তোমাতে পাওয়া পূর্ণতা: অপূর্নতা থেকে পূর্ণতার গল্প

সময়টা ২০১৫-১৬ সালের দিক। জীবনের এক কঠিন ধাক্কা appena পেরিয়ে এসেছি—মন ভাঙা, স্বপ্ন ভাঙা, আর নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার এক নীরব সংগ্রাম। এমন একজন মানুষকে হারিয়েছিলাম, যাকে আমি মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিলাম। তার শূন্যতা এতটাই গভীর ছিল যে, পরবর্তীতে যত মেয়ের সাথেই কথা বলার চেষ্টা করেছি, সবার মাঝেই তাকে খুঁজে ফিরেছি—কিন্তু কোথাও তাকে পাইনি। ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার, একা হয়ে যাওয়ার এক সিদ্ধান্তের দিকেই এগোচ্ছিলাম।

ঠিক সেই সময়েই এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। অফিসের এক সহকর্মী জানালেন, তার এক বান্ধবীর একজন বান্ধবী নাকি একজন বন্ধু খুঁজছে। আরেক সহকর্মী, আমার বর্তমান মানসিক অবস্থার কথা ভেবে, আমার নামটি প্রস্তাব করে। প্রথমে বিষয়টা শুনে অবাক হয়েছিলাম, কিন্তু কোথাও যেন একটা কৌতূহলও কাজ করছিল।

২০১৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝি—ফেসবুকে আমাদের প্রথম কথা হয়। অল্প সময়েই বুঝতে পারলাম, মেয়েটি অন্যরকম। চঞ্চল, বাকপটু, সাংস্কৃতিক চেতনায় ভরপুর, মধ্যবিত্ত পরিবারের হলেও অসাধারণ মেধাবী—তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য। তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে আমি ধীরে ধীরে নিজেকে আবার “পূর্ণ” মনে করতে শুরু করি। যে আমি ভেবেছিলাম, আর কখনো কোনো মেয়ের প্রতি অনুভূতি তৈরি হবে না—সেই আমি আবার নতুন করে অনুভব করতে শুরু করি।

গল্পটি দিয়ে বানানো গানটি ইউটিউভে

এভাবে টানা ১০-১২ দিন কথা বলার পর, নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারিনি। একরকম হুট করেই তাকে আমার ভালোবাসার কথা জানিয়ে ফেলি। সে প্রথমে বিষয়টা হেসে উড়িয়ে দেয়, এমনকি আমার সহকর্মীদের সাথেও শেয়ার করে ফেলে—যা আমাকে কিছুটা বিব্রত করেছিল।

কিন্তু গল্পটা এখানেই থেমে থাকেনি। ২০১৬ সালের ৩১ মে—সে আমার প্রস্তাবে সাড়া দেয়। সেই দিন থেকেই আমাদের ভালোবাসার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক চড়াই-উতরাই এসেছে, অনেক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে—কিন্তু আমরা দু’জন দু’জনকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছি। ভালোবাসাটাকে কখনো হারাতে দিইনি।

আজ, প্রায় ১০ বছর পর, আমরা এখনও একসাথে আছি। আমাদের ২ বছরের প্রেম আর ৮ বছরের সংসার—এই দীর্ঘ পথচলায় আমরা গড়ে তুলেছি একটি সুন্দর পরিবার। আমাদের ভালোবাসার সাক্ষী হিসেবে আছে আমাদের ৬ বছরের ছোট্ট সন্তান।

আরেকটি মজার ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল আমাদের সম্পর্ক পরিবারের কাছে প্রকাশ পাওয়ার ঘটনা। এক ছেলেও তাকে পছন্দ করত এবং ভালোবাসার প্রস্তাব দিয়েছিল। সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরই আমাদের সম্পর্ক শুরু হয়। সেই ছেলেটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনলেই বেশ প্রভাবিত হতেন। ছেলেটি তার বাবাকে জানায় যে, আমার প্রেমিকার সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে। বিষয়টি তার বাবার কানে পৌঁছালে, তিনি মেয়েকে জিজ্ঞাসা করেন। তখন সে সরাসরি তা অস্বীকার করে এবং সাহসের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের কথা স্বীকার করে। এরপর আমার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর, আমার বায়োডাটা দেখে এবং সবকিছু যাচাই-বাছাই করে, অবশেষে তার পরিবার আমাদের সম্পর্ক মেনে নেয়।

এই ছিল আমাদের গল্প—একটা হারানোর বেদনা থেকে শুরু হয়ে, খুঁজে পাওয়া, লড়াই করা, আর শেষমেশ একসাথে পথ।

দুই চাকার স্বাধীনতায় লেখা আমার ভ্রমণ, গল্প আর অভিজ্ঞতার এক চলমান জার্নাল। 🏍️🌄
এই প্লেলিস্টে আমি শেয়ার করছি আমার Moto Vlogs—যেখানে আছে নতুন জায়গা এক্সপ্লোর, রোড ট্রিপ, বাস্তব অভিজ্ঞতা আর পথের গল্প।
এখানে আপনি পাবেন—
✔️ Moto Travel Vlogs
✔️ Road Trip Experiences
✔️ Real-Life Riding Stories
✔️ নতুন জায়গা ও অজানা পথের খোঁজ
এই যাত্রায় আমার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ 💙

Leave a comment

NRD’s Tours & Travels
স্বাগতম NRD’s Tours & Travels-এ, যেখানে আমি ২০১৭ সাল থেকে আমার প্রিয় ভ্রমণের স্মৃতিগুলো শেয়ার করি। এই প্লেলিস্টের প্রথম ভিডিওটি ছিল “NRD’s Tour 001 | Cox’s Bazar Tour (2017),” যা প্রকাশিত হয়েছিল ১ অক্টোবর ২০১৭। এই প্লেলিস্টে রয়েছে মনোমুগ্ধকর স্থান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর গল্প। সমুদ্র সৈকত থেকে পাহাড় ও নদীর সৌন্দর্য—প্রতিটি ভিডিও যেন এক একটি ভ্রমণের গল্প।
এটি আমার নিজস্ব তৈরি গান, সুর ও মিউজিক কম্পোজিশনের একটি বিশেষ প্লেলিস্ট—সুরের ডায়েরি | NRDMusic। 🎶
প্রতিটি সুরের সাথে জড়িয়ে আছে আমার অনুভূতি, গল্প এবং জীবনের কিছু না বলা কথা।