একটা মেয়ে ছিল নীরব আকাশের মতো,
চোখে তার লুকানো হাজার কথা আর মনে লুকানো ব্যাথা।
একটা ছেলের হাসি ছিল তার ভোরের আলো,
সেই হাসিতেই খুঁজে পেত সে পুরো পৃথিবীর ভালো।
ছেলেটি ছিল বড্ড অবুঝ আর ভোলা,
হৃদয়ের দুয়ারটি ছিল না তো খোলা।
ভেবেছিল মেয়েটি তাকে বোঝে না বুঝি,
মায়ার বদলে যেনো সে রূঢ়তাই খুঁজি।
ছেলেটার প্রতিটা কথা
মেয়েটির হৃদয়ে বাজত সুরে,
তবু বলতে পারত না সে—
“তোমাকেই চাই ভীষণ এ মনের গভীরে।
নীরব এই ভালোবাসা, চাঁদের মতো লুকানো,
হৃদয়ের গহীনে একাকী স্বপ্ন বোনা।
চোখে চোখে কত গল্প জমে রাতের শেষে,
তবু বলা হয় না—
“তুমি আছো আমার হৃদয়ের দেশে।”
ছেলেটাও তাকে ভালোবাসত অনেক,
কিন্তু ছিল সে একলা পথের যাত্রী।
মেয়েটার নীরব ভাষা বুঝতে পারত না,
ভেবেছিল মনে তার কেবলই অমানিশা রাত্রি।
তাই মাঝে মাঝে রুক্ষ কথায়,
ভাঙত সে নীরবতার দেয়াল।
ভাবত এতে হয়তো,
খুলে যাবে মেয়েটার মনের জাল।

যখনই সে রুক্ষ স্বরে বলতো কথা,
মেয়েটির চোখের জলে মনে হতো ব্যাথা।
একাকী রাতের আঁধারে সে কাঁদত বসে,
হৃদয়টা ভেঙে যেত অভিমানে ফেঁসে।
তবুও সে ভালোবাসত আগলে রেখে—
শত আঘাত সয়েও হাসত তাকে ভেবে।
নীরব এই ভালোবাসা, চাঁদের মতো লুকানো,
হৃদয়ের গহীনে একাকী স্বপ্ন বোনা।
যখনই ছেলেটা কঠিন হতো,
মেয়েটা কেমন যেন চুপ করে যেতো।
চোখে তার জমতো জলে,
ভেতরে মেঘ জমলেও;
বাইরে ছিল সে অটল ।
রাতের নীরব ঘরে বসে,
চাঁদের আলোয় ভাঙত মন।
কারণ সে তাকে ভালোবাসতো,
সব কষ্ট নিয়েও প্রতিটাক্ষণ।
ভালোবাসার অদ্ভুত এক অমোঘ টান,
প্রিয়জনের আঘাতেও কাঁদে না সে প্রাণ—
বরং সেই আঘাতও সয় নীরবে মুখ বুজে,
সবটুকু সান্ত্বনা তার বুকের মাঝেই খোঁজে।

নীরব এই ভালোবাসা, চাঁদের মতো লুকানো,
হৃদয়ের গহীনে একাকী স্বপ্ন বোনা।
ভালোবাসা এমনই এক রহস্য,
কখনো কথা বলে না মুখে।
তবু হৃদয়ের গভীর সুরে;
লিখে যায় অমলিন সুখে।
একদিন হয়তো সে বলবে—
কাঁপা কণ্ঠে ধরা প্রাণ,
আমি তোমায় অনেক আগে থেকেই ,
হৃদয়ে দিয়েছি বড় স্থান |
বড্ড দেরি হয়ে যাবে কি সেই প্রহরে?
শুকিয়ে কি যাবে জল চোখের নহরে?
তবুও হৃদয় বলে ভালোবাসা অমর—
ব্যথাগুলো জমে থাক মেঘের ওপর।
নীরব এই ভালোবাসা, চাঁদের মতো লুকানো,
হৃদয়ের গহীনে একাকী স্বপ্ন বোনা।

চোখে চোখে কত গল্প জমে রাতের শেষে,
তবু বলা হয় না—
“তুমি আছো আমার হৃদয়ের দেশে।”

Leave a comment