১. বরিশালের স্থাপনসাল: বরিশাল জেলা ১৭৯৭ সালে স্থাপিত হয়েছিল।
To know about Top twelve interesting facts of Barishal in English click the link below: https://iamnrdurjoy.wordpress.com/2020/12/12/top-twleve-facts-barishal-english/
২. যেভাবে বরিশাল নামটি এসেছে: বরিশালের নামকরণ সম্পর্কে অনেক মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলেন এ অঞ্চলের বড় বড় শালগাছের কারণে (বড়+শাল)= বরিশাল নামটি এসেছে।

আবার কারো কারো মতে, পর্তুগীজ বেরী ও শেলীর প্রেম কাহিনীর জন্য এ অঞ্চলের নাম বরিশাল হয়েছে।

অনেকে ধারণা করেন, এ অঞ্চলের বড় বড় লবণের গোলার জন্য এর নাম হয় বরিশাল। বেশিরভাগ ইতিহাসবিদগণ মনে করেন, গিরদে বন্দরে (গ্রেট বন্দর) ঢাকার নবাবদের বড় বড় লবণের চৌকি ছিল। এ জেলার লবণের বড় বড় চৌকি ও লবণের বড় বড় দানার জন্য ইংরেজ ও পর্তুগীজ বণিকরা এ অঞ্চলকে ‘বরিসল্ট’ বলত। এ বরিসল্ট পরিবর্তিত হয়ে বরিশাল হয়েছে।

৩. বরিশাল জেলার পূর্ব নাম: বরিশাল জেলার পূর্ব নাম বাকেরগঞ্জ। তৎকালীন সময়ের প্রভাবশালী জমিদার আগা বাকের খানের নামানুসারে এ জেলার নামকরণ হয়। ১৮০১ সালের ১লা মে স্যার জন শ্যোর এ জেলার সদর দপ্তর বর্তমানে বরিশাল শহরে স্থানান্তরিত করেন। পরবর্তীতে বরিশাল নামেই এ জেলা পরিচিতি পায়।

প্রাচীন যুগে একে চন্দ্রদীপ বলা হত, অন্যদিকে মধ্যযুগীয় ইসলামিক আমলে এটি ইউরোপে ইসমাইলপুর ও বাকোলা নামেও পরিচিত ছিল। ১৫৮০ সালে রাল্প ফিচ নামের এক ইউরোপীয় ভ্রমণকারী এ এলাকা ঘুরে; এ এলাকাকে তার জার্নালে বাকোলা বলে উল্লেখ করেছেন।
৪.বরিশালের আয়তন: বরিশালর আয়তন ২,৭৮৪.৫২ বর্গ কিঃ মিঃ বা ১,০৭৫ মাইল যা আয়তনে বাংলাদেশের বিশতম জেলা। যদি এটি একটি দেশ হতো তাহলে আকারে ১৬৭ তম হতো। যার মানে পৃথিবীর ২৭ টি স্বতন্ত্র দেশ রয়েছে যাদের আয়তন বরিশালের থেকেও কম।

বাংলাদেশের মধ্যে বরিশাল জেলার অবস্থান 
বরিশাল বিভাগ 
বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরিশাল জেলার অবস্থান
৫. বরিশালের জনসংখ্যা: ২০১১ সালের আদমশুনারী অনুযায়ীবরিশালতে প্রায় ২.৩২৪ মিলিয়ন বা ২৩ লাখ ২৪ হাজার লোক বসবাস করে যা বরিশালকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের বাইশতম জেলা বানিয়েছে । পৃথিবীর ৫৩ টি স্বতন্ত্র দেশ রয়েছে যাদের জনসংখ্যা বরিশালর চেয়েও কম। বরিশালর প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৮৩৪ জন লোক বাস করে।
৬. বরিশালের পুরুষ / মহিলা অনুপাত: বরিশালর পুরুষ মহিলার অনুপাত ১:১.০৪ । ২০১১ সালের আদমশুনারী অনুযায়ী পুরষ জনসংখ্যা ১১,৩৭,২১০ জন এবং মহিলা জনসংখ্যা ১১,৮৭,১০০ জন।
৭. বরিশাল জেলা যে নামে পরিচিত: বরিশাল জেলাকে “প্রাচ্যের ভেনিস” বা “বাংলার ভেনিস” এবং “বাংলার স্বর্গ” বলে ডাকা হয়।

৮. বরিশাল নাম থেকেই “বরিশাল গান” নামের প্রাকৃতিক ঘটনার নাম এসেছে: “বরিশাল গান” বরিশালের নামে একটি প্রাকৃতিক ঘটনা; এটি হ্রদ এবং নদীগুলির নিকটবর্তী পানির মধ্যে শোনা গিয়েছিলো যা মূলত পানির নিচে ভূমিকম্পের ক্রিয়াকলাপের কারণে ঘটেছিল। ১৯ শতকে ব্রিটিশরা এই অঞ্চলে প্রথম “বরিশাল গান” শুনেছিল।
৯. বরিশালের উপজেলা, ইউনিয়ন এবং পৌরসভা সংখ্যা: বরিশাল জেলার ১০ টি উপজেলা, ৬ টি পৌরসভা এবং ৮৭ টি ইউনিয়ন রয়েছে।
১০. বরিশালের লোকেরা যে নামে পরিচিত: বরিশালের লোকেরা “বরিশাইল্লা” নামে পরিচিত। তাদের একটি স্বতন্ত্র উপভাষা রয়েছে যা বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয়।

১১. বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব: বরিশাল জেলাতে বহু প্রতিভাধর ব্যক্তির জন্ম হয়েছে। তাদের মধ্যে সুপরিচিত বাঙালি সমাজসেবী এবং শিক্ষাবিদ ব্রজমোহন দত্ত (১৮২৬-১৮৮৬), জনহিতৈষী ও জাতীয়তাবাদী নেতা অশ্বিনীকুমার দত্ত (১৮৫৬- ১৯২৩), মহান নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক (১৮৭৩-১৯৬২), কুসুমকুমারী দাশ (১৮৭৫-১৯৪৮), মন্ত্রিপরিষদ এবং কৃষকদের নেতা খান বাহাদুর হাশেম আলী খান (১৮৮৮-১৯৬২), কবি জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯ -১৯৫৪), স্ব-শিক্ষিত দার্শনিক, চিন্তাবিদ এবং লেখক আরজ আলী মাতুব্বর (১৯০০-১৯৮৫), তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তানের সংসদের ষষ্ঠ স্পিকার আব্দুল জব্বার খান (১৯০২-১৯৮৪), পাকিস্তানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পিতা, পাকিস্তানের প্রথম আইনমন্ত্রী যোগেন্দ্র নাথ মন্ডল (১৯০৪-১৯৬৮), তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রধানমণন্ত্রী মোহাম্মদ আলী বগুড়া (১৯০৯-১৯৬৩), কবি সুফিয়া কামাল (১৯১১ -১৯৯৯), বাংলাদেশী সুরকার, সাংস্কৃতিক কর্মী ও স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ (১৯৩৩-১৯৭১) , সুপরিচিত বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক এবং ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো-এর রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী (১৯৩৪-) মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক মেজর জলিল (১৯৪২-১৯৮৯) এবং বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর (১৯৪৯-১৯৭১)।

অশ্বিনীকুমার দত্ত (১৮৫৬- ১৯২৩) 
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক (১৮৭৩-১৯৬২) 
কুসুমকুমারী দাশ (১৮৭৫-১৯৪৮) 
খান বাহাদুর হাশেম আলী খান (১৮৮৮-১৯৬২) 
জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯ -১৯৫৪) 
আরজ আলী মাতুব্বর (১৯০০-১৯৮৫) 
আব্দুল জব্বার খান (১৯০২-১৯৮৪) 
যোগেন্দ্র নাথ মন্ডল (১৯০৪-১৯৬৮) 
মোহাম্মদ আলী বগুড়া (১৯০৯-১৯৬৩) 
কবি সুফিয়া কামাল (১৯১১ -১৯৯৯) 
আলতাফ মাহমুদ (১৯৩৩-১৯৭১) 
আবদুল গাফফার চৌধুরী (১৯৩৪-) 
মেজর জলিল (১৯৪২-১৯৮৯) 
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর (১৯৪৯-১৯৭১)
১২. বরিশালের জনপ্রিয় খাবার: বরিশাল বাংলাদেশের ধান উৎপাদন কেন্দ্র। বালাম (এক ধরণের বাসমতী) বরিশালের সর্বাধিক জনপ্রিয় ধান। এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি সাধারণ চিবানো আইটেম পানের জন্যও বিখ্যাত। নদী দ্বারা বেষ্টিত জেলা হবার কারণে বরিশালে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যায়। একটি বাংলা উক্তি, “ধান, নদী, খাল এই তিনে বরিশাল”

বালাম চাল (এক ধরণের বাসমতী) 
পান 
নারকেল 
আমড়া
শহরটি উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় নারকেল একটি সাধারণ ফল। বরিশাল আমড়ার জন্যও খুব পরিচিত। বাংলার শস্য ভান্ডার বরিশাল একসময় ‘এগ্রিকালচারাল ম্যানচেস্টার’ হিসেবে পরিচিত ছিল। বরিশালের অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল বাংলার অর্থনীতি। সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা এ অঞ্চল প্রাচীনকাল থেকে দিয়ে এসেছে অফুরন্ত ধন-সম্পদ আর সীমাহীন প্রাচুর্য। প্রাচীনকাল থেকে পলি গঠিত উর্বর এ অঞ্চল ছিল কৃষির জন্য উৎকৃষ্ট এবং বসবাসের জন্য উত্তম। কৃষিই ছিল এ দেশের অর্থনীতির মূল উৎস।



Leave a comment