১. বরগুনার স্থাপনসাল: বরগুনা জেলা ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ সালে স্থাপিত হয়েছিল।
To know about Top ten interesting facts of Barguna in English click the link below: https://iamnrdurjoy.wordpress.com/2020/11/29/top-ten-facts-barguna-english

২. যেভাবে বরগুনা নামটি এসেছে: বরগুনা নামের ইতিহাসের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য না পাওয়া গেলেও জানা যায় যে, উত্তর বাংলার কাঠ ব্যবসায়ীরা এ অঞ্চলে কাঠ নিতে এসে খরস্রোতা খাকদোন নদী অতিক্রম করতে গিয়ে অনুকুল প্রবাহ বা বড় গোনের জন্য এখানে অপেক্ষা করত বলে এ স্থানের নাম বড় গোনা।
কারো মতে আবার স্রোতের বিপরীতে গুন(দড়ি) টেনে নৌকা অতিক্রম করতে হতো বলে এ স্থানের নাম বরগুনা।

কেউ কেউ বলেন , বরগুনা নামক কোন প্রতাপশালী রাখাইন অধিবাসীর নামানুসারে বরগুনা । আবার কারো মতে বরগুনা নামক কোন এক বাওয়ালীর নামানুসারে এ স্থানের নামকরণ করা হয় বরগুনা ।

৩. বরগুনার মূল ভুখন্ডের ২২ শতাংশই নদী অঞ্চল: বরগুনা জেলায় নদীর মোট আয়তন ১৬০ কিমি যা জেলার মোট এলাকার ২২ শতাংশ। এছাড়াও, জেলায় প্রায় ৩০০ টি প্রাকৃতিক খাল রয়েছে।
৪. বরগুনার আয়তন: বরগুনার আয়তন ১৯৩৯.৩৯ বর্গ কিলোমিটার যা আয়তনে বাংলাদেশের পয়ত্রিশতম জেলা। যদি এটি একটি দেশ হতো তাহলে আকারে ১৬৯ তম হতো। যার মানে পৃথিবীর ২৫ টি স্বতন্ত্র দেশ রয়েছে যাদের আয়তন বরগুনার থেকেও কম।

বাংলাদেশের মধ্যে বরগুনার অবস্থান 
বরিশাল বিভাগ 
বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরগুনার অবস্থান
৫. বরগুনার জনসংখ্যা: বরগুনাতে প্রায় ০.৮৯২ মিলিয়ন বা ৮ লাখ ৯২ হাজার লোক বসবাস করে যা বরগুনাকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের সপ্তম ক্ষুদ্রতম জেলা বানিয়েছে । পৃথিবীর ৩৩ টি স্বতন্ত্র দেশ রয়েছে যাদের জনসংখ্যা বরগুনার চেয়েও কম। বরগুনার প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৪৬০ জন লোক বাস করে।
৬. বরগুনার পুরুষ / মহিলা অনুপাত: বরগুনার পুরুষ মহিলার অনুপাত ১ঃ১.০৪। ২০১১ সালের আদমশুনারী অনুযায়ী পুরষ জনসংখ্যা ৪,৩৭,৪১৩ জন এবং মহিলা জনসংখ্যা ৪,৫৫,৩৬৮ জন।

৭. বরগুনা একসময় পুরোপুরি সুন্দরবনে ছিল: এই জেলার পুরো অঞ্চলটি একদিন সুন্দরবন অঞ্চলে ছিল । কালের বিবর্তনে মানুষ ধীরে ধীরে সুন্দরবন কাটা শুরু করে এবং বর্তমান স্থানে জনসংখ্যা সৃষ্টি করতে শুরু করে।
৮. বরগুনার উপজেলা, ইউনিয়ন এবং পৌরসভা সংখ্যা: বরগুনা জেলার ৬ টি উপজেলা, ৪ টি পৌরসভা এবং ৪২ টি ইউনিয়ন রয়েছে।
৯. বরগুনার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব: বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী অধ্যাপক সৈয়দ ফজলুল হক (জন্ম ১৯২০-মৃত্যু ২০০৫) এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে অসহযোগ আন্দোলনে বরগুনা জেলায় বিশেষ ভূমিকা পালনকারী শাহজাদা আবদুল মালেক খানের জন্ম (জন্ম ১৯২৫-মৃত্যু ২০০৭) বরগুনা জেলাতেই।

অধ্যাপক সৈয়দ ফজলুল হক 
শাহজাদা আবদুল মালেক খান
১০. বরগুনার জনপ্রিয় খাবার: বরগুনা জেলা নারিকেল ও সুপারির জন্য বিখ্যাত।এছাড়াও বরগুনার বিখ্যাত খাবার -চুইয়া পিঠা, চ্যাবা পিঠা, মুইট্টা পিঠা, আল্লান, বিসকি, তালের মোরব্বা, শিরনি, নারিকেলের সুরুয়া, চালের রুটি, মাছ, মিষ্টি।

নারিকেল 
সুপারি 
চুইয়া পিঠা 
মুইট্টা পিঠা 
বিসকি 
তালের মোরব্বা 
বরগুনার মিষ্টি 
চালের রুটি 
ঈলিশ মাছ 
শিরনি


One thought on “বরগুনা জেলা সম্পর্কে ১০ টি আকর্ষণীয় তথ্য”