মরুর তপ্ত বালুকারাশিতে বিশ্বাসের এক স্তম্ভ,
খেলাফায়ে রাশেদীন যেন এক মহাকাব্যের আরম্ভ।
যে আলোর মিছিলে ছিল না কোনো ভোগ-বিলাস,
ইনসাফ আর ত্যাগে গড়া এক অবিনাশী ইতিহাস।
শোকের মেঘে যখন আরব দিশেহারা ও বিহ্বল,
আবু বকর দাঁড়িয়েছিলেন পাহাড়ের মতো অটল।
ভণ্ডতার অন্ধকারে সত্যের শপথ রাখেন,
যাকাতের পথে ন্যায় রেখে দ্বীনের মান বাঁচান।
কুরআনের অমর বাণী একত্র করলেন তিনি,
ভবিষ্যতের জন্য রেখে গেলেন নূরের সেই ধ্বনি।
“ভুল করলে দিও শুধরে”—এ কী মহান বানী,
সিদ্দিক ছিল যার নাম, সত্যের এক আলোকতরণী।
মরুর তপ্ত বালুকারাশিতে বিশ্বাসের এক স্তম্ভ,
খেলাফায়ে রাশেদীন যেন এক মহাকাব্যের আরম্ভ।
অর্ধ-জাহান কাঁপতো যাঁর তকবিরের হুঙ্কারে,
সেই ওমরের তালি দেওয়া জামা কি দেখা যায় এ সংসারে?

পারস্য-রোম ধুলোয় মিশলো যাঁর দূরদর্শী চালে,
জেরুজালেম পেল মুক্তি তাঁরই ন্যায়ের ডালে।
ওমর যখন ন্যায়ের তলোয়ার হাতে দাঁড়ান দৃঢ় মনে,
রাজা হয়েও হাঁটেন তিনি সাধারণের সনে।
ছেঁড়া কাপড় গায়ে তবু অর্ধ পৃথিবীর শাসন,
তাঁর হাতে গড়ে ওঠে ন্যায়ের নতুন ভাষণ।
মরুর তপ্ত বালুকারাশিতে বিশ্বাসের এক স্তম্ভ,
খেলাফায়ে রাশেদীন যেন এক মহাকাব্যের আরম্ভ।
ওসমানের লাজুক হৃদয় ভরা উদারতার ঢেউ,
সম্পদের সাগরেও ছিলেন বিনয়ী তিনি নেহাত ঢেউ।
মুসহাফ-ই-ওসমানি গড়ে দিলেন ঐক্যের এক সুর,
কুরআনের সেই অমর পাণ্ডুলিপিতে আঁধার হলো দূর।
বিনয় ও লজ্জার ভূষণে ওসমানের নূরানী কায়া,
নিজের অর্থে পিপাসা মেটালেন, ছড়িয়ে রহমতের ছায়া।
তরবারি না তুলে সহ্য করলেন মৃত্যুর পথ,
শহীদের রক্তে লেখা ধৈর্যের অমর রথ।

মরুর তপ্ত বালুকারাশিতে বিশ্বাসের এক স্তম্ভ,
খেলাফায়ে রাশেদীন যেন এক মহাকাব্যের আরম্ভ।
জ্ঞানের নগরীর সিংহ-দুয়ার, বীরত্বের সেই খাইবার,
হায়দার-ই-কাররার আলী, প্রজ্ঞায় যিনি অজেয় বারবার।
হিজরতের রাতে জীবন রেখে রাসূলের বিছানায়,
সাহস আর প্রজ্ঞা মিলল তাঁর মহান ছায়ায়।
“অজ্ঞতা হলো চরম দারিদ্র্য”—আলী শিখিয়ে দিলেন পথ,
জ্ঞানের আলোয় চললো রে এগিয়ে ইসলামের জয়রথ।
ক্ষমতা যেখানে আমানত কেবল, মানুষের সেবা পরম,
মদিনার ধুলো থেকে জ্বলা আলো আজও নিখিলের মরম।
আজকের এই অস্থির ধরাধামে যদি খুঁজি সমাধান,
রাশেদীন খলিফাদের জীবনই হোক আমাদের সংবিধান।

মরুর তপ্ত বালুকারাশিতে বিশ্বাসের এক স্তম্ভ,
খেলাফায়ে রাশেদীন যেন এক মহাকাব্যের আরম্ভ।
যে আলোর মিছিলে ছিল না কোনো ভোগ-বিলাস,
ইনসাফ আর ত্যাগে গড়া এক অবিনাশী ইতিহাস।

Leave a comment