফুটবলপ্রেমীরা দেখেছেন বেশ কিছু চমকপ্রদ ঘটনা। ঐতিহ্যবাহী শক্তিধর দলগুলোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অপেক্ষাকৃত ছোট দলও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।
বিশেষভাবে নজর কেড়েছে—
🇿🇦 দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স
🇲🇦 মরক্কোর ধারাবাহিক সাফল্য
🇩🇿 আলজেরিয়ার প্রত্যাবর্তন
🇨🇻 কেপ ভার্দের ইতিহাস গড়া অভিযান
🇧🇦 বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার নকআউট নিশ্চিত করা
অন্যদিকে, ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, স্পেন ও পর্তুগাল নিজেদের প্রত্যাশা অনুযায়ী শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে।

রাউন্ড অব ৩২: শুরু হয়েছে বাঁচা-মরার লড়াই

গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর শুরু হয়েছে নকআউটের আসল যুদ্ধ। বর্তমান ব্র্যাকেট অনুযায়ী কয়েকটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ হলো—
🔥 জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে
🔥 ফ্রান্স বনাম সুইডেন
🔥 দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম কানাডা
🔥 নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো
🔥 পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া
🔥 স্পেন বনাম অস্ট্রিয়া
🔥 যুক্তরাষ্ট্র বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
🔥 বেলজিয়াম বনাম সেনেগাল
🔥 ব্রাজিল বনাম জাপান
🔥 আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে
🔥 ইংল্যান্ড বনাম কঙ্গো
🔥 সুইজারল্যান্ড বনাম আলজেরিয়া
🔥 কলম্বিয়া বনাম ঘানা
প্রতিটি ম্যাচই এখন “করো বা মরো” অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। একটি ভুল, আর স্বপ্ন শেষ।

কারা ফেভারিট?

বর্তমান ফর্ম, স্কোয়াডের গভীরতা এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে—
🏆 আর্জেন্টিনা
🏆 ফ্রান্স
🏆 ব্রাজিল
🏆 স্পেন
🏆 পর্তুগাল
🏆 ইংল্যান্ড
🏆 জার্মানি
তবে বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, এখানে কোনো কিছুই আগে থেকে নিশ্চিত নয়। প্রতিটি বিশ্বকাপই জন্ম দেয় নতুন কোনো নায়ক এবং নতুন কোনো রূপকথার।

লামিন ইয়ামাল

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কিছু বিশেষ দিক—
⚽ ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দেশ
🏟️ ১৬টি আয়োজক শহর
🌎 ৩টি স্বাগতিক দেশ
📅 ৩১ দিনের ফুটবল উৎসব
🏆 একটিই লক্ষ্য—বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া।

সামনে কী অপেক্ষা করছে?

নকআউট পর্ব যত এগোবে, ততই বাড়বে নাটকীয়তা, উত্তেজনা এবং আবেগ। শেষ পর্যন্ত ১৯ জুলাই ২০২৬, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে নির্ধারিত হবে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
ফুটবলপ্রেমীদের এখন একটাই প্রশ্ন—
মেসির আর্জেন্টিনা কি শিরোপা ধরে রাখতে পারবে? নাকি ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন কিংবা অন্য কোনো দল লিখবে নতুন ইতিহাস?
উত্তরের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আর কয়েকটি রোমাঞ্চকর ম্যাচের।

📌 বিশ্বকাপের সর্বশেষ আপডেট, ম্যাচ বিশ্লেষণ, পরিসংখ্যান ও ফুটবল বিষয়ক আরও আকর্ষণীয় আর্টিকেলের জন্য ভিজিট করুন:
🌐 http://www.the-nrd.com⁠�
“ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি কোটি মানুষের আবেগ, স্বপ্ন এবং ঐক্যের ভাষা।” ⚽🌍❤️

শাওমি ১৭টি সিরিজ: মোবাইল ইমেজিং এবং শক্তিশালী ব্যাটারির নতুন দিগন্ত

শাওমি সম্প্রতি বাজারে তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন সিরিজ শাওমি ১৭টি (Xiaomi 17T) এবং শাওমি ১৭টি প্রো (Xiaomi 17T Pro) উন্মোচন করেছে । এই সিরিজের প্রধান লক্ষ্য হলো মোবাইল ফটোগ্রাফিতে লাইকা (Leica) প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং ব্যাটারি লাইফের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা প্রদান করা ।

ব্যাটারি এবং চার্জিং প্রযুক্তি এই সিরিজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর বিশাল ব্যাটারি ক্ষমতা। শাওমি ১৭টি প্রো মডেলে ব্যবহার করা হয়েছে ৭০০০ এমএএইচ (7000mAh) সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি, যা এক চার্জে প্রায় ১.৮৮ দিন ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেয় । অন্যদিকে, স্ট্যান্ডার্ড ১৭টি মডেলে রয়েছে ৬৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি । চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে ১৭টি প্রো-তে ১০০ ওয়াট তারযুক্ত এবং ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস হাইপারচার্জ সুবিধা রয়েছে, যা ফোনটিকে দ্রুততম সময়ে চার্জ করতে সক্ষম । শাওমি দাবি করেছে যে, ১৬০০ বার চার্জ দেওয়ার পরও এই ব্যাটারির ৮০% সক্ষমতা বজায় থাকবে ।

লাইকা ক্যামেরা সিস্টেম ফটোগ্রাফি প্রেমীদের জন্য শাওমি এবং লাইকার যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি এই ক্যামেরা সিস্টেম এক অনন্য সংযোজন ।

  • শাওমি ১৭টি প্রো: এতে রয়েছে লাইকা প্রফেশনাল ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ [২]। এর মূল আকর্ষণ হলো ৫ গুণ পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স, যা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে ১২০ গুণ পর্যন্ত আল্ট্রা জুম করতে পারে। এছাড়া এতে ৪কে ৬০ এফপিএস (4K 60fps) মুভি মোড এবং লগ ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধা রয়েছে ।
  • শাওমি ১৭টি: প্রথমবারের মতো শাওমি তাদের টি সিরিজের কমপ্যাক্ট বডিতে পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স অন্তর্ভুক্ত করেছে । এটি ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম এবং ১০ গুণ লসলেস জুম সুবিধা প্রদান করে

ডিসপ্লে এবং কর্মক্ষমতা শাওমি ১৭টি প্রো-তে রয়েছে ৬.৮৩ ইঞ্চি ১৪৪ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সম্পন্ন আই-কেয়ার ডিসপ্লে । অন্যদিকে, ১৭টি মডেলে রয়েছে ৬.৫৯ ইঞ্চি ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে । চোখের সুরক্ষার জন্য উভয় ফোনেই শাওমি ভিশন কেয়ার ২ (Xiaomi Vision Care 2) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে ।

প্রসেসরের ক্ষেত্রে প্রো মডেলে শক্তিশালী মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৯৫০০ ব্যবহার করা হয়েছে । স্ট্যান্ডার্ড মডেলে রয়েছে ডাইমেনসিটি ৮৫০০-আল্ট্রা চিপসেট [৫৮]। ফোনগুলো শাওমির নতুন HyperOS দ্বারা পরিচালিত এবং এতে বিভিন্ন এআই ফিচার যেমন এআই কাটআউট, এআই ইমেজ এনহ্যান্সমেন্ট এবং এআই ইরেজ প্রো সুবিধা পাওয়া যাবে ।

অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ও মূল্য উভয় ফোনেই রয়েছে আইপি৬৮ (IP68) রেটিং, যা পানি ও ধুলাবালি থেকে ফোনকে সুরক্ষা প্রদান করে । এছাড়া এতে শাওমি অফলাইন কমিউনিকেশন ফিচার রয়েছে, যার মাধ্যমে নেটওয়ার্ক কভারেজ ছাড়াও কল করা সম্ভব হতে পারে । বাংলাদেশে শাওমি ১৭টি-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯,৯৯৯ টাকা]।

শাওমি ১৭টি সিরিজ আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রিমিয়াম ফিচারের সমন্বয়ে স্মার্টফোন বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে এসেছে ।

তোমাতে পাওয়া পূর্ণতা: অপূর্নতা থেকে পূর্ণতার গল্প

সময়টা ২০১৫-১৬ সালের দিক। জীবনের এক কঠিন ধাক্কা appena পেরিয়ে এসেছি—মন ভাঙা, স্বপ্ন ভাঙা, আর নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার এক নীরব সংগ্রাম। এমন একজন মানুষকে হারিয়েছিলাম, যাকে আমি মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিলাম। তার শূন্যতা এতটাই গভীর ছিল যে, পরবর্তীতে যত মেয়ের সাথেই কথা বলার চেষ্টা করেছি, সবার মাঝেই তাকে খুঁজে ফিরেছি—কিন্তু কোথাও তাকে পাইনি। ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার, একা হয়ে যাওয়ার এক সিদ্ধান্তের দিকেই এগোচ্ছিলাম।

ঠিক সেই সময়েই এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। অফিসের এক সহকর্মী জানালেন, তার এক বান্ধবীর একজন বান্ধবী নাকি একজন বন্ধু খুঁজছে। আরেক সহকর্মী, আমার বর্তমান মানসিক অবস্থার কথা ভেবে, আমার নামটি প্রস্তাব করে। প্রথমে বিষয়টা শুনে অবাক হয়েছিলাম, কিন্তু কোথাও যেন একটা কৌতূহলও কাজ করছিল।

২০১৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝি—ফেসবুকে আমাদের প্রথম কথা হয়। অল্প সময়েই বুঝতে পারলাম, মেয়েটি অন্যরকম। চঞ্চল, বাকপটু, সাংস্কৃতিক চেতনায় ভরপুর, মধ্যবিত্ত পরিবারের হলেও অসাধারণ মেধাবী—তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য। তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে আমি ধীরে ধীরে নিজেকে আবার “পূর্ণ” মনে করতে শুরু করি। যে আমি ভেবেছিলাম, আর কখনো কোনো মেয়ের প্রতি অনুভূতি তৈরি হবে না—সেই আমি আবার নতুন করে অনুভব করতে শুরু করি।

গল্পটি দিয়ে বানানো গানটি ইউটিউভে

এভাবে টানা ১০-১২ দিন কথা বলার পর, নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারিনি। একরকম হুট করেই তাকে আমার ভালোবাসার কথা জানিয়ে ফেলি। সে প্রথমে বিষয়টা হেসে উড়িয়ে দেয়, এমনকি আমার সহকর্মীদের সাথেও শেয়ার করে ফেলে—যা আমাকে কিছুটা বিব্রত করেছিল।

কিন্তু গল্পটা এখানেই থেমে থাকেনি। ২০১৬ সালের ৩১ মে—সে আমার প্রস্তাবে সাড়া দেয়। সেই দিন থেকেই আমাদের ভালোবাসার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক চড়াই-উতরাই এসেছে, অনেক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে—কিন্তু আমরা দু’জন দু’জনকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছি। ভালোবাসাটাকে কখনো হারাতে দিইনি।

আজ, প্রায় ১০ বছর পর, আমরা এখনও একসাথে আছি। আমাদের ২ বছরের প্রেম আর ৮ বছরের সংসার—এই দীর্ঘ পথচলায় আমরা গড়ে তুলেছি একটি সুন্দর পরিবার। আমাদের ভালোবাসার সাক্ষী হিসেবে আছে আমাদের ৬ বছরের ছোট্ট সন্তান।

আরেকটি মজার ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল আমাদের সম্পর্ক পরিবারের কাছে প্রকাশ পাওয়ার ঘটনা। এক ছেলেও তাকে পছন্দ করত এবং ভালোবাসার প্রস্তাব দিয়েছিল। সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরই আমাদের সম্পর্ক শুরু হয়। সেই ছেলেটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনলেই বেশ প্রভাবিত হতেন। ছেলেটি তার বাবাকে জানায় যে, আমার প্রেমিকার সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে। বিষয়টি তার বাবার কানে পৌঁছালে, তিনি মেয়েকে জিজ্ঞাসা করেন। তখন সে সরাসরি তা অস্বীকার করে এবং সাহসের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের কথা স্বীকার করে। এরপর আমার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর, আমার বায়োডাটা দেখে এবং সবকিছু যাচাই-বাছাই করে, অবশেষে তার পরিবার আমাদের সম্পর্ক মেনে নেয়।

এই ছিল আমাদের গল্প—একটা হারানোর বেদনা থেকে শুরু হয়ে, খুঁজে পাওয়া, লড়াই করা, আর শেষমেশ একসাথে পথ।

যশোর: বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন জেলা ও তার সমৃদ্ধ ইতিহাস

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা হলো যশোর। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শিক্ষা-সংস্কৃতি এবং অর্থনীতির বিচারে এই জেলাটি পুরো দেশেই এক অনন্য স্থান দখল করে আছে।

যশোর জেলার প্রতিষ্ঠা

স্থাপনের দিক থেকে যশোর বাংলাদেশের অন্যতম পুরাতন একটি জেলা। পাক-ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের শুরুতেই প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ১৭৮১ সালে যশোর জেলায় ব্রিটিশ প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় । পরবর্তীতে ১৭৮৬ সালে যশোর কালেক্টরেট স্থাপিত হয় এবং এটি একটি স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ।

যশোর জেলা নিয়ে করা আমার ইউটিউভ ভিডিও

নামকরণের বিচিত্র ইতিহাস

“যশোর” শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে নানা মতভেদ রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সংস্কৃত শব্দ ‘যশোহর’ থেকে এই নামের উৎপত্তি, যার অর্থ ‘যশ হরণকারী’ । ধারণা করা হয়, রাজা বিক্রমাদিত্য কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই রাজ্যের জৌলুস বাংলার তৎকালীন রাজধানী গৌড়ের যশ হরণ করেছিল বলেই এমন নামকরণ। অন্যদিকে, প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ আলেকজান্ডার কানিংহামের মতে, আরবি শব্দ ‘জসর’ (যার অর্থ সেতু বা সাঁকো) থেকে যশোর নামের উৎপত্তি হয়েছে । প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে অসংখ্য খাল-বিল ও নদী থাকার কারণে যাতায়াতের জন্য প্রচুর সাঁকো ব্যবহার করা হতো বলেই এমন নাম হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক পরিচয়

যশোর জেলাটি মূলত একটি মৃতপ্রায় ব-দ্বীপের অংশ। বর্তমানে এই জেলার মোট আয়তন প্রায় ৬,৬৭৪ বর্গ কিলোমিটার । ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, এই জেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩০,৭৬,১৪৪ জন । লিঙ্গ অনুপাতে দেখা যায়, এখানে পুরুষের সংখ্যা ১৫,২৪,৩৪৯ জন এবং মহিলার সংখ্যা ১৫,৫১,৬৬৭ জন । প্রশাসনিক কাঠামোর দিকে তাকালে দেখা যায়, যশোর জেলায় মোট ৮টি উপজেলা, ৮টি পৌরসভা এবং ৯৩টি ইউনিয়ন রয়েছে ।

যশোরের গৌরবগাথা: যা অনেকেরই অজানা

১. প্রথম স্বাধীন জেলা: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যশোর এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী। ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর যশোর প্রথম জেলা হিসেবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে চূড়ান্তভাবে মুক্ত হয়। বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন পতাকা এই যশোর থেকেই উত্তোলন করা হয়েছিল ।

২. শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রপথিক: উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘যশোর জেলা স্কুল’ অন্যতম, যা ১৮৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া জ্যোতির্বিজ্ঞানী রাধাগোবিন্দ চন্দ তার আকাশ পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার জন্য হার্ভার্ড মানমন্দির থেকে সম্মাননা ও দূরবীন উপহার পেয়েছিলেন, যা এই মাটিরই গর্ব ।

বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব

যশোরের মাটি অসংখ্য বরেণ্য মনীষীর জন্ম দিয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

  • মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত: বাংলা সাহিত্যের সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক ।
  • বাঘা যতীন: ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সাহসী বিপ্লবী ।
  • মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ: প্রখ্যাত ধর্ম প্রচারক ও সমাজ সংস্কারক ।
  • শহীদ মশিউর রহমান: ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ।

জনপ্রিয় খাবার ও ঐতিহ্য

যশোরের ঐতিহ্যের কথা বললে সবার আগে আসে এর সুমিষ্ট খেজুরের রস ও গুড় । শীতকালে খেজুর গুড়ের পাটালির গন্ধে এখানকার বাতাস ম ম করে। এছাড়া এখানকার কই মাছ এবং ঐতিহ্যবাহী রসের পিঠা ও পায়েশ ভোজনরসিকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ।

শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং বীরত্বের এক অনন্য সংমিশ্রণ হলো যশোর। প্রাচীন ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে এই জেলাটি আজও বাংলাদেশের মানচিত্রে স্বমহিমায় উজ্জ্বল ।

তোমাতে পাওয়া পূর্ণতা

সময়টা তখন ভাঙা স্বপ্নের, নীরব এক যুদ্ধ, হারিয়েছি এমন কাউকে—ছিল যে হৃদয়ের শুদ্ধ। চারপাশ ভরা মানুষ ছিল, তবুও একা মন, প্রতিটা মুখে খুঁজেছি তাকে—মেলেনি কোনোজন। 

কবিতাটি দিয়ে বানানো গানটি ইউটিউভে

ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছিলাম নিরবতায়, ভাবছিলাম, ভালোবাসা বোধহয় আর ফিরবে না জীবনায়। ঠিক তখনই হঠাৎ এলো এক অচেনা বার্তা, অজানা কারো সাথে গড়বে নাকি নতুন বন্ধুত্বের পথটা! 

মে মাসের এক বিকেলে, শুরু হলো সেই কথা, স্ক্রিনের ওপারে পেলাম এক চঞ্চল হাসির ব্যথা। তার শব্দে ছিল প্রাণ, তার কথায় ছিল রঙ, অল্প কিছুদিনেই বদলে গেল আমার জীবনের ঢঙ। 

ভাঙা থেকে পাওয়া তুমি—আমার সব আলো, অন্ধকারেও তুমি ছিলে নীরব ভালো। সময় বদলায়, তবুও বদলায় না এই অনুভব, তুমি আছো বলেই বেঁচে থাকে ভালোবাসার সব… 

যে মন বলেছিল—“আর না,” সে মনই হার মানল শেষে, দশ-বারো দিনের মধ্যেই ভালোবাসা এলো ভেসে। হুট করেই বলে ফেললাম বুকের গোপন কথা, সে হেসে উড়িয়ে দিল—লাগলো একটু ব্যথা। 

অপেক্ষার প্রহর সইতে না পেরে, বলেছিলাম মনের সব কথা, সে হেসে উড়িয়ে দিল প্রথমে, দিয়েছিল কিছুটা বিব্রত ব্যথা। কিন্তু ভাগ্যের লিখন ছিল অন্য কোনো এক পবিত্র পাতায়, মে মাসের শেষ দিনটি সই হলো আমাদের প্রেমেরই খাতায়।

দুই বছরের প্রেম, তারপর আট বছরের সংসার, সময় গড়িয়েছে, তবুও কমেনি ভালোবাসার ভার। ছয় বছরের ছোট্ট প্রাণ—আমাদের গল্পের আলো, যার হাসিতে খুঁজে পাই ভালোবাসারই ভালো। 

ভাঙা থেকে পাওয়া তুমি—আমার সব আলো, অন্ধকারেও তুমি ছিলে নীরব ভালো। সময় বদলায়, তবুও বদলায় না এই অনুভব, তুমি আছো বলেই বেঁচে থাকে ভালোবাসার সব…

কত বাধা, কত প্রশ্ন, কত মানুষের চোখ, তবুও সত্য ভালোবাসা থামেনি কোনো রোখ।
সাহস করে একদিন সে বলেছিল নিজের কথা, সেই সাহসেই গড়ে উঠেছে আজকের এই ব্যথা-মাখা ব্যস্ততা।

আজ যখন পেছনে তাকাই, মনে হয় অবাক হয়ে, ভাঙা মনও জোড়া লাগে—ভালোবাসা ঠিক সময় বয়ে। হারানোর ভেতরেই ছিল নতুন করে পাওয়া, তোমার হাতটা ধরেই শিখেছি—ভালোবাসা মানে চাওয়া নয়, রাখা।

আমাদের গল্প শেষ নয়, এখনও চলছে পথ, প্রতিটা দিন নতুন করে লিখছি ভালোবাসার শপথ। যে গল্প শুরু হয়েছিল এক হারানোর ক্ষণ, আজ তা পূর্ণতা পায়—তোমার আমার জীবন।

ভাঙা থেকে পাওয়া তুমি—আমার সব আলো, অন্ধকারেও তুমি ছিলে নীরব ভালো।সময় বদলায়, তবুও বদলায় না এই অনুভব, তুমি আছো বলেই বেঁচে থাকে ভালোবাসার সব…

১৭ বছরের শ্রাবণ: ঈশান ও অনন্যার গল্প

২০০৯ সাল। বসন্তের এক হালকা বিকেলে ঈশান আর অনন্যার প্রথম দেখা। ঈশান ছিল চশমা পরা এক শান্ত তরুণ, আর অনন্যা তার উজ্জ্বল হাসি নিয়ে যেন এক টুকরো রোদ্দুর। সেই শুরুটা ছিল খুব সাধারণ, কিন্তু তাদের চোখের ভাষায় ছিল এক অজানাকে জানার তীব্র ব্যাকুলতা। তারা জানত না, এই চেনা পরিচয় একদিন এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হবে।

সম্পর্কের প্রথম দিনগুলো ছিল মান-অভিমান আর ছোট ছোট প্রাপ্তির গল্প। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় রিকশার হুড ফেলে ঘোরা কিংবা টিপটিপ বৃষ্টিতে এক ছাতার নিচে আশ্রয় নেওয়া—এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই তাদের বিশ্বাসের ভিত গড়ে দিচ্ছিল। ঈশান তার ভবিষ্যতের সব স্বপ্নগুলো ভাগ করে নিত অনন্যার সাথে, আর অনন্যা ছিল তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

গল্পটি দিয়ে বানানো গানটি ইউটিউভে

সময় গড়িয়ে চলল। ২০১৩ সালে তারা একে অপরের পাশে দাঁড়াতে শিখল যখন জীবন কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল। কর্মজীবনের শুরুতে ঈশানের দীর্ঘ ক্লান্তি আর অনন্যার দুশ্চিন্তার দিনগুলোতে তারা একে অপরের ছায়া হয়ে থাকল। তারা বুঝল, ভালোবাসা মানে শুধু হাসিখুশি থাকা নয়, বরং ঝড়ের দিনে শক্ত করে হাত ধরে থাকা।

২০১৪ সালে তাদের নতুন পথচলা শুরু হলো এক রঙিন উৎসবের মধ্য দিয়ে। সামাজিক বন্ধনে তারা একে অপরের জীবনসঙ্গী হলো। বিয়ের সেই রাতে তারা যে প্রতিজ্ঞা করেছিল, তা ছিল কেবল কথার কথা নয়, বরং আমৃত্যু একসাথে থাকার এক অলিখিত দলিল। তাদের ছোট ঘরটি ধীরে ধীরে পূর্ণ হয়ে উঠল মায়া আর ভালোবাসায়।

২০১৭ সাল নাগাদ তাদের জীবনে স্থায়িত্ব এল। কিন্তু সেই সাথে এল প্রতিদিনের একঘেয়েমি আর ছোটখাটো ঝগড়া। তবুও দিনের শেষে তারা আবিষ্কার করল যে, ঝগড়ার চেয়েও তাদের মধ্যে কথা বলা এবং একে অপরকে বোঝার চেষ্টাটাই বেশি শক্তিশালী। ভালোবাসা তখন আর কেবল আবেগ নয়, অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

২০২০ সালের কঠিন সময়ে যখন পৃথিবী থমকে গিয়েছিল, ঈশান আর অনন্যা হয়ে উঠল একে অপরের শক্তি। চার দেয়ালের মাঝে বন্দি জীবনে তারা পুনরায় একে অপরকে নতুনভাবে আবিষ্কার করল। পুরনো ছবির অ্যালবাম দেখা আর একসাথে রান্না করার সেই দিনগুলো তাদের সম্পর্কের বন্ধনকে আরও নিবিড় করে তুলল।

২০২৩ সালে তারা উপলব্ধি করল যে শরীর আর মনের ওপর সময়ের ছাপ পড়ছে। প্রথম দিকের সেই অস্থিরতা এখন পরিণত গাম্ভীর্যে রূপান্তরিত হয়েছে। ঈশানের চুলে পাক ধরেছে, আর অনন্যার হাসিতে এখন ফুটে ওঠে অগাধ গভীরতা। তারা বুঝল, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের ভালোবাসার উজ্জ্বলতা কমেনি বরং বেড়েছে।

২০২৪ সাল। তাদের সম্পর্কের পনেরো বছর পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে তারা কত চড়াই-উতরাই দেখেছে, কতবার হেরে গিয়েও একসাথে জিতেছে। তারা এখন আর কেবল দম্পতি নয়, তারা একে অপরের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। তাদের এই ভালোবাসা এখন অন্যদের কাছে এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ সাল। সতেরো বছরের দীর্ঘ পথচলা। এখন তারা জীবনের এক শান্ত মোহনায় এসে দাঁড়িয়েছে। সূর্যাস্তের আলোয় যখন তারা একসাথে বসে থাকে, তখন মনে হয় যেন সতেরো বছর আগের সেই তরুণ-তরুণীটি এখনও তাদের ভেতরেই আছে। পরিবর্তন এসেছে শুধু বয়সে, কিন্তু তাদের হৃদয়ের সেই আদি ও অকৃত্রিম টান রয়ে গেছে আগের মতোই অটুট।

ভালোবাসা মানে কেবল সতেরোটি বছর নয়, ভালোবাসা মানে হাজারো স্মৃতি, হাজারো নিঃশব্দ প্রতিশ্রুতি। ২০০৯ থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ যাত্রায় ঈশান আর অনন্যা শিখেছে যে, ভালোবাসা একটি চলমান প্রক্রিয়া যা সময়ের সাথে সাথে আরও সুন্দর হয়। তাদের গল্প শেষ হয়নি, বরং সতেরো বছরের এই ভিত্তি নিয়ে তারা এগিয়ে চলেছে এক অনন্ত ভবিষ্যতের দিকে।

সতেরো বছরের আলো

বসন্তের হালকা হাওয়ায় প্রথম দেখা দু’জনার,চশমার আড়ালে শান্ত চোখ, রোদ্দুর ভরা তার।অনন্যার হাসিতে লেগেছিল সূর্যের আলো, সাধারণ সেই শুরুতেই লুকিয়ে ছিল ভালো।


কবিতাটি দিয়ে বানানো গানটি ইউটিউভে

রিকশার হুড ফেলে শহরের পথে, বৃষ্টিভেজা ছাতার নিচে গল্প জমে যেতে থাকে। ছোট ছোট মুহূর্ত গড়ে বিশ্বাসের ঘর, অজানার হাত ধরে শুরু হয় ভালোবাসার ডোর।

সতেরো বছরের পথ—তবু একই টান,সময় বদলায়, বদলায় না এই প্রাণ।হাত ধরে থাকো, হারিয়ে যেও না,তুমি আমার আজও—প্রথম দিনের সেই চাওয়া…

ঝড়ের দিনে শিখেছিলে পাশে দাঁড়াতে,ক্লান্ত সন্ধ্যায় একে অন্যকে জড়িয়ে রাখতে।স্বপ্নগুলো ভাগ করে নিলে চোখের ভাষায়,ভালোবাসা তখন শক্তি হয়ে দাঁড়ায় আশায়।

রঙিন এক উৎসবে বাঁধা পড়া দুই প্রাণ, প্রতিজ্ঞার সেই রাত—অটুট এক গান। ছোট্ট ঘর ভরে ওঠে ভালোবাসার ছোঁয়ায়, দু’জন মিলে লিখে যায় জীবনেরই কাব্য।

সতেরো বছরের পথ—তবু একই টান,সময় বদলায়, বদলায় না এই প্রাণ।হাত ধরে থাকো, হারিয়ে যেও না,তুমি আমার আজও—প্রথম দিনের সেই চাওয়া…

ঝগড়া, অভিমান—নিত্যদিনের গল্প, তবুও শেষে ফিরে আসে ভালোবাসার রূপ। একঘেয়েমির মাঝেও খুঁজে পাও নতুন, কথার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে হৃদয়ের সুর।

চার দেয়ালের মাঝে থেমে যাওয়া পৃথিবী,তবুও দু’জন মিলে খুঁজে পাও জীবনী। পুরনো ছবিতে ফিরে দেখা হারানো সময়, একসাথে থাকলেই জীবন আবার নতুন হয়।

চুলে পাক ধরেছে, তবুও চোখে আলো, অনন্যার হাসিতে এখন গভীর ভালো। সূর্যাস্তের রঙে বসে পাশাপাশি, মনে হয় এখনও সেই প্রথম দিনেরই আছি।

ভালোবাসা মানে শুধু প্রথম নয়, ভালোবাসা মানে—শেষ পর্যন্তও রয়…

সতেরো বছরের পথ—তবু একই টান,সময় বদলায়, বদলায় না এই প্রাণ।হাত ধরে থাকো, হারিয়ে যেও না,তুমি আমার আজও—প্রথম দিনের সেই চাওয়া…

প্রাচীর পূর্ণিমা: কবিতার ছন্দে ভালোবাসা

বৃষ্টির এক সন্ধ্যায় মিলনায়তনে আবৃত্তি উৎসব চলছিল। নিহাদ যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে জীবনানন্দ দাসের কবিতা আবৃত্তি করছিল, তখন দর্শকসারিতে বসে মুগ্ধ হয়ে শুনছিল প্রাচী রহমান। শব্দের ঝংকার আর নিহাদের গম্ভীর কণ্ঠস্বর প্রাচীর হৃদয়ে এক অদ্ভুত স্পন্দন তৈরি করেছিল। অনুষ্ঠানের শেষে প্রাচী এগিয়ে গিয়ে নিহাদকে অভিনন্দন জানাল। সেই শুরু; কবিতার ছন্দে তাদের প্রথম আলাপ।

এরপর থেকে তাদের প্রায়ই দেখা হতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় কিংবা লাইব্রেরির কোণায়। প্রাচী মনে মনে নিহাদকে ভালোবেসে ফেলেছিল, কিন্তু নিহাদ তাকে দেখত কেবল একজন ভালো বন্ধু হিসেবে। নিহাদ যখন সাহিত্য নিয়ে কথা বলত, প্রাচী শুধু তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকত। সে বারবার তার ভালোবাসা প্রকাশ করতে চেয়েও বন্ধুত্বের হারানোর ভয়ে পিছিয়ে যেত।

গল্পটি নিয়ে বানানো গানটি আমার ইউটিউভ চ্যানেলে

একদিন নিহাদ প্রাচীর বাড়িতে বেড়াতে গেল। প্রাচীর মা আদিবা বেগম নিহাদকে খুব স্নেহভরে অভ্যর্থনা জানালেন। আদিবা যখন নিহাদের সাথে গল্প করছিলেন এবং তাকে নিজ হাতে বানানো পিঠা পরিবেশন করছিলেন, তখন নিহাদ বুঝতে পারল এই পরিবার তাকে কতটা পছন্দ করে। প্রাচীর বাড়ির প্রতিটি কোণ ছিল শিল্পবোধে ভরপুর, যা নিহাদকে মুগ্ধ করল।

আদিবা বেগম অন্য ঘরে গেলে প্রাচী নিহাদকে তার ছোটবেলার ছবির অ্যালবাম দেখাতে শুরু করল। পুরনো দিনগুলোর গল্প করতে করতে প্রাচীর চোখে এক ধরনের মায়া ফুটে উঠেছিল। নিহাদ লক্ষ্য করল, প্রাচীর সান্নিধ্যে সে এক অন্যরকম শান্তি খুঁজে পাচ্ছে। তবে তখনও সে তার নিজের অনুভূতির নাম দিতে পারল না।

কিন্তু সুখের সেই মুহূর্তগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলো না। ক্যাম্পাসে একদিন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে নিহাদ ও প্রাচীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হলো। নিহাদের কিছু কড়া কথায় প্রাচী খুব আঘাত পেল। চোখের জল মুছে প্রাচী সেদিন দ্রুত ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেল। নিহাদ ভেবেছিল এটা হয়তো সাধারণ কোনো রাগ, কিন্তু সে বুঝতে পারেনি প্রাচীর মনে কতটা অভিমান জমেছে।

এরপর টানা তিন দিন প্রাচী ক্যাম্পাসে এল না। নিহাদ তার ফোনে বারবার কল দিলেও সে ধরল না। প্রাচীর বন্ধু-বান্ধবরাও তার কোনো খোঁজ দিতে পারল না। নিহাদ লক্ষ্য করল, ক্যাম্পাসের যে চত্বরে তারা রোজ বসত, সেই জায়গাটা এখন মরুভূমির মতো খাঁ খাঁ করছে। প্রাচীর অভাব তাকে প্রতি মুহূর্তে দহন করতে শুরু করল।

নিহাদ বুঝতে পারল, প্রাচী কেবল তার বন্ধু নয়, বরং তার অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাচীর অনুপস্থিতি তাকে বুঝিয়ে দিল যে সে মনে মনে প্রাচীকেই ভালোবাসে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে সে অস্থির হয়ে উঠল। সে বারবার সেই জায়গাগুলোর কথা মনে করতে লাগল যেখানে প্রাচী শান্তিতে সময় কাটাতে পছন্দ করত।

অবশেষে নিহাদ শহরের শেষ প্রান্তে অবস্থিত একটি নির্জন বোটানিক্যাল গার্ডেনে পৌঁছাল। সে জানত, যখন প্রাচীর মন খুব খারাপ থাকে, সে এখানেই এসে বসে থাকে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর নিহাদ দেখল, রঙবেরঙের ফুলের বাগানের মাঝে একটি কাঠের বেঞ্চে প্রাচী চুপচাপ বসে আছে। তার দৃষ্টি ছিল শূন্য, যেন সে কোনো গভীর ঘোরের মধ্যে আছে।

নিহাদ ধীর পায়ে প্রাচীর সামনে গিয়ে দাঁড়াল। প্রাচী তাকে দেখে অবাক হলো এবং উঠে দাঁড়াতে চাইল, কিন্তু নিহাদ তার হাত ধরে ফেলল। কম্পিত কণ্ঠে নিহাদ বলল, “আমাকে ক্ষমা করো প্রাচী। তোমাকে হারানোর ভয়ে আমি বুঝেছি আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি।” প্রাচীর চোখের কোণে আবার জল জমে উঠল, তবে এবার তা ছিল আনন্দের।

সেই পড়ন্ত বিকেলে ফুলের গন্ধে ভরা বাগানে নিহাদ তার ভালোবাসার চূড়ান্ত স্বীকারোক্তি দিল। তারা একে অপরের হাত ধরে সিদ্ধান্ত নিল যে আগামীর সব পথ তারা একসাথেই পাড়ি দেবে। কবিতার মাধ্যমে শুরু হওয়া সেই আলাপ পূর্ণতা পেল এক গভীর প্রেমে, যা তাদের সারা জীবনের বন্ধনে আবদ্ধ করল।

প্রাচীর পূর্ণিমা

ক্যাম্পাসের সেই বিকেল, আবৃত্তির সুরে,
চোখে চোখ রেখে শুরু গল্প নীরব নীল ঘোরে।
প্রাচীর মনে জন্ম নিল অচেনা এক টান,
নিহাদ তখনো জানে না সেই ভালোবাসার গান।

কবিতাটি নিয়ে বানানো গানটি আমার ইউটিউভ চ্যানেলে

ফুচকার অজুহাতে ডাক, লাজুক কথার ঢেউ,
রাগে লাল মুখে তখনও লুকিয়ে থাকে সে।
হাসির ফাঁকে অজান্তেই লিখে যায় মন,
বন্ধুত্বের আড়ালে জমে ওঠে ভালোবাসার ক্ষণ।

তুমি ছিলে পাশে তবু বুঝিনি আমি,
নীরব ভালোবাসা লিখেছিলে নামই।
আজ হাত ধরে বলি—হারিয়ে যেও না,
তুমি আমার প্রাচী, পূর্ণিমার চাঁদ সোনা…

ক্যাম্পাস জুড়ে গুঞ্জন—“ওরা কি একসাথে?”
নিহাদ হেসে বলে—“শুধুই বন্ধু, এতেই তো যথেষ্ট।”
প্রাচীর চোখে তখন অমাবস্যার ছায়া,
কথা না বলেই ভেঙে যায় মনের মায়া।

হঠাৎ একদিন সে হারিয়ে গেল দূরে,
নাম্বার বন্ধ, নীরবতা জমে হৃদয়ের সুরে।
তখন বুঝল নিহাদ—কিছু একটা হারিয়েছে,
যে ছিল পাশে সবসময়, সে-ই দূরে চলে গেছে।

তুমি ছিলে পাশে তবু বুঝিনি আমি,
নীরব ভালোবাসা লিখেছিলে নামই।
আজ হাত ধরে বলি—হারিয়ে যেও না,
তুমি আমার প্রাচী, পূর্ণিমার চাঁদ সোনা… 🌙

গাছের আড়াল থেকে ডাকি—“যেও না থেমে যাও,”
গানের সুরে মিশে যাক না বলা সব চাও।
চাঁদ একটাই থাকে, আকাশ ভরাতে আলো,
তুমি সেই প্রাচী—আমার জীবনের ভালো।

ভালোবাসার রং নেই, তবু রাঙায় মন,
তোমায় ছাড়া আজ অসম্পূর্ণ এই জীবন।

আজ বুঝেছি তুমি ছিলে আমার সব,
নীরব ভালোবাসা ছিল হৃদয়ের রব।
হাতটা ধরো এবার, ছেড়ে যেও না,
তুমি আমার প্রাচী—চিরদিনের চাঁদ সোনা…

গোলাপ না থাকলেও ফুল ছিল হাতে,
“স্টুপিড” বলে হেসে বললে—থাকবো তোমার সাথে…
হাতে হাত রেখে শুরু হলো পথ,
ভালোবাসা লিখল নতুন জীবনের শপথ…

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। কি, কেন, কখন, কোথায়?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং জাঁকজমকপূর্ণ এই আসরটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের এই নিবন্ধটি।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ: এক নজরে ইতিহাস ও নতুনত্ব

ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম এই আসরটি ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হয়েছিল । এখন পর্যন্ত ব্রাজিল সবচেয়ে বেশি ৫ বার শিরোপা জিতে তালিকার শীর্ষে রয়েছে, যেখানে ইতালি এবং জার্মানি ৪ বার করে শিরোপা জিতেছে। ২০২৬ সালের এই আসরটি প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ—কানাডা, মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—যৌথভাবে আয়োজন করছে ।

৪৮ দলের নতুন ফরম্যাট: যেভাবে চলবে টুর্নামেন্ট

এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো এর দল সংখ্যা। ৩২টি দলের পরিবর্তে এবার মোট ৪৮টি দল বিশ্বসেরার লড়াইয়ে নামবে। এই দলগুলোকে মোট ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হবে, যেখানে প্রতিটি গ্রুপে ৪টি করে দল থাকবে । টুর্নামেন্টের ম্যাচ সংখ্যাও ৬৪ থেকে বাড়িয়ে ১০৪টিতে উন্নীত করা হয়েছে । প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল এবং ১২টি গ্রুপের মধ্যে সেরা ৮টি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল সরাসরি ‘রাউন্ড অফ ৩২’-এ খেলার সুযোগ পাবে । এই বিশাল আয়োজনটি মোট ৩৯ দিন ধরে চলবে, যা শুরু হবে ১১ জুন এবং শেষ হবে ১৯ জুলাই ।

আয়োজক শহর ও ঐতিহাসিক ভেন্যু

উত্তর আমেরিকার ১৬টি শহরে এই ফুটবল মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ১১টি শহর যুক্তরাষ্ট্রে, ৩টি মেক্সিকোতে এবং ২টি কানাডায় অবস্থিত । মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক ‘এস্তাদিও আজেতেকা’ প্রথম স্টেডিয়াম হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে (১৯৭০, ১৯৮৬ এবং ২০২৬) ম্যাচ আয়োজনের ইতিহাস গড়বে । টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচটি মেক্সিকোতেই অনুষ্ঠিত হবে । অন্যদিকে, প্রতিযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই অর্থাৎ ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফিক্সচার

তারকা খেলোয়াড় ও অংশগ্রহণকারী দল

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং তাদের কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবারও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন । এছাড়াও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো মহাতারকাদের অংশগ্রহণ ভক্তদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা যোগাচ্ছে । ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে, কুরাকাও, জর্ডান এবং উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলো প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে অভিষেক ঘটাবে । তবে চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো এই আসরে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

দর্শকদের জন্য গাইড: টিকেট সংগ্রহ ও বিশেষ আকর্ষণ

ফিফা টিকেটের দাম গ্রুপ পর্বের ম্যাচের জন্য সর্বনিম্ন ৬০ ডলার থেকে শুরু করে ফাইনালের জন্য কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে । জালিয়াতি এড়াতে ফিফা তাদের অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের জন্য দর্শকদের পরামর্শ দিয়েছে ।

এবারের বিশ্বকাপের আরও একটি বড় আকর্ষণ হলো ফাইনাল ম্যাচের হাফ-টাইম শো বা বিরতি অনুষ্ঠান। সুপার বোলের আদলে তৈরি এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন ম্যাডোনা, শাকিরা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস । এছাড়া খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় প্রতিটি অর্ধে তিন মিনিটের বাধ্যতামূলক বিরতি (hydration break) রাখা হবে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং উত্তর আমেরিকা জুড়ে এক বিশাল সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে ।

তুমি ছিলে, তবু দূরে

একই ছাদের নিচে ছিলাম, তবু কেমন ফাঁকা লাগে,
তোমার হাসির ভিড়ে আজও, নিঃশব্দ কিছু দাগে।
হাত ছুঁয়েও দূরত্ব বাড়ে, কথাগুলো হারিয়ে যায়,
চোখের ভেতর প্রশ্নগুলো, উত্তর খুঁজে পায় না আর।

তুমি ছিলে, তবু দূরে গানটি ইউটিউবে

তুমি কি জানো, এই নীরবতা কতটা চিৎকার করে?
তুমি কি দেখো, ভাঙা মনটা কেমন করে বেঁচে মরে?

তুমি ছিলে, তবু দূরে—এই গল্পটা কেমন হয়?
ভালোবাসা থেকেও কেন, হৃদয়টা এত ভয় পায়?
ছুঁয়ে থেকেও হারিয়ে যাও, এ কেমন অদ্ভুত খেলা,
তুমি আছো, তবু যেন নেই—আমার একলা মেলা।





তোমার শহর আলোয় ভরা, আমার ঘরটা অন্ধকার,
তুমি ভিড়ে হারিয়ে গেলে, আমি হলাম একাকার।
কথার মাঝে লুকিয়ে রাখা, কত অজানা গল্প ছিল,
তুমি মুছে দিলে চিহ্নগুলো, আমি শুধু প্রশ্নে ভিল।

তুমি কি বোঝো, এই অপেক্ষা কতটা বিষের মতো?
তুমি কি শোনো, ভাঙা হৃদয় ডাকে তোমায় নতো?

তুমি ছিলে, তবু দূরে—এই গল্পটা কেমন হয়?
ভালোবাসা থেকেও কেন, হৃদয়টা এত ভয় পায়?
ছুঁয়ে থেকেও হারিয়ে যাও, এ কেমন অদ্ভুত খেলা,
তুমি আছো, তবু যেন নেই—আমার একলা মেলা।

হয়তো ভুল ছিল আমার, হয়তো ছিলে তুমি ক্লান্ত,
ভালোবাসা হেরে গেল, নাকি ছিলো সময়টাই দুর্ভাগ্যবান?
তবুও জানো—সব অভিমানে আজও তোমায় চাই,
ভাঙা স্বপ্নের ভিড়ের মাঝে, শুধু তোমাকেই পাই।

তুমি ছিলে, তবু দূরে—এই কষ্টটা থামে না,
ভালোবাসা শেষ হয়নি, শুধু পথটা মেলে না।
একদিন হয়তো বুঝবে তুমি, এই হারানোর মানে,
আমি রয়ে যাবো নিঃশব্দে—তোমারই পুরোনো গানে…

বরিশাল: ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক অনন্য কেন্দ্র

    নামকরণের রহস্য

    বরিশাল নামের উৎপত্তি নিয়ে বেশ কিছু আকর্ষণীয় মতবাদ রয়েছে। একটি জনপ্রিয় তাত্ত্বিক মূল অনুযায়ী, এটি পারস্য-আরবি শব্দ “বাহর-এ-সওয়াল” থেকে এসেছে যার অর্থ “প্রশ্নাবলীর সমুদ্র”। প্রাচীন আরব বণিকরা এই অঞ্চলের বিপদসংকুল সমুদ্র উপকূলে যাতায়াতের সময় প্রায়শই স্থানীয়দের কাছে পথনির্দেশনা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন (সওয়াল) করত । অন্য একটি মতবাদ অনুযায়ী, ব্রিটিশ ও পর্তুগিজ বণিকরা এই অঞ্চলের লবণের বড় বড় গোলার জন্য একে “বরিসল্ট” (Bori-Salt) বলত, যা কালক্রমে পরিবর্তিত হয়ে বরিশাল হয়েছে ।

    ইতিহাসের পরিক্রমা: চন্দ্রদ্বীপ থেকে বাকেরগঞ্জ

    বরিশাল অঞ্চলটি অত্যন্ত প্রাচীন। এটি এক সময় প্রাচীন গঙ্গারাইডাই সাম্রাজ্য এবং পরবর্তীতে চন্দ্রদ্বীপ বা বাকলা রাজ্যের অংশ ছিল। ১৭৯৭ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে ঢাকা জেলার দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে বাকেরগঞ্জ জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়, যার নামকরণ করা হয়েছিল মুঘল কর্মকর্তা আগা বাকেরের নামানুসারে । ১৮০১ সালে জেলার সদর দপ্তর বাকেরগঞ্জ থেকে বর্তমান বরিশাল শহরে স্থানান্তরিত হয় । ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি বরিশালকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করা হয় ।

    বাংলার ভেনিস: নদ-নদীর দেশ

    বরিশালের ভৌগোলিক পরিচয় মূলত এর অসংখ্য নদ-নদীকে কেন্দ্র করে। মেঘনা, কীর্তনখোলা, আড়িয়াল খাঁ, তেঁতুলিয়া এবং সন্ধ্যার মতো শক্তিশালী নদীগুলো জালের মতো ছড়িয়ে থেকে এই ভূখণ্ড তৈরি করেছে । বরিশাল শহরটি কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত । প্রচুর নদ-নদী এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এই অঞ্চলটিকে “বাংলার ভেনিস” বলা হয় ।

    শস্যভাণ্ডার ও “এগ্রিকালচারাল ম্যানচেস্টার”

    এই ডেল্টা অঞ্চলের উর্বর পলিমাটি বরিশালকে একটি কৃষি শক্তিতে পরিণত করেছে। একসময় প্রচুর ধান উৎপাদনের জন্য একে “বাংলার শস্যভাণ্ডার” বলা হতো । ১৫৮০ সালে পর্যটক রালফ ফিচ এই অঞ্চলের সম্পদের বর্ণনা করেছিলেন । প্রচুর ধান ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কারণে একে এক সময় “এগ্রিকালচারাল ম্যানচেস্টার” হিসেবেও অভিহিত করা হতো । বর্তমানেও এটি ধান এবং মাছ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ।

    রাজনীতি ও সাহিত্যের নক্ষত্র

    বরিশাল এমন অনেক কৃতি সন্তানের জন্ম দিয়েছে যারা উপমহাদেশের ইতিহাস ও সাহিত্যে অসামান্য অবদান রেখেছেন:

    • শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক: অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং কৃষক-শ্রমিকদের নেতা, যিনি শিক্ষা বিস্তার ও প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ।
    • জীবনানন্দ দাশ: বিশ শতকের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি এবং “রূপসী বাংলার কবি” হিসেবে পরিচিত, যার কবিতায় বরিশালের প্রকৃতি ও নিসর্গ অমর হয়ে আছে।
    • সুফিয়া কামাল: প্রথিতযশা কবি ও নারী জাগরণের অগ্রদূত, যিনি আজীবন প্রগতিশীল আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন ।
    • বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর: বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তাকে সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান প্রদান করা হয়।

    স্থাপত্য ও দর্শনীয় নিদর্শন

    জেলায় ঐতিহাসিক এবং আধুনিক স্থাপত্যের চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়:

    গুঠিয়া মসজিদ (বাইতুল আমান)
    • গুঠিয়া মসজিদ (বাইতুল আমান): এটি বর্তমান সময়ের অন্যতম সুন্দর এবং বৃহৎ মসজিদ কমপ্লেক্স ।
    • অক্সফোর্ড মিশন চার্চ: এর অনন্য লাল ইটের স্থাপত্যরীতির জন্য এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুন্দর গির্জা হিসেবে বিবেচিত ।
    • দুর্গাসাগর: ১৭৮০ সালে খনন করা এই দিঘীটি দক্ষিণ বাংলাদেশের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট জলাধার এবং বর্তমানে অতিথি পাখিদের অভয়ারণ্য ।

    সাংস্কৃতিক প্রাণশক্তি ও ঐতিহ্য

    বরিশালের সংস্কৃতি এর ভৌগোলিক অবস্থানের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখানকার সারি, জারি ও ভাটিয়ালি গান সাধারণ মানুষের হৃদস্পন্দন [১২৪, ২৬৬, ২৬৭]। এছাড়া লোকশিল্পের মধ্যে নকশি কাঁথা, নকশি পিঠা এবং শীতলপাটির ব্যবহার বেশ সমৃদ্ধ । আঞ্চলিক খাবারের মধ্যে নদী ও খালের তাজা মাছ, নারকেল দিয়ে তৈরি পিঠা-পুলি এবং বিখ্যাত বালাম চাল বরিশালের ঐতিহ্যকে বহন করে ।

    বরিশাল জেলা তার ঐতিহাসিক স্থিতিস্থাপকতা এবং প্রাকৃতিক প্রাচুর্যের মাধ্যমে আজও বাংলাদেশের এক অনন্য সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

    ইগুয়াসু ফলস: দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সীমান্তে অবস্থিত অসাধারণ জলপ্রপাত

    ইগুয়াসু জলপ্রপাতের পরিচিতি:

    ইগুয়াসু জলপ্রপাত সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি অদ্বিতীয় উদাহরণ, যা দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সীমান্তে অবস্থিত। এই জলপ্রপাত একটি প্রাকৃতিক বিস্ময়, যা দর্শকদের মনে রোমাঞ্চকর অবস্থার সৃষ্টি করে। ইগুয়াসু জলপ্রপাতটি পারানা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে ।ইগুয়াসু জলপ্রপাতের আসল উৎস হলো পারানা নদীর মালভূমির ঢাল। এই ঢাল পাহাড়ি ঝর্ণাধারা হিসেবে প্রস্তুত হয় এবং প্রায় ৭৩ মিটার উচ্চতার সাথে পতিত হয়।

    Iguazu fall,
    Source: Times of India Travel

    ইগুয়াসু জলপ্রপাত আকারে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের চেয়ে বড় এবং ইতিহাসে এটি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং প্রতিষ্ঠিত জলপ্রপাতের একটি নতুন পরিচয় হিসেবে পরিচিত। বর্ষাকালে, ইগুয়াসু জলপ্রপাতের প্রশস্ততা প্রায় ৪ কিমি-এ গিয়ে দাঁড়ায়, এবং এটি একটি অদ্ভুত দৃশ্য তৈরি করে। শুষ্ক মৌসুমে, ইগুয়াসু জলপ্রপাত প্রায় ৭৩০ মি প্রস্থের দুইটি আলাদা জলপ্রপাত হিসেবে পতিত হয় এবং এটি আরও একটি মহৎ দৃশ্য তৈরি করে। ইগুয়াসু জলপ্রপাতের অদ্ভুত সৌন্দর্য এবং প্রাকৃতিক শোভা দেখতে একবার দর্শকদের হৃদয়ে রোমাঞ্চকর অবস্থার সৃষ্টি করে।  

    এটি একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য, যা প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটককে আকর্ষণ করে। এই নিবন্ধে, আমি ইগুয়াসু জলপ্রপাতে যাওয়ার জন্য আপনার যাত্রা পরিকল্পনা করার কিছু দরকারী তথ্য সরবরাহ করব, যেমন টিকেটের দাম, খোলার সময়, এবং অন্যান্য বিস্তারিত।

    ইগুয়াসু জলপ্রপাতের গুগল লোকেশন: https://maps.app.goo.gl/UbxvYHMcRkr8C5Fx8

    Map of Iguazu falls,
    Source: Britannica

    যেভাবে ইগুয়াসু জলপ্রপাতে যেভাবে যাওয়া যায়:

     দুটি প্রধান উপায়ে ইগুয়াসু ফলসে যাওয়া যায়: বিমানপথে বা স্থলপথে। যদি আপনি বিমানে যেতে চান, তবে আপনি ফলসের কোন দিকে প্রথমে যেতে চান তার উপর নির্ভর করে। আপনি হয় আর্জেন্টিনা বিমানবন্দর (IGR) নাহয় ব্রাজিলের বিমানবন্দর (IGU) নির্বাচন করতে পারেন। উভয় বিমানবন্দর ফলস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত যার প্রবেশদ্বারে শাটল বাস বা ট্যাক্সির ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি চাইলে অনলাইনে বা আপনার হোটেলের মাধ্যমে যানবাহনেরর সেবা বুক করতে পারেন।

    Iguazu falls,
    Source: Journey Latin America

    যদি আপনি স্থলপথে ভ্রমণ করতে চান, তবে আপনি বুয়েনোস আইরেস, রিও ডি জানেইরো, সাও পাওলো, বা আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের অন্যান্য প্রধান শহর থেকে বাস নিতে পারেন। বাস যাত্রা ১৮ থেকে ২৪ ঘন্টা লাগতে পারে, যা মূলত রুট এবং ট্রাফিকের উপর নির্ভর করে।

    ইগুয়াসু জলপ্রপাতে যাবার ভ্রমন সময় ও ভ্রমণ খরচ:

    আপনি এখানে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভাল সময় হল অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি। এই সময়ে আপনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে পাবেন এবং পর্যটন খরচ প্রতি ব্যক্তি প্রতি দিন ১০০ ডলার থেকে ১৫০ ডলার হতে পারে। আপনি এখানে যাওয়ার জন্য ভিসা প্রয়োজন হবে। আপনি আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের যেকোনো একটি দূতাবাস থেকে ভিসা পেতে পারেন। আপনি এখানে যাওয়ার জন্য ভিসা পেতে চাইলে প্রতি ব্যক্তি প্রতি দিন ২০ ডলার থেকে ৩০ ডলার খরচ করতে পারেন। ইগুয়াসু জলপ্রপাত অলাভজনক ভ্রমণ স্থান।

    ইগুয়াসু ফলস মোট ২৭৫টি আলাদা জলপ্রপাত নিয়ে গঠিত, যার প্রস্থ ২.৭ কিলোমিটার এবং উচ্চতা ৬০ থেকে ৮২ মিটার পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়1।

    ফলসগুলি দুটি অংশে বিভক্ত: উপরের চক্র এবং নিচের চক্র। উপরের চক্র থেকে আপনি ফলসগুলির উপরে থেকে দৃশ্যমান দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন, যখন নিচের চক্র আপনাকে জলের ছিটকার কাছাকাছি নিয়ে যায় এবং জলের শক্তি অনুভব করতে দেয়।

    সবচেয়ে মোহনবহ এবং প্রতীকী জলপ্রপাত হল ডেভিল’স থ্রোট (শয়তানের গলা)। এটি একটি বিশাল U-আকৃতির জলপ্রপাত, যেখানে অপরিমেয় পরিমাণে জল একটি সংকীর্ণ খাঁড়ে পড়ে। এই খাঁড়টি উঁচু পাহাড় এবং অদ্ভুত শিলার গঠন দ্বারা ঘেরা হয়, যা একটি প্রাকৃতিক নাট্যশালার-মতো দৃশ্য তৈরি করে। এটি ইগুয়াসু ফলস ব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং ভয়ঙ্কর জলপ্রপাত। এটির প্রস্থ প্রায় ১৫০ মিটার এবং উচ্চতা ৮২ মিটার। একবার এটির দৃশ্য কল্পনা করুন! এই প্রাকৃতিক বিস্ময়ের আকার সত্যিই বিস্ময়কর। কিন্তু এটির আকার-ই একমাত্র কারণ নয় যা এটিকে অসাধারণ করে। নিরবিচ্ছিন্ন জলের প্রবাহ, সবসময়ের কুয়াশা যা চারপাশে বেষ্টিত করে, এবং গর্জন একত্রে এমন একটি অভিজ্ঞতা তৈরি করে যা সত্যিই অসাধারণ। 

    ডেভিল’স থ্রোটে পৌঁছার জন্য দর্শকরা সাধারণত একটি ভালভাবে চিহ্নিত হাঁটু পথ বা একটি বিশেষজ্ঞ ট্রেন অনুসরণ করে, যা একটি সাবধানভাবে অবস্থান করা দর্শন প্ল্যাটফর্মে নেয়ে যায়। এই প্ল্যাটফর্মটি খাঁড়ের উপরে একটি অনুপম দৃষ্টিকোণ তৈরি করে, যা দর্শকদের অবাক করতে বাধ্য করে। সেখানে দাঁড়িয়ে, কেউ ফলসের শক্তি এবং শক্তি দ্বারা আকর্ষিত না হয়ে পারবে না । একটি সম্পূর্ণ মোহনবহ দৃশ্যে একজন ভ্রমণপিপাসুকে মগ্ন করে। 

     #iguazufalls #TheNRDsUniverse #TheNRD #TouristPlacesInArgentina #TouristPlacesInBrazil #TouristPlacesInSouthAmerica

    শরী‌রের লোম দাড়ায় কে‌নো?

    শুধুকি শীত লাগলেই লোম দাড়িয়ে যায়? নাহ! ভয় পেলে, টেনশনে, প্যানিক অ্যাটাক, যৌন আকাঙ্খায় কিংবা আবেগতাড়িত হয়ে শরীরের লোম দাড়িয়ে যায়। একে আমরা গুজবাম্পও বলে থাকি। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন এর পেছনের কারণ কি! 

    তবে এর নাম গুজবাম্প হওয়ার কারনটা কি সেটা আগে বলা যাক। হাঁসের পালক ছাড়ানোর পরে দেখবেন ত্বকের উপর ছোট ছোট খোঁচা খোঁচা অংশ দেখা যায়। আমাদের শরীরের লোম দাঁড়িয়ে গেলেও এমন দেখায় তাই এই অবস্থার নাম গুজবাম্পস। যাকে শুদ্ধ বাংলায় বলে হংসীত্বক।

    হাসের সাথে মিলিয়ে নাম রাখা হলেও মানুষের ক্ষেত্রে গুজবাম্পস হবার কারনটা আলাদা। 

    আমাদের আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে অন্যতম শারীরবৃত্তিয় প্রকাশ হলো গুজবাম্পস। মেডিকেলের ভাষায় একে বলা হয় পিলোইরেকশন। তবে এর মূল কারন একটি হরমোনের নিস:রন। হরমনটির নাম – অ্যাড্রোনালিন। এই হরমোনটি নি:সরন হয় যখন আমরা ভয় পাই, শীত লাগে বা যখন খুব আবেগাপ্লুত হয়ে পরি। দুঃখ, ভয়, মানসিক চাপ প্রভৃতি সংকটকালীন অবস্থা এই হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়। এটি আমাদের মানসিক অবস্থার সাথে যুদ্ধ করে।

    এই হরমোন রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং শরীরের লোমকূপ গুলোকে সংকুচিত করে ফেলে, যার ফলে লোমকূপের গোড়া উপরে ফুলে ওঠে। লোমগুলোও দাড়িয়ে যায় একই কারনে। কিছু প্রানীর ক্ষেত্রে এই গুজবাম্পস বোঝা যায়। বিড়াল, বাঘ কিংবা কুকুরের ক্ষেত্রে এমনটা হয়। তখন ওদের আাকারে কিছুটা বড় দেখায়।

    আইফেল টাওয়ার: যার উচ্চতা গ্রীষ্মকালে বা‌ড়ে এবং শীতকালে ক‌মে যায়

    ফ্রান্সের প্রতীক এবং প্রকৌশলীর অভিনব সৃষ্টি আইফেল টাওয়ার (Eiffel Tower) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের চাম্প ডি মার্সের মধ্যে অবস্থিত একটি লোহার জালি কাঠামো, যা প্রকৌশলী গুস্তাভ আইফেল এর নামে পরিচিত।

    গুস্তাভ আইফেল

    আইফেল কোম্পানি ; এই টাওয়ারটি ১৮৮৭ থেকে ১৮৮৯ সালের মধ্যে নির্মাণ করেছিল। এটি মূলত ১৮৮৯ সালের বিশ্ব মেলার কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে এবং ফ্রান্সের বিপ্লবের শতবর্ষপূর্তি উদযাপনের চিহ্ন হিসাবে তৈরি করা হয়েছিল। এটি ফ্রান্সের এবং বিশ্বের একটি বৈ‌শ্বিক সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসাবে গণ্য হয়েছে যা বিশ্বের সবচেয়ে চেনা কাঠামোগুলির মধ্যে একটি। 

    এটি ১৯৬৪ সালে একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ১৯৯১ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান (“প্যারিস, সেন নদীর তীর”) হিসাবে নাম করা হয়েছিল। 

    সেন নদী, প‌্যা‌রিস

    ২০১৫ সালে ৬.৯১ মিলিয়ন মানুষ এটি উপরে উঠেছেন। 

    ২০২২ সালে এই টাওয়ারটিতে প্রায় ৫৮৮৯,০০০ দর্শক ভ্রমণ ক‌রে‌ছে।  এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শনীয় স্থান, যা দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশশুল্ক নেয়।

    টাওয়ারটি ৩০০ মিটার (৯৮৪ ফুট) উচ্চ। এটি একটি বেসের উপরে , যা ৫ মিটার (১৭ ফুট) উচ্চ। টাওয়ারের শীর্ষে একটি টেলিভিশন এন্টেনা এটিকে মোট ৩৩০ মিটার (১,০৮৩ ফুট) উচ্চতায় নিয়ে যায়। এটি নির্মাণের সময়, এবং এরপরের অনেক সময় ধরে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চ মানবনির্মিত কাঠামো ছিল, একটি শিরোনাম যা এটি ৪১ বছর ধরে রেখেছিল, যতক্ষণ না নিউইয়র্ক সিটিতে ক্রাইসলার বিল্ডিং ১৯৩০ সালে শেষ হয়। 

    ক্রাইসলার বিল্ডিং, নিউইয়র্ক, ইউএসএ

    এটি বিশ্বের প্রথম কাঠামো ছিল, যা ২০০-মিটার এবং ৩০০-মিটার চিহ্ন উচ্চতায় অতিক্রম করেছিল। ১৯৫৭ সালে টাওয়ারের শীর্ষে একটি সম্প্রচারের এন্টেনা যোগ করার কারণে, এটি ক্রাইসলার বিল্ডিংকে ৫.২ মিটার (১৭ ফুট) দিয়ে উচ্চতায় অতিক্রম করেছে। ট্রান্সমিটার বাদে, আইফেল টাওয়ার ফ্রান্সের মিলাউ ভিয়াডাক্টের পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্বাধীন কাঠামো ।

    টাওয়ারে পৌরাণিক অদৃষ্টি আছে, এটি দিনের আলোতে আকর্ষণীয় এবং রাতে আলোকিত হয়ে উঠে, যা প্যারিসের স্কাইলাইন আরও চিত্রময় করে।

    আইফেল টাওয়ারের উচ্চতা গ্রীষ্মকালে বাড়ে এবং শীতকালে কমে যায় কেন? এই ঘটনার সহজ ব্যাখ্যা রয়েছে। এই ঘটনার কারণ হল ভবনটি তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত উপাদানের ধরণ। আইফেল টাওয়ারটি তৈরি করা হয়েছিল পাদ্ম লোহা ব্যবহার করে, যা তাপমাত্রার সামান‌্য পরিবর্তনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এজন্য, যখন তাপমাত্রা বাড়লে টাওয়ারের আয়তন বাড়ে এবং কম‌লে টাওয়া‌রের আয়তন ক‌মে যায়।

    আইফেল টাওয়ারটি ফ্রান্সের গর্বময় সংস্কৃতি এবং প্রকৌশলের অ‌বিস্বরণীয় সৃ‌ষ্টি। এর কারণে এটি বিশ্বভরে একটি আকর্ষণ হিসেবে বিখ্যাত হয়েছে এবং অনেক দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করেছে।

    #EiffelTower #TouristPlacesInFrance #TouristPlacesInParis #TheNRD #TheNRDsUniverse 

    ২০২৩ সা‌লে মু‌ক্তিপ্রাপ্ত ৭ টি সেরা মালায়লাম স‌ি‌নেমা

    মো ন‌াইমুর রহমান (দ‌্যা এন আর ডি)

    মালায়ালাম সিনেমা বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ এবং সৃজনশীল সিনেমা পরিবেশ। ২০২৩ সালে মালয়ালম সিনেমায় অনেক দারুণ চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে, যা দর্শকদের মন জুড়েছে। এই নিবন্ধে আমরা সেই চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে সেরা সাত‌টি নির্বাচন করেছি, যা অনুবাদ, কাহিনী, অভিনয়, পরিচালনা এবং বক্স অফিস সফলতার দিক থেকে অন্যদের থেকে অগ্রণী। এই চলচ্চিত্রগুলি হলো-

    ১। ২০১৮: একটি দুর্ঘটনা চলচ্চিত্র, যা ২০১৮ সালে কেরলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার উপর ভিত্তি করে। এই চলচ্চিত্রে তোভিনো থমাস, কুঞ্চাক্কো বোবান, আসিফ আলি এবং ভিনীত শ্রীনিবাসন অভিনয় করেছেন। এটি জুড় অ্যান্থনি জোসেফ পরিচালিত এবং কাব্যা ফিল্ম কোম্পানি তৈরি করেছে। এটি বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ১৭৭ কোটি টাকা আয় করেছে।


    ২। নান্পাকাল নেরাথু মায়াক্কম: একটি কমেডি নাটক চলচ্চিত্র, যা মাম্মুটি, রাম্যা পান্ডিয়ান, আশোকান এবং কায়নাকারী থাঙ্কারাজ অভিনয় করেছেন। এটি লিজো জোসে পেলিসেরি পরিচালিত এবং মাম্মুটি কাম্পানি এবং আমেন মুভি মনাস্টেরি তৈরি করেছে। এই চলচ্চিত্রে ভেলাঙ্কানি থেকে কেরলে ফিরে আসার পথে একটি বাসে ঘুমিয়ে পড়া মালয়ালি যাত্রীদের অজানা একটি গ্রামে অবস্থানের কৌতুককর ঘটনাগুলি নিয়ে গড়ে উঠেছে।

    ৩। কান্নুর স্কোয়াড: একটি অপরাধ নাটক চলচ্চিত্র, যা মাম্মুটি, কিশোর কুমার জি., বিজয়রাঘবান এবং রোনি ডেভিড অভিনয় করেছেন। এটি রোবি ভর্গেস রাজ পরিচালিত এবং মাম্মুটি কাম্পানি তৈরি করেছে। এই চলচ্চিত্রে একজন পুলিশ অফিসার এবং তার দলের একটি অপরাধী দলকে দেশব্যাপী ধরার চ্যালেঞ্জিং যাত্রা নিয়ে গড়ে উঠেছে।

    ৪। রোমাঞ্চম: একটি কমেডি ভৌতিক চলচ্চিত্র, যা সৌবিন শাহির, চেম্বান ভিনোদ জোস, অর্জুন অশোকান, সাজিন গোপু, অনন্তরামান আনি এবং জোমন জ্যোথির অভিনয় করেছেন। এটি জিথু মাধবান পরিচালিত এবং জনপল জর্জ প্রোডাকশন এবং গাপি প্রোডাকশন তৈরি করেছে। এই চলচ্চিত্রে সাতজন ব্যাচেলর একটি ওয়িজা বোর্ডের খেলা নি‌য়ে তৈ‌রি হওয়া ভৈ‌তিক প‌রি‌বেশ নি‌য়ে তৈ‌রি করা হ‌য়ে‌ছে।

    ৫। ইরাট্টা একটি ২০২৩ সালের মালয়ালম ভাষার অপরাধ নাটক চলচ্চিত্র, যা রোহিত এম জি কৃষ্ণান লিখেছেন এবংরিচালনা করেছেন। জোজু জর্জ দ্বিভূমিকায়, অঞ্জলি, আরিয়া সালিম এবং শ্রীকান্ত মুরালি অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রটি ভাগমনের দ্বারা বিচ্ছিন্ন একজন পুলিশের মৃত্যু এবং তার দ্বিতীয় ভাইয়ের অনুসন্ধানের কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে। চলচ্চিত্রটি ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে মুক্তি পেয়েছে।

    ৬। মাধুরা মনোহর মোহন একটি ২০২৩ সালের মালয়ালম ভাষার পরিবার কমেডি নাটক চলচ্চিত্র, যা স্টেফি জেভিয়ার পরিচালিত এবং মহেশ গোপাল এবং জয় বিষ্ণু লিখেছেন। শারাফ উ দ্ধীন, রাজিশা বিজয়ন, বিন্দু পানিক্কার, আর্শা চান্দিনি বাইজু এবং সাইজু কুরুপ অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রটি কুম্বাঝায় ঘটে যাওয়া মানু এবং মীরার পরিবারের ঘটনাগুলির কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে।

    ৭। আরডিএক্স: রবার্ট ডনি জেভিয়ার একটি ২০২৩ সালের মালয়ালম ভাষার অ্যাকশন থ্রিলার চলচ্চিত্র, যা নাহাস হিদায়াত পরিচালিত এবং সোফিয়া পল প্রযোজিত। এই চলচ্চিত্রে শেন নিগাম, অ্যান্টনি ভার্গিস এবং নীরজ মাধব শিরোনামক ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রটি রবার্ট, ডনি এবং জেভিয়ার নামের তিনজন বন্ধুর কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে, যারা তাদের পরিবারের প্রতি অপরাধীদের অত্যাচারের জন্য প্রতিশোধ নিতে চায়।

    #BestMalaylamMoviesOf2023 #Iratta #KannurSquad #NanakkalNerathuMayakkam #MadhuraManoharaMoham #RDX #2018Movie #TheNRDsUniverse #Romancham

    মারাকেশ: মরক্কোর লাল শহর

    মারাকেশ, মরক্কোর মধ্যবর্তী প্রধান শহর। মরক্কোর চারটি সাম্রাজ্যশাসিত শহরের প্রথমটি, এটি উর্বর সেচ কৃষি করা হাওজ প্লেনের মধ্যে, তেন্নসিফ্ট নদীর দক্ষিণে অবস্থিত। শহরের প্রাচীন অংশ, যা মেদিনা হিসাবে পরিচিত, ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

    মারাকেশ, মরক্কো

    মারাকেশ আলমোরাবিদ সাম্রাজ্যের সাম্রাজ্যশাসিত শহর হিসেবে ১০৭০ সালে এমির আবু বকর ইবনে উমার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আলমোরাবিদরা শহরে প্রথম বৃহত্তর কাঠামো তৈরি করেছিলেন এবং শতাব্দীগুলি ধরে এর বিন্যাস আকৃতি দিয়েছিলেন। শহরের লাল দেওয়াল, যা ১১২২-১১২৩ সালে আলি ইবনে ইউসুফ দ্বারা নির্মিত হয়েছিল, এবং পরবর্তীতে লাল বালুপাথর দিয়ে নির্মিত বিভিন্ন কাঠামো, শহরকে “লাল শহর” (আলমাদিনাত আলহামরা) বা “ওকার শহর” (ভিল ওকর) নামে পরিচিত করেছে।

    মারাকেশ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং একটি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তখনকার সাম্রা‌জ্যের পতনের পরে, শহরটি ফেজ দ্বারা অতিক্রম করা হয়েছিল। পরবর্তী‌তে মারাকেশ সাদি রাজবংশের রাজধানী হিসেবে পুনরায় প্রধানত্ব অর্জন করেছিল । সুলতান আবদাল্লাহ আল-গালিব এবং আহমদ আল-মানসুর এল বাদি প্রাঙ্গণ (১৫৭৮) এর মতো বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ সজ্জিত করেছিলেন এবং অনেক ধ্বংসাগ্রস্ত স্মারক পুনর্বাসন করেছিলেন।  ১৭শ শতাব্দী থেকে শহরটি সুফি তীর্থযাত্রীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

    #TheNRDsUniverse #TheNRD #Morocco #TouristPlacesInMorocco #unknownfacts

    মাচু পিচু, পেরু, দ‌ক্ষিণ আ‌মে‌রিকা

    মাচু পিচু একটি ঐতিহাসিক অভয়ারণ্য যা পেরুর কুজকোতে অবস্থিত । এটি পৃথিবীর অসাধারণ শিল্প, স্থাপত্য এবং ভূমি ব্যবহারের একটি উদাহরণ। ইনকা সভ্যতার সবচেয়ে মূল্যবান বাস্তব উত্তরাধিকারে এটি অবস্থিত, এর মধ্যে অসাধারণ প্রাচীনতম স্মারক “লা সিউদাডেলা” সমুদ্রতল থেকে ২,৪০০ মিটার উচ্চতায়।

    পঞ্চম শতাব্দীতে নির্মিত মাচু পিচু ইনকা সাম্রাজ্যের চরম সময়ের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য শহর ছিল। এর দেওয়াল, টেরাস এবং রাম্পগুলি প্রাকৃতিকভাবে কাটা হয়েছে। এটির প্রাকৃতিক পরিবেশ, আন্ডেসের পূর্বাঞ্চলে, ফুল ও প্রাণীর ধনী বৈচিত্র্যের সাথে আমাজন বেসিনের উপর অবস্থিত।

    মাচু পিচু, পেরু, দ‌ক্ষিণ আ‌মে‌রিকা

    মাচু পিচুর অনেক রহস্য এখনও অসমাধান রয়েছে।  এটি ইনকাদের জ্যোতির্বিদ্যা এবং বন্য উদ্ভিদের পালনপোষণের বুঝতে কি ভূমিকা পালন করেছিল তা সহ।

    মাচু পিচু বিশাল এবং সুসংস্কৃত স্থাপত্য চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে মিশে যায় । এটি অবিভাজ্যভাবে সংযুক্ত। এটির উচ্চ উচ্চতা, ব্যবস্থিত উপ-কেন্দ্র, ব্যাপক রাস্তা এবং পথ, সেচ খাল এবং কৃষি টেরাস দীর্ঘদিন ব্যবহার করা এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক আবাসস্থানের একটি মোজাইক তৈরি করে। কঠিন ভূমিতি কিছু অঞ্চলে প্রবেশ করা কঠিন করে দিয়েছে, তা অঞ্চল এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক আবাসস্থানের একটি মোজাইক তৈরি করে। এটি বিশ্বমানের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য এবং উচ্চ উদ্ভিদবৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক।

    #MachuPichu #Peru #TouristPlacesinPeru #TheNRD #TheNRDsUniverse