২০১৬ সাল!
নিরীক্ষা কাজের জন্য আমি আর আসিফ লালমনিরহাট গিয়েছিলাম। আমি বুঝতে পেরেছিলাম ওটা হয়তোবা লালমনিরহাটে করা আমার সিএ লাইফের শেষ ভ্রমণ হতে চলেছে। আর তাই লালমনিরহাট নিরীক্ষা খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো রংপুর জেলাটাকে ঘুরে দেখবো। কাজের যথেষ্ট চাপ থাকার কারণে আমাদের নিরীক্ষা কাজের প্রথম দুদিন ভ্রমন করার চিন্তাই করতে পারিনি। অবশেষে ৪র্থ দিন লালমনিরহাট থেকে রংপুর ভ্রমণ করার পরিকল্পনা নিয়েই নিলাম।

To find this travel blog in English click the link below: https://iamnrdurjoy.wordpress.com/2020/11/18/nrds-tour-031-inenglish

দিনটি ছিল ৩০ আগস্ট ২০১৬ তারিখের একটি রৌদ্দোজ্জল দিন যেদিন আমি রংপুরের কিছু দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করেছিলাম। লালমনিরহাট সদর থেকে খুব সকাল সকালই আমরা তাজহাট জমিদার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিলাম এবং ঠিক ভরদুপুরে গিয়ে পৌছেছিলাম। প্রায় ৬০ টাকা করে আমরা দুজন ১২০ টাকা খরচ করে লোকাল বাস দিয়ে রংপুরে পৌছেছিলাম। বলে রাখা ভালো লালমনিরহাট থেকে রংপুর ভ্রমন করার জন্য এ লোকাল বাসগুলোই ব্যবহার করা হয়। লালমনিরহাট থেকে রংপুর প্রায় ৩৬ কিলোমিটার। রংপুর সদর থেকে তাজহাট জমিদার বাড়ি প্রায় ৫.৬ কিলোমিটার। প্রখর রোদের কারণে ঐদিন খুব তাপ অনুভব হচ্ছিলো। কিন্তু আমার ভ্রমন উত্তেজনা যেন কোন অংশেই কম ছিলো না।

তাজহাট জমিদার বাড়িটি রংপুর সদরে অবস্থিত বিদায় খুব সহজেই পৌছে গিয়েছিলাম। রংপুর সদরে পৌছার পর আমরা একটি লোকাল রিক্সা ভাড়া করেছিলাম যার সাহায্যে আমরা তাজহাট জমিদার বাড়িতে পৌছেছিলাম। রংপুর জিরো পয়েন্ট থেকে ৩০ টাকা খরচ করে রিক্সা দিয়ে তাজহাট জমিদার বাড়ি পৌছেছিলাম। তাজহাট জমিদার বাড়িতে ঢুকার পূর্বে আমরা হালকা কিছু নাস্তা সেরে নিলাম। হালকা নাস্তা করার পর ঠিক ১২ টা ৩০ মিনিটে আমরা তাজহাট জমিদার বাড়িতে ঢুকলাম।
তাজহাট জমিদার বাড়িতে ঢুকার পর কিছু সময়ের জন্য যেন আমি অতীতে ফিরে গিয়েছিলাম। একটি সময় মনে হচ্ছিলো তাজহাট জমিদার বাড়িটির প্রবেশ পথের নারিকেল গাছগুলা আমাদের তাজহাটে স্বাগত জানাচ্ছে। সত্যিই আমি যেন হারিয়ে গিয়েছিলাম ২০ শতকের প্রথম দিকে।

তাজহাট জমিদার বাড়িটি ইউরোপিয়ানদের নকশার আদলে তৈরি করা হয়েছিলো। কথিত আছে মহারাজা কুমার গোপাল লাল রায় এ প্যালেসটি নির্মাণ করেন যা নির্মাণে সময় লেগেছিলো প্রায় ১০ বছর। মহারাজা গোপাল রায় ছিলেন হিন্দু এবং পেশায় ছিলেন একজন স্বর্ণকার। অনেকের মতে, তার মনমুগ্ধকর ‘তাজ’ বা মুকুটের কারণেই এ এলাকা তাজহাট নামে পরিচিত হয়ে আসছে। আমি আসলে জমিদার বাড়িটি দেখে খুব আনন্দ এবং শিহরণ অনুভব করছিলাম। আমরা দুজন ৪০ টাকা করে ৮০ টাকায় দুটি টিকেট কিনেছিলাম। যেহেতু আমি ফটো তুলতে খুব পছন্দ করি তাই এই ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িটিতে ফটো তুলার লোভ সামলাতে পারলাম না।
তাজহাট জমিদার বাড়িটির ‘U’ আকৃতির জন্য এটাকে সত্যিই একটি জীবন্ত রাজ্যের মত দেখায়। বিভিন্ন প্রকার বাহারি ফুলের বাগান যেন তাজহাটকে প্রকৃতির রাণী বানিয়েছে। অনেক তাপ থাকার পরও ফুলের স্পর্শ যেন আমার ভিতরের মানুষকে আরো জীবন্ত তুলে করেছিলো। তাজহাট জমিদার বাড়ির ভিতরে রয়েছে একটি জাদুঘর যেখানে জমিদারদের ব্যবহার করা বিভিন্ন ধরণের জিনিস দেখা যায়। প্যালেসটির এক একটি জিনিস এক একটি ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে আছে। আমি আসলে জমিদার বাড়িটির ভিতরে কোন ছবি তুলতে পারিনি। কারণ জাদুঘরের ভিতরে কোন ছবি তুলার অনুমতি নেই। কিন্তু তাজহাট জমিদার বাড়িটির ভিতর এবং বাহিরের এমন কোন জায়গা বাদ ছিলো না যা আমি দেখি নি।
আজ প্রায় সাড়ে চার বছর হয়ে গেছে আমার তাজহাট জমিদার বাড়িটি ঘুরার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাজহাট জমিদার বাড়ি ভ্রমন করার স্মৃতি আমাকে বিমোহিত করে। সুযোগ পেলে আবারো তাজহাট জমিদার বাড়িটিতে যাবো এবং আবার এর সৌন্দর্য করবো।
















One thought on “রংপুরের তাজহাট জমিদার বাড়ি ভ্রমণ (২০১৬) | NRD’s Tour 031”