প্রথম ছেকা খেয়েছি স্কুলজীবনে ক্লাস নাইনে। আসল ছেকাটা খেয়েছিলাম অনার্স ৩য় বর্ষে। যেই ছেকা খেয়ে আমি পুরোই বাঁকা হওয়ার উপক্রম। বাবা মা সবাই কে ছেড়ে ৩ বন্ধুকে নিয়ে হাওয়া ই হয়ে গিয়েছিলাম। টাকা-পয়সা যেকদিন ছিলো ঐ কদিন মনে হচ্ছিলো এ জীবনে আর ফিরবো না, কোন একটা কাজ জুটিয়ে ঘুরে ফিরেই জীবন পার করবো। টাকা শেষ হতেই মত পরিবর্তন। ৪ জন মিলে সোজা বাড়ীর পথে রওনা। মা তো আমাকে পেয়ে মনে হল মেলায় হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে খুজে পেয়েছিলো আর ছোট বোনটা যে কিনা ঝগড়া ছাড়া কিছু বুঝতো না সে কিনা আমাকে পেয়ে খুশিতে কান্নাকাটি করে বাড়ী মাথায় তুললো। আর আমার বেরসিক বাবা বললেন,” জানতাম! টাকা ফুরালেই বাপের কথা মনে পরবে!” ঐ বছর আর পড়ালেখা হলোনা। দেবদাস হয়ে পার করে দিলাম ১বছর। তারপর মনে হল নাহ এভাবে হবে না। জীবনটাকে নিয়ে ভাবতে হবে। সবকিছু ভুলে পড়ালেখা শুরু। আর মেয়ে মানেই আমার কাছে “আঙ্গুর ফল টক!”, মেয়ে মানেই বিশ্বাসঘাতিনী। শপথ নিলাম এজীবনে চিরকুমার থাকবো।
এত ঝুটঝামেলায় গ্রাজুয়েশনটা শেষ করলাম কোনরকমে। বাবা এবার একটু স্বস্তি পেলেন। নাহ ছেলেটা তার গোল্লায় যায়নি।
মোটামুটি সেলারীর জব করি। দেখতে-শুনতেও খারাপ না। চাইলে এতদিন বিশ্বপ্রেমিক হয়ে যেতে পারতাম কিন্তু ঐসব লুতুপুতু প্রেমে আমি আর নাই।
এদিকে বন্ধুমহলে চিরকুমার উপাধী পেলেও ইদানিং বিয়ের জন্য পাত্রী খুজছি। মুখে যতই বলি না কেন,চিরকুমার থাকা সত্যি কঠিন। কিন্তু মনের মত মেয়ে পাওয়া এখন আমার কাছে অসম্ভব ই মনে হচ্ছে।
এ পর্যন্ত যাদের সাথে কথা বলেছি কাউকেই বেশী সুবিধার মনে হলোনা। এদিকে মা পাত্রী খুজছে। কিন্তু এরেন্জ ম্যারেজে আমি একদম নারাজ! চিনবো, জানবো,মনের মিল হবে তারপর না বিয়ের প্রশ্ন!
একদিকে পাত্রী খোজা আরেক দিকে চাকরী! ভালোই ব্যস্ত দিন যাচ্ছিলো। খুজতে খুজতে হয়রাণ হয়ে এবার সিদ্ধান্ত নিলাম সত্যি চিরকুমার হবো। বিয়ে -টিয়ে বাদ।
প্রতিদিনের মত বাসে ঝুলে ঝুলে অফিস যাচ্ছি। ভীড়ের মধ্য থেকে এক মেয়ে আমাকে হালকা ধাক্কা দিয়ে বললো “এই যে ভাইয়া সাইড দেন তো!”
ওহ মাই গড! মানুষ এত সুন্দর কিভাবে হয়!(মনে মনে ভাবছি)
একটু সরে দাড়ালাম,মেয়েটি মহিলা সিটে বসলো।আমাকে আড়চোখে দেখছে আর একটু একটু হাসছে। ব্যাপার কি! উনি হাসছে কেন?
মেয়েটির আগেই নেমে গেলাম । নাম ও জানলাম না কিছুই জানা হলোনা। এদিকে নিজেকে নিজে স্বান্ত্বনা দেই আমি তো চিরকুমার থাকবো!
বাসায় ফিরে দেখি সেই মেয়ে আমার বাসায় ড্রয়িংরুমে বসা! তাজ্জব ব্যপার! কাহিনী কি!
জানতে পারলাম আজ আমি আমার পরিচয়পত্র টা বাসে ফেলে এসেছিলাম ভুল করে। আমার দরকারী কিছু কাগজপত্রের খামের সাথে গতকাল তুলে আনা পরিচয়পত্রটাও ছিলো। খাম গুলো রেখেই নেমে পরেছি তারাহুরায়।ভাগ্যিস মেয়েটি পেয়েছে! নিজে এসে দিয়ে গেলো।থ্যাংকস টুকু বলতে পারলামনা,আমাকে দেখেই তারহুরায় চলো গেলো।
৪/৫দিন পর আবার দেখা হলো বাসস্ট্যান্ডেই।আজ টুকটাক কথা হলো। উনি এদিকেই জব করে। ধন্যবাদ জানাতেই মুচকি হাসলেন। হাসিটাও যাহ সুন্দর! মনে হচ্ছে আবার জীবনে ছেকা খাওয়ার সময় এসে গেছে। ফোন নাম্বার নেয়ার সাহস পেলামনা।
তারপর অনেক খুজলাম, দেখা হলোনা,মা বিয়ে নিয়ে উঠে পরে লেগেছে। সবার কথা রাখতে অনিচ্ছাসত্তে এ্যরেন্জ ম্যারেজে রাজি হলাম।
বিয়ে ঠিক হলো,পাত্রী মায়ের পছন্দের।
বিয়ের দিন, চিরকুমার সাজ ছেড়ে বরের বেশে আমি! বরযাত্রীর গাড়ী সেই বাসস্ট্যান্ড পার হচ্ছে হঠাৎ সেই মেয়েটাকে দেখলাম! বাসের জন্য দাড়িয়ে আছেন হয়তো।
গ্লাস নামাতেই আমার চোখে ওনার চোখ পরলো।উনি মুচকি হাসলেন! কেন হাসলেন?
আচ্ছা মেয়েরা এত নিষ্ঠুর কেন!!!
0