সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে তেঁতুলিয়া গ্রামে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি অবস্থিত । এটি স্থানীয় মানুষের কাছে ‘মিয়ার মসজিদ’ বা ‘তেঁতুলিয়া শাহী মসজিদ’ নামেও পরিচিত । ১৮৫৯ সালে নির্মিত এই মসজিদটি মুঘল স্থাপত্য শৈলীর একটি চমৎকার উদাহরণ হিসেবে টিকে আছে । বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর এই প্রাচীন স্থাপনাটির রক্ষণাবেক্ষণ করছে ।
গুগল লোকেশন (Google Location)
মসজিদটি সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে তালা-পাইকগাছা সড়কের পাশেই অবস্থিত । এর নির্ভুল ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক হলো 22.560976, 89.214926।
স্থাপত্যের ইতিহাস
এই মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তেঁতুলিয়ার জমিদার খান বাহাদুর কাজী সালামতউল্লাহ খান । মসজিদের গায়ের শিলালিপি থেকে জানা যায়, তিনি ১২৭০ বঙ্গাব্দে (১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে) এটি নির্মাণ করেন । জনশ্রুতি আছে যে, তিনি কলকাতার ‘সিন্দুরে পট্টি’ মসজিদের নকশার অনুকরণে এই মসজিদটি তৈরি করেছিলেন। মসজিদের পাশেই সালামতউল্লাহ খানের পারিবারিক কবরস্থান এবং তাঁর বসবাসের জন্য নির্মিত ‘সালাম মঞ্জিল’-এর ধ্বংসাবশেষ এখনও দেখতে পাওয়া যায় ।

সাইটের কাঠামো ও স্থাপত্যশৈলী
মসজিদটি মুঘল স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত এবং এর উপরিভাগে ৬টি গম্বুজ রয়েছে । এছাড়া মসজিদের চারপাশ ঘিরে ২০টি সুউচ্চ মিনার বিদ্যমান, যা অনেক দূর থেকেও দৃশ্যমান হয় । চুন-সুরকি ও চিটাগুড়ের মিশ্রণে ১২টি পিলারের ওপর মসজিদের মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদে প্রবেশের জন্য ৭টি বিশাল দরজা রয়েছে, যার প্রতিটির উচ্চতা ৯ ফুট এবং প্রস্থ ৪ ফুট । এই মসজিদে ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে একসাথে প্রায় পাঁচ শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন ।
যাওয়ার উপায়
ঢাকা থেকে সড়কপথে সাতক্ষীরা যাওয়ার জন্য গাবতলী, শ্যামলী বা কল্যাণপুর থেকে এসপি গোল্ডেন লাইন, গ্রীনলাইন, ঈগল বা শ্যামলী পরিবহনের মতো এসি ও নন-এসি বাস পাওয়া যায় । সাতক্ষীরা জেলা শহরে পৌঁছে বাস, রিকশা বা ভ্যানে করে তালা-পাইকগাছা সড়ক ধরে সহজেই তেঁতুলিয়া গ্রামে যাওয়া যায় ।

ভ্রমণ সময় ও খরচ
বছরের যেকোনো সময় এই মসজিদটি পরিদর্শনে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা যাওয়ার বাস ভাড়া মানভেদে ৬৫০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে । সাতক্ষীরা শহর থেকে স্থানীয় পরিবহনে করে মসজিদে পৌঁছাতে জনপ্রতি প্রায় ৩৫ টাকার মতো খরচ হয়।

থাকার ব্যবস্থা
সাতক্ষীরায় রাত যাপনের জন্য বেশ কিছু ভালো মানের আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে । উল্লেখযোগ্য হোটেলের মধ্যে রয়েছে হোটেল সংগ্রাম, হোটেল সম্রাট, হোটেল সীমান্ত, মোজাফফর গার্ডেন এবং হোটেল উত্তরা । সাতক্ষীরা ভ্রমণে গেলে এখানকার বিখ্যাত আম, সুন্দরবনের মধু এবং ঘোষ ডেইরীর সন্দেশ উপভোগ করতে ভুলবেন না ।
সতর্কতা: যেকোনো পর্যটন স্থানে ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না । এছাড়া হোটেল ভাড়া বা যাতায়াত খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নিন ।

Leave a comment