মরুর বুকে জাগে আবার ঈমানি জোয়ার,
ধুয়ে মুছে যায় কাদা, নামে রহমতের ধার।
জেরুজালেমের আকাশে বাজে বিজয়ের তান—
আইয়ুবীর পতাকায় বাঁচে পুরো উম্মাহর মান।
বিদীর্ণ আকাশ, আর্তনাদ আর ক্রুসেডারের ত্রাস,
বিপর্যস্ত জেরুজালেমে বইছিলো দীর্ঘশ্বাস।
ফাতিমিদের জীর্ণ ভিটায় যখন আঁধার নামে,
এক নক্ষত্র জন্ম নিল সালাউদ্দিন নামে।
ঝড়ের রাতে জন্ম নেয় সেই জাগ্রত আলোর দীপ,
ছিন্নভিন্ন উম্মাহ যখন খুঁজেফেরে তাদের প্রদীপ।
নাজিমুদ্দিনের যোগ্য তনয়, নূরুদ্দিনের আলো,
নিজের প্রবল ইচ্ছা শক্তি আর ঈমানে যে পুরো উম্মাহকে বাঁধলো।
হিত্তিনের সেই তপ্ত প্রান্তর, ঘোড়ার খুরের ধ্বনি,
বিজয়ীর বেশে ফিরে এলো সোনালী সেই খনি।
একাদশ শতাব্দীর রক্তগঙ্গা; মুছল ক্ষমার টানে,
উদারতা কাকে বলে, তা দেখলো বিশ্বজনে।
মরুর বুকে জাগে আবার ঈমানি জোয়ার,
ধুয়ে মুছে যায় কাদা, নামে রহমতের ধার।
রিচার্ডও আজ অবাক মানেন দেখে সিংহের হাসি,
তলোয়ার নয়, ইনসাফ দিয়ে কাটেন গলার ফাঁসি।
নারীর ইজ্জত, শিশুর জীবন, অমুসলিমের মান—
বিজয়ী সালাহউদ্দিন ছিলেন মানবতারই গান।
কুরআনি শাসন, বিনয়ী জীবন, হাফেজে কুরআন তিনি,
রাজপ্রাসাদেও অনাড়ম্বর, বীরত্বেই তাকে চিনি।

মাদ্রাসা আর খানকাহ গড়ে জ্ঞানের মশাল জ্বালা,
সুন্নাহর সেই পুনর্জাগরণ—এক শান্তির মালা।
মরুর বুকে জাগে আবার ঈমানি জোয়ার,
ধুয়ে মুছে যায় কাদা, নামে রহমতের ধার।
কায়রো আর দামেস্কে জ্বলে শিক্ষার দীপ,
মাদ্রাসা আর খানকাহে জাগে জ্ঞানের নীরব স্রোতসীপ।
আল গাজ্জালি-এর বাণী বাজে হৃদয়ের গভীর তানে,
সুন্নি চেতনার জাগরণ ছড়িয়ে পড়ে পুরো দিগন্তে।
কুর্দি বীরের অটল পাহাড়ে বাধা পায় সব ঢেউ,
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ডরায়নি কভু কেউ।
কায়রোর সেই দুর্গ আজও শোনায় জয়ের গান,
ফিলিস্তিনের প্রতিটি ধূলিকণায় তাঁরই ঘ্রাণ।

আজও যখন আঁধার নামে উম্মাহর আঙিনায়,
আইয়ুবী সেই চেতনা খুঁজি প্রতিটি দোয়ায়।
ফিরে এসো ফের সেই হুংকারে, সেই একতার টানে—
সালাহউদ্দিনের রক্ত যেন বাজে প্রতিটি প্রাণে।
মরুর বুকে জাগে আবার ঈমানি জোয়ার,
ধুয়ে মুছে যায় কাদা, নামে রহমতের ধার।
জেরুজালেমের আকাশে বাজে বিজয়ের তান—
আইয়ুবীর পতাকায় বাঁচে পুরো উম্মাহর মান।


Leave a comment