কায়ি গোত্রের সেই নিশান ওড়ে আকাশপানে আজ,
ঘোড়ার খুরে কাঁপছে ধরা, মাথায় শাহী তাজ।
অদম্য ঈমান বুকে, হাতে তলোয়ার,
ইনসাফ কায়েমে জাগলো তুর্কীরা বীরের হুঙ্কার।
যাযাবর সেই তাবু থেকে স্বপ্নের শুরু হয়,
আর্তুগ্রুলের দূরদর্শিতা বিশ্ব জয়ের ভয়।
উসমান গাজীর স্বপ্নে সেই বিশাল বৃক্ষ দোলে,
তিন মহাদেশ ছুঁয়ে তার ডালপালা আকাশ তোলে।
রাজ্য জয়-ই নয়, ছিল সাথে ন্যায়ের অঙ্গীকার,
ইনসাফের নামে উঠেছিল এক সাম্রাজ্যের মিনার।
ছোট্ট এক গোত্র থেকে ইতিহাসের মান,
ঈমানের আগুনে গড়া—উসমানীয় প্রাণ।

উসমানী স্বপ্ন, রক্তে লেখা গান,
ঘোড়ার ক্ষুরে জেগে ওঠে নতুন এক দিগন্ত ভোরের টান।
ধ্বংসের ভেতর থেকেও উঠে দাঁড়ায় যে প্রাণ—
তার নাম তুরস্ক, তার নাম উসমান।
অসম্ভবকে সম্ভব করে আল-ফাতিহ বীর,
সমুদ্রের বুকে জাহাজ চালায়, লক্ষ্য যে সুস্থির।
রাসুলের সেই সুসংবাদ—বাস্তবে রূপ পেল,
রোমের প্রাচীর চূর্ণ করে সত্যের দীপ জ্বলল।
দৃঢ়তা যাদের রক্তে মিশে, বিজয় তাদেরই হয়,
কন্সটানটিনোপল আজ ইস্তাম্বুল—এক বিজয়ের পরিচয়।
সেলিম -এর হাতে পতাকা উড়ে দিগন্ত জুড়ে,
খেলাফতের মর্যাদা এল নতুন একটি সুরে।
কানুনী সুলেমান আইন লিখলেন ন্যায়ের কলমে,
কানুনির শাসন বিশ্ব মানল বিরল সম্মানে।
তলোয়ারে শক্তি, নৌবহরে গর্জন,
স্থাপত্যে গড়ল তারা স্বর্ণালি স্পন্দন।

খাদেমুল হারামাইন—ছিল গৌরবের প্রাণ,
মক্কা-মদিনার সেবায় মাথা নত সুলতান।
হঠাৎ কেন নামলো আঁধার? শিকড় ছিঁড়ে যায়,
ষড়যন্ত্রের বিষবাষ্পে গৌরব লুপ্ত প্রায়।
নিজ সত্তা ভুলে গিয়ে আধুনিকতার মোহে,
বিচ্যুত হলো বীর জাতিরা সময়ের বিদ্রোহে।
মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক-এর নতুন প্রভাতে বদলালো দেশ,
খেলাফতের অধ্যায় হল নিঃশ্বাসহীন শেষ।
আজান থেমে ছিল, হরফ বদলাল সুর,
ইতিহাস কাঁদল নীরব—ভাঙল বহু গুরুর নূর।
উসমানী স্বপ্ন, রক্তে লেখা গান,
ঘোড়ার ক্ষুরে জেগে ওঠে নতুন এক দিগন্ত ভোরের টান।

ছাই থেকে ফের উড়ছে ফিনিক্স, জাগছে তুর্কী প্রাণ,
পূর্বপুরুষের রক্তে জাগলো ‘উসমানী মেজাজ’ টান।
আয়া সোফিয়ার মিনারে আজ ধ্বনিত হয় সে সুর,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে তুরস্ক আজ লড়ছে সুপ্রচুর।
বিশ্বসভায় মাথা উঁচু ফের—বিজয় নিশান ওড়ে,
ইতিহাস আবার ফিরছে দেখো, নতুনেরই তোড়ে।
উসমানী স্বপ্ন, রক্তে লেখা গান,
ঘোড়ার ক্ষুরে জেগে ওঠে নতুন এক দিগন্ত ভোরের টান।
ধ্বংসের ভেতর থেকেও উঠে দাঁড়ায় যে প্রাণ—
তার নাম তুরস্ক, তার নাম উসমান।

Leave a comment