ও পারস্য, অদম্য আগুনে গড়া তোমার প্রাণ,
ধ্বংসস্তূপ ছুঁয়ে জেগে ওঠো বারবার অবিরাম।
হাজার বছরের ইতিহাস তোমার রক্তে লেখা গান,
ফিনিক্স হয়ে ফিরেছো তুমি—অমর ইরান।
যখন মরুর বুকে উঠল এক স্বপ্নের নগর,
সাইরাসের হাতে জাগল মানবতার প্রভাতঘর।
তলোয়ারের চেয়ে বড় ছিল তার ন্যায়ের ঘোষণা,
ধর্মে দিলেন স্বাধীনতা—ভাঙলেন ভয়ের শৃঙ্খলা।
রয়্যাল রোডে ছুটে যেত সাম্রাজ্যের দূত,
চল্লিশ ভাগ পৃথিবী ছিল এক পতাকার সুত।
হখামনিশীয় শক্তি, দূরদর্শিতার মান,
ইতিহাসে লিখে গেল এক মহাকাব্যের গান।

ও পারস্য, অদম্য আগুনে গড়া তোমার প্রাণ…
ধ্বংসস্তূপ ছুঁয়ে জেগে ওঠো বারবার অবিরাম।
সপ্তম শতাব্দীর ঝড়ে বদলালো দিগন্ত,
আরবের আহ্বানে এলো ইসলামের সুবন্ত।
কিন্তু ফার্সির সুর থামেনি কোনোদিন,
নিজস্ব রঙে রাঙালে তুমি বিশ্বাসের দিন।
জ্ঞান আর দর্শনের স্বর্ণালি সেই সময়,
ইবনে সিনা, গাজ্জালির চিন্তায় বিশ্বময়।

ইসলাম পেল যুক্তির দীপ, চিন্তার নতুন জানালা,
পারস্য তখন লিখছে জ্ঞানের অমলিন রূপকথা।
ও পারস্য, অদম্য আগুনে গড়া তোমার প্রাণ…
ধ্বংসস্তূপ ছুঁয়ে জেগে ওঠো বারবার অবিরাম।
পনেরোশো একে উঠল নতুন এক ডাক,
শিয়া পরিচয়ে গড়ল তারা আলাদা এক পথ।
ইসফাহান—অর্ধ-জাহান, শিল্পের রঙিন স্বপ্ন,
মসজিদের নীল গম্বুজে ইতিহাসের স্পন্দন।
ধর্মে, রাজনীতিতে গড়ল নিজস্ব স্থান,
অটোমানের পাশে দাঁড়িয়ে বলল—“আমরাই ইরান।”
ঐক্যের ভিত মজবুত হল নতুন করে,
জাতির আত্মা দাঁড়াল দৃঢ়, অবিচল স্বরে।
ও পারস্য, অদম্য আগুনে গড়া তোমার প্রাণ…
ধ্বংসস্তূপ ছুঁয়ে জেগে ওঠো বারবার অবিরাম।
ঊনিশশো ঊনআশি—বিপ্লবের জোয়ার,
রাস্তায় রাস্তায় উঠল নতুন শপথের হুঙ্কার।
নিষেধাজ্ঞার আগুনে ঝলসে গেল আকাশ,
তবু মাথা নত নয়—এটাই তাদের বিশ্বাস।
পারমাণবিক স্বপ্ন, সামরিক দৃঢ়তা,
ভূ-রাজনীতির দাবায় রাখে নিজের গতি-দিশা।

আজও মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে বড় এক নাম,
ধর্ম আর রাজনীতিতে আলোচিত ইরান।
ও পারস্য, অদম্য আগুনে গড়া তোমার প্রাণ,
ফিনিক্স ডানায় লিখে যাও পুনর্জন্মের গান।
সভ্যতার রক্তে বয়ে চলে সাহসের স্রোত,
ইতিহাসের বুকে তুমি—অমর এক প্রতিশ্রুত।
ধ্বংস যতই আসুক, জাগবে আবার প্রাণ,
চিরন্তন পুনর্জন্মের নাম—ইরান।
ও পারস্য, অদম্য আগুনে গড়া তোমার প্রাণ…
ধ্বংসস্তূপ ছুঁয়ে জেগে ওঠো বারবার অবিরাম।

Leave a comment