পানিপথের প্রান্তরে ওঠে ধুলোঝড়ের গান,
ফরগনার এক তরুণ আনে নতুন দিগন্তের টান।
বারুদের গন্ধে জাগে ইতিহাসের মান,
সেই দিনই বপন হয় মুঘল নামের প্রাণ।
এ যে মুঘলনামা— রক্তে লেখা এক মহাকাব্য,
পাথর যেখানে কথা কয়, স্থাপত্যে জাগে আভিজাত্য।
শৌর্য-বীর্য, শিল্প-কলায়, হিন্দুস্তানের ধূলিকণায়,
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত— মুঘল স্মৃতি আজও শিহরায়।
বাবর—হারানো স্বপ্ন বুকে নিয়ে এলেন দূর দেশ,
রণকৌশল আর অদম্য জেদ—এটাই ছিল অবশেষ।
ছোট্ট বাহিনী, কিন্তু সাহস পাহাড়সম দৃঢ়,
একটি বিজয়ে খুলে গেল সাম্রাজ্যের সিঁড়ি সুদৃঢ়।
হুমায়ুন হারালেন সিংহাসন, তবু হার মানেননি প্রাণ,
প্রবাস শেষে ফিরে এলেন—জয় করলেন সম্মান।
হাল না ছাড়া রক্তে তখন লিখল নতুন বাণী,
মুঘল সূর্যের আলো ছড়ানো দেখলো জগতখানি।

মুঘল, মুঘল—এক ইতিহাসের গান,
তলোয়ারে যেমন শক্তি, তেমনি শিল্পে সম্মান।
উত্থান-পতনের মাঝে অমর যে পরিচয়,
ভারতের মাটিতে আজও তারাই ছেয়ে রয়।
আকবর গড়ল ঐক্যের সেতু, দীন-ই-ইলাহির তপ্ত তলে,
পারস্য আর ভারতীয় সুর, এক হয়ে মিশল গঙ্গা-জলে।
উর্দু ভাষার কলতান আর— চিত্রকলায় রঙের খেলা,
শাহজাহান যে পাথরে লিখল, অমর প্রেমের মেলা।

শাহজাদাদের রক্তে রঞ্জিত সিংহাসন,
ভ্রাতৃঘাতী দ্বন্দ্বে হারাল তাদের নৈতিক মন।
বিলাসের নেশায় ভুলে গেল আদর্শের ডাক,
ভেতর থেকে ভাঙল সাম্রাজ্যের ফাঁক।
আওরঙ্গজেব—ধর্মচেতনার দৃঢ় এক সুর,
রাজমুকুট ছাপিয়ে ছিল তার অন্তরের নূর।
টুপি সেলাই, কুরআন লেখা করতো নিজের হাতে,
সম্রাট হয়েও সাদামাটা জীবন, স্বপ্ন রাজ্য জয়ে।
সাম্রাজ্যের সীমানা ছুঁল সর্বোচ্চ স্থান,
দাক্ষিণাত্যের পথে ছিল দীর্ঘ সংগ্রাম।
কঠোর নীতি আর অবিরাম যুদ্ধের দাম,
ভিত নড়ে গেল ধীরে—ক্লান্ত হল অবসান।
মুঘল, মুঘল—এক ইতিহাসের গান,
তলোয়ারে যেমন শক্তি, তেমনি শিল্পে সম্মান।
তবু মুঘল গেছে, স্মৃতি যায়নি হারিয়ে,
দিল্লির মিনারে আজও আজান ভাসে স্বগৌরবে।
জামে মসজিদ দাঁড়িয়ে আছে আভিজাত্যের মান,
আগ্রার কেল্লা জানে অতীতের সম্মান।
সূফী দরবারে জ্বলে সেই পুরোনো আলো,
ইসলামের বাণী ছড়ায়, মুছে অন্তরের সব কালো।
মুঘল মানে শুধু রাজ্য নয়—এক সংস্কৃতি, এক রঙ,
পাথরে খোদাই অমর কাব্য, ইতিহাসের রাজকীয় ঢং।
এ মাটি তাদের, তারা এ মাটির, মিশে আছে সব ধূলিকণায়,
মুঘল মানেই এক ইতিহাস— যা হারায় না কোনো মহাকালের সীমানায়।

মুঘল, মুঘল—এক ইতিহাসের গান,
তলোয়ারে যেমন শক্তি, তেমনি শিল্পে সম্মান।
উত্থান-পতনের মাঝে অমর যে পরিচয়,
ভারতের মাটিতে আজও তারাই ছেয়ে রয়।

Leave a comment