
জ্যাকব টাওয়ার বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে, ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় অবস্থিত। স্থপতি কামরুজ্জামান লিটনের নকশায় এ টাওয়ারটি নির্মান করা হয়েছে।এ টাওয়ারটি প্রায় ২২৫ থেকে ২৫০ ফিট উঁচু। এটি ১৮ তলাযুক্ত একটি টাওয়ার যা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উচু টাওয়ার | একজন পর্যটক এই টাওয়ারের উপর থেকে ৩৬০ ডিগ্রিতে চারপাশ দেখতে পারে। একজন পর্যটক টাওয়ারটির উপর থেকে প্রায় একশো কিঃমি পর্যন্ত দেখতে পারে। দেশের পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে আইফেল টাওয়ারের নকশা অনুসরণ এ টাওয়ারটি নির্মিত হয়েছে।

জ্যাকব টাওয়ার গুগল ম্যাপ লোকেশন: https://goo.gl/maps/92qWt6Kn9deeaYz77

নির্মান ও উদ্বোধন: ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে চরফ্যাশন পৌরসভার বরাদ্দকৃত প্রায় ১ একর জমিতে টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়; যার প্রায় ৫ বছর পর; ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে এই টাওয়ারটি সর্বপ্রথম জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ১৬ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখে ভোলায় দুই দিনের সফরে চর কুকরি মুকরি পরিদর্শন করেছিলেন এবং এই টাওয়ারটির উদ্বোধন করেছিলেন। জ্যাকব টাওয়ারের প্রতি তলায় প্রায় ৫০ জন এবং পুরো টাওয়ারটিতে প্রায় ৫০০ জন পর্যটক এ টাওয়ারের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে। জ্যাকব টাওয়ারটি ভোলা জেলা থেকে ৭০ কি.মি. দুরে অবস্থিত। টাওয়ারটি তৈরি করতে বাংলাদেশী ২০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। জ্যাকব টাওয়ারের সাথে একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট সংযুক্ত করা হয়েছে যার জন্য প্রায় আরো ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
টাওয়ারের আকৃতিগত বর্ণনা: মাটির ৭৫ ফুট নিচ থেকে ঢালাই-পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর সম্পূর্ণ ইস্পাত নির্মিত এই টাওয়ার ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করতে পারে। ভূমির উপর থেকে টাওয়ারের ওপরে অবস্থিত গম্বুজ আকৃতির ওয়াচ পয়েন্ট পর্যন্ত চারদিকে অ্যালুমিনিয়ামের ওপর রয়েছে ৫ মিলিমিটার ব্যাসের স্বচ্ছ কাঁচ। এর চূড়ায় ওঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি রয়েছে ক্যাপসুল লিফট। টাওয়ার চূড়ায় স্থাপন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতার বাইনোকুলার। এর সাহায্যে পর্যটকরা দূরবর্তী স্থান দেখতে পারেন। বাইনোকুলারের সাহায্যেই জ্যাকব টাওয়ারের শীর্ষ থেকে আশেপাশে প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দেখা যায়। এ টাওয়ার থেকে চর কুকরি-মুকরি, তারুয়া সৈকত, স্বপ্নদ্বীপ মনপুরার চর পিয়াল, হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ আর বঙ্গোপসাগর খুব সহজে দেখা যায়।

টাওয়ারটির নামকরণ: টাওয়ারটি নির্মাণের শুরুতে জাকব টাওয়ার নামে পরিচিত ছিল না। প্রাক্তন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ১৬ মে ২০১৭ তারিখে নির্মাণাধীন টাওয়ারটি পরিদর্শন করেন এবং টাওয়ারটির নির্মাণ শৈলী এবং নান্দনিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে এর নাম দেন ‘জাকব টাওয়ার’। ভোলা -৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকোবের নামানুসারে এই টাওয়ারটির নামকরণ হয়েছে যিনি বাংলাদেশের একজন বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রীও। ভোলার পর্যটনকে প্রচার করার জন্য ভোলা-৪ আসনের এমপি জ্যাকব এ টাওয়ারটি নির্মান করেছেন।

টাওয়ারটি ভ্রমণ খরচ ও ভ্রমণের সময়: এই টাওয়ারটি ভ্রমণে একজন পর্যটককে জনপ্রতি ১০০ টাকা খরচ করতে হয়। জ্যাকব টাওয়ারে অবস্থিত একটি লিফট দর্শনার্থীদের সবচেয়ে উপরের তালায় নিয়ে যায় যেখান থেকে খুব সহজে মনোরম ম্যানগ্রোভ, সমুদ্র এবং চরফ্যাশনের নদীর একটি মনোরম প্রদর্শন সরবরাহ করবে। দর্শনার্থীদের জন্য জ্যাকব টাওয়ারটি প্রতি শনিবার থেকে বুধবার সকাল ৯ টা থেকে রাত্র ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শনিবার থেকে বুধবার, জ্যাকব টাওয়ার দুপুর ১২ টা ৩০ থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। অন্যদিকে প্রতি বৃহস্পুতিবার সকাল ৯ টায় খুলে দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিটে বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবারে দর্শনার্থী বেশি থাকার কারণে বিকাল ৩ টার জায়গায় ২ টা ৩০ মিনিটে টাওয়ারটি খুলে দেয়া হয়।
To know about Jakob Tower in English please click on the following Link: https://iamnrdurjoy.wordpress.com/2020/10/22/jakobtowerbhola-english/


One thought on “জ্যাকব টাওয়ার, ভোলা, বাংলাদেশ (দক্ষিন এশিয়ার সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার)”