ফুটবলের সৌন্দর্যই যেন আবারও তুলে ধরল আর্জেন্টিনা। নাটকীয় এক লড়াইয়ে ৯২তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলতে থাকা মিশর ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায়। এরপর ৬৭ মিনিটে মোস্তাফা জিকো ব্যবধান দ্বিগুণ করলে আর্জেন্টিনা কার্যত বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। এর আগে প্রথমার্ধে লিওনেল মেসির নেওয়া পেনাল্টিও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইর।
তবে বড় দলের পরিচয় দিয়েই ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ৮০তম মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো হেডে ব্যবধান কমান। মাত্র তিন মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে মেসির শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে জালে জড়ালে ম্যাচে সমতা ফিরে আসে।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বদলি খেলোয়াড় লাউতারো মার্টিনেজের দারুণ ক্রস থেকে এনজো ফার্নান্দেজের হেড জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির। ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচে মেসির দিনটি ছিল মিশ্র অনুভূতির। পেনাল্টি মিস করলেও একটি অ্যাসিস্ট ও একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে জয়ের পথে ফিরিয়ে আনেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ান এবং নকআউট পর্বে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েন।
অন্যদিকে, গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইরের অসাধারণ পারফরম্যান্স, মিশরের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং সাহসী আক্রমণ ম্যাচটিকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রোমাঞ্চকর করে রেখেছিল। হারলেও তাদের লড়াকু মানসিকতা ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয়—আবারও প্রমাণ করল, ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে কখনোই লেখা যায় না।

Leave a comment