লেখক: মো: নাইমুর রহমান (দুর্জয়)
তামিল সিনেমার দর্শক ও কমার্শিয়াল ম্যাস-মাসালা ছবির প্রেমীদের জন্য ২০২৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ফ্যান্টাসি অ্যাকশন-ড্রামা ‘কারুপ্পু’ (Karuppu) একটি অতি পরিচিত নাম । আর জে বালাজির পরিচালনায় এবং সুরিয়ার অনবদ্য কামব্যাকে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি কমার্শিয়াল সাফল্যের পাশাপাশি দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে । নিচে এই সিনেমার প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. মুভি পরিচিতি (Movie Introduction)
‘কারুপ্পু’ হলো একটি উচ্চ-ধারণার (high-concept) তামিল ফ্যান্টাসি অ্যাকশন-ড্রামা, যেখানে তামিল লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী রক্ষাকর্তা দেবতা ‘ভেট্টাই কারুপ্পু’ বা ‘কারুপ্পুস্বামী’-র ধারণাকে আধুনিক বিচার ব্যবস্থার দুর্নীতি ও শোষণের সাথে মেলানো হয়েছে । প্রথমার্ধে একটি সাধারণ চুরির মামলা এবং অসহায় বাবার ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে ছবির প্লট তৈরি হলেও, পরবর্তীতে তা দেবতা ও মানুষের অসম লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে একটি রোমাঞ্চকর বাণিজ্যিক রূপ লাভ করে। প্রায় দুই দশক পর পর্দায় অভিনেতা সুরিয়া এবং তৃষা কৃষ্ণানের চমৎকার পুনর্মিলন এই সিনেমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ । ওটিটি প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে এটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকে দর্শক মহলে নতুন করে এর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে ।
২. মৌলিক তথ্য (Basic Information)
- চলচ্চিত্রের নাম: কারুপ্পু (Karuppu – অনুবাদ: কালো) [২৬]
- তেলুগু নাম (ডাবড সংস্করণ): বীরভদ্রুডু (Veerabhadrudu)
- পরিচালক: আর জে বালাজি
- চিত্রনাট্যকার: আর জে বালাজি, অশ্বিন রবিচন্দ্রন, রাহুল রাজ, টি. এস. গোপী কৃষ্ণন এবং করণ অরবিন্দ কুমার
- প্রযোজনা সংস্থা: ড্রিম ওয়ারিয়র পিকচার্স (ড্রিম ওয়ারিয়র পিকচার্সের ব্যানারে এস. আর. প্রভু এবং এস. আর. প্রকাশ বাবু)
- প্রধান অভিনয়শিল্পী: সুরিয়া (সারাবানন / কারুপ্পুস্বামী হিসেবে), আর জে বালাজি (বেবি কান্নান হিসেবে), তৃষা কৃষ্ণান (প্রীতি হিসেবে), ইন্দ্রানস (মাট্টানচেরি সুকুমারন হিসেবে), অনঘা মায়া রবি (বিনু সুকুমারন হিসেবে), শিবদা (কানমানি হিসেবে), সোয়াসিকা (বাসন্তী হিসেবে), নটরাজ সুব্রামানিয়াম (চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজানায়গাম হিসেবে) এবং সুপ্রীত রেড্ডি (গৌরী হিসেবে)
- সঙ্গীত পরিচালনা: সাই অভয়ঙ্কর (তরুণ পপ সেনসেশন, যিনি অস্কারজয়ী এ. আর. রহমানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন)
- চিত্রগ্রহণ (Cinematography): জি কে বিষ্ণু
- সম্পাদনা (Editing): আর. কালাইভানন
- চলতি সময় (Running Time): ১৫২ মিনিট (বা প্রায় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট)
- বাজেট: প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০ কোটি টাকা
- বক্স অফিস কালেকশন: বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৩১০ থেকে ৩১৫ কোটি টাকা (এটি সুরিয়ার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি আয়কারী চলচ্চিত্র)
- মুক্তির তারিখ: ১৫ মে ২০২৬
৩. স্পয়লার-মুক্ত কাহিনী (Spoiler-Free Story)
সিনেমার গল্পটি গড়ে উঠেছে কেরালার বাসিন্দা মাট্টানচেরি সুকুমারন (ইন্দ্রানস) এবং তার মেয়ে বিনু সুকুমারন (অনঘা মায়া রবি)-কে কেন্দ্র করে, যারা বিনুর লিভার ট্রান্সপ্লান্টের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চেন্নাই আসছিলেন । কিন্তু দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে পথিমধ্যে একটি ট্রেন স্টেশনে তাদের চিকিৎসার খরচের জন্য রাখা ৬০ ভরি সোনার গয়না চুরি হয়ে যায় । পুলিশ কেবল ৪৫ ভরি সোনা উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও আদালতের মাধ্যমে তা ফেরত পাওয়ার জটিল আইনি মারপ্যাঁচে আটকে দেয় ।

ন্যায়বিচারের আশায় তারা আদালতের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং চরম দুর্নীতিবাজ আইনজীবী বেবি কান্নান (আর জে বালাজি)-এর শরণাপন্ন হয় । কিন্তু স্বার্থান্বেষী বেবি কান্নান তাদের সাহায্য করার পরিবর্তে মামলার সময় দীর্ঘায়িত করে তাদের শেষ সম্বলটুকুও চুষে নিতে থাকে । অসহায় ও ক্লান্ত বাবা সুকুমারন অবশেষে তাদের শেষ আশা হিসেবে প্রাচীন লোকদেবতা ‘ভেট্টাই কারুপ্পু’-র কাছে প্রার্থনায় বসেন। ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে দেবত্ব নেমে আসে মর্তে। মানুষের ছদ্মবেশে আইনজীবী ‘সারাবানন’ হিসেবে আদালতে প্রবেশ করেন কারুপ্পু ।
শয়তান বেবি কান্নান যখন সারাবাননকে তার অলৌকিক ক্ষমতা ব্যবহার না করে সাধারণ মানুষের মতো সাধারণ আইনি লড়াইয়ে জেতার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, তখন লড়াইটি আরও জমে ওঠে । একজন দেবতাকে মানুষের নিয়মে মানুষের আইনি ফাঁদে খেলতে বাধ্য করা হয় । মানুষের বিচার কি শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পেরেছিল? দেবত্বের এই মর্ত্যলীলা কীভাবে সাধারণ মানুষের বঞ্চনার অবসান ঘটায়, তা জানতে হলে আপনাকে পুরো ছবিটি উপভোগ করতে হবে ।
৪. অভিনয় ও পারফরম্যান্স (Cast & Performance)
- সুরিয়া (সারাবানন / ভেট্টাই কারুপ্পু): এই ছবিটির একমাত্র আসল চালিকাশক্তি হলেন সুরিয়া । বিগত বেশ কয়েকটি অসফল প্রজেক্টের পর সুরিয়া এখানে অত্যন্ত ক্ষুধার্ত ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ অভিনয় উপহার দিয়েছেন । মারপিটের দৃশ্যগুলোতে তার অদম্য শারীরিক প্রকাশ এবং কোর্টরুমের দৃশ্যগুলোতে তার শান্ত অথচ প্রভাবশালী অভিব্যক্তি চরিত্রটিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে । ‘গড মোড’-এর সোয়াগ এবং কিলার এটিটিউড দর্শককে বারবার সিটি মারতে বাধ্য করে ।
- তৃষা কৃষ্ণান (আইনজীবী প্রীতি হিসেবে): তৃষার অভিনয় ছিল প্রথমার্ধের অন্যতম প্রধান আবেগপূর্ণ নোঙর । সুরিয়ার সাথে তার রসায়নটি রোমান্টিক না রেখে সহকর্মী ও বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো রাখায় ছবির গভীরতা বেড়েছে । তৃষার চরিত্রটি তার স্ক্রিনটাইমের সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছে, যদিও দ্বিতীয়ার্ধে তার ভূমিকা কিছুটা সংকুচিত হয়ে যায় । (উল্লেখ্য, প্রীতির চরিত্রে তৃষার কণ্ঠ ডাব করেছেন গায়িকা ও ডাবিং শিল্পী চিন্ময়ী) ।
- আর জে বালাজি (বেবি কান্নান হিসেবে): ছবির পরিচালক আর জে বালাজি নিজেই প্রধান খলনায়ক বা অ্যান্টাগনিস্ট বেবি কান্নানের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন । অভিনয়ের দিক থেকে তিনি কিছুটা হালকা ও দুর্বল ছিলেন । একজন চরম খলনায়ক যিনি পুরো সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করছেন, সেই চরিত্রে বালাজির অভিব্যক্তি ততটা জোরালো বা ভীতিপ্রদ লাগেনি, বিশেষ করে সুরিয়ার তর্জন-গর্জনের সামনে তাকে কিছুটা ম্লান দেখিয়েছে ।
- ইন্দ্রানস ও অনঘা মায়া রবি: অসহায় বাবা মাট্টানচেরি সুকুমারনের ভূমিকায় ইন্দ্রানস চমৎকার করুণ অভিনয় করেছেন । তার সীমিত তামিল জ্ঞানের পরেও আর জে বালাজির উৎসাহে তিনি যেভাবে নিজের সেরাটি দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় । মেয়ের চরিত্রে অনঘাও বেশ মানানসই ছিলেন ।
- ক্যামিও বা বিশেষ উপস্থিতি: সিনেমায় বেশ কয়েকটি বিশেষ দৃশ্য রয়েছে, যার মধ্যে ‘লিও’ ছবির রেফারেন্সে স্যান্ডি মাস্টারের কফি শপ দৃশ্য এবং সুরিয়ার আইকনিক চরিত্র ‘দুরাই সিংঘম’-এর রূপে ক্লাইম্যাক্সের কদমটি দর্শকদের বেশ বিনোদিত করে ।

৫. পরিচালনা ও চিত্রনাট্য (Direction & Screenplay)
সিনেমার প্রথমার্ধে আর জে বালাজির পরিচালনা ছিল বেশ প্রশংসনীয় । একটি ফ্যান্টাসি বিষয়বস্তুকে বাস্তবসম্মত গ্রামীণ আইনি লড়াইয়ের সাথে মেলানোর কঠিন চ্যালেঞ্জটি তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মোকাবেলা করেছিলেন ।
তবে চিত্রনাট্যের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়ার্ধে বেশ অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায় । ছবির চিত্রনাট্যটি লিখেছেন আর জে বালাজি নিজেই এবং তার সাথে যুক্ত ছিলেন অশ্বিন রবিচন্দ্রন, রাহুল রাজ প্রমুখ । প্রথমার্ধে যে বাবা-মেয়ের সোনার মামলাটিকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি একটি চমৎকার আবেগপূর্ণ রূপ নিচ্ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে হঠাৎ করেই বিনুর মৃত্যুর পর সিনেমাটি সেই মূল গল্প থেকে সরে যায় । এর পরিবর্তে একটি নতুন যৌন নির্যাতনের মামলা (যেখানে শিবদা ভুক্তভোগী কানমানির চরিত্রে অভিনয় করেছেন) জোরপূর্বক অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা সিনেমার নিজস্ব সুর ও গতিকে মন্থর ও লক্ষ্যহীন করে তোলে ।
৬. কারিগরি বিশ্লেষণ (Technical Analysis)
- সিনেমাটোগ্রাফি: জি কে বিষ্ণুর ক্যামেরা অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছে । গ্রামীণ আবহকে সুন্দর ও উষ্ণ রঙের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে, যা পৌরাণিক উপাদান ও লোকসংস্কৃতির রহস্যময়তাকে বাস্তবের সাথে চমৎকারভাবে যুক্ত করেছে ।
- ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস (CGI): কারিগরি দিক থেকে এই সিনেমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো এর ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস । বিশেষ করে ক্লাইম্যাক্সের দুরাই সিংঘম ক্যামিও এবং অন্যান্য অ্যাকশন ব্লকের সিজিআই কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের এবং সস্তা লেগেছে । পরিচালক নিজেই স্বীকার করেছেন যে বাজেট ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের কিছু কারিগরি আপস করতে হয়েছিল ।
- সম্পাদনা: আর. কালাইভাননের সম্পাদনা প্রথমার্ধে চমৎকার হলেও দ্বিতীয়ার্ধের ঢিলেঢালা স্ক্রিনপ্লে ও অতিরিক্ত ফ্যান-সার্ভিস দৃশ্যগুলোর কারণে ছবির দৈর্ঘ্য কিছুটা অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে ।
৭. সঙ্গীত (Music)
তরুণ পপ-কম্পোজার সাই অভয়ঙ্কর ছিলেন এই চলচ্চিত্রের অন্যতম স্তম্ভ । এ. আর. রহমানের পরিবর্তে তাকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তটি ড্রিম ওয়ারিয়র পিকচার্সের জন্য সেরা সিদ্ধান্ত প্রমাণিত হয়েছে । সাই অভয়ঙ্করের ড্রামের প্রবল তালি ও ঐতিহ্যবাহী লোকবাদ্যের মিশ্রণ সিনেমার আবহকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে ।
সিনেমার গানগুলোর মধ্যে দিওয়ালিতে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম একক গান “God Mode” দর্শক মহলে বিপুল উন্মাদনা তৈরি করে । এছাড়া “Verappa” গানের অনমনীয় তাল এবং সিশা টিআর-এর কণ্ঠে গাওয়া কৌতুকপূর্ণ “Naanga Naalu Peru” গান দুটি বেশ হিট হয়েছে । রোমান্টিক আবহ সংবলিত মৃদু সুরের “Aathi Raasathi” দর্শকদের একটু জিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেয় ।

৮. সবল দিকসমূহ (Strengths)
- সুরিয়ার ক্ষুধার্ত অভিনয়: দীর্ঘ সময় পর সুরিয়ার এমন আত্মবিশ্বাসী ও এনার্জিতে ভরপুর অভিনয় সত্যিই প্রশংসনীয় ।
- অনন্য প্রথমার্ধ: ফ্যান্টাসি এবং কোর্টরুম ড্রামার এমন অনন্য ও সুষম ফিউশন কদাচিৎ তামিল সিনেমায় দেখা যায় ।
- সাই অভয়ঙ্করের সঙ্গীত: ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ও গানগুলো সিনেমার কমার্শিয়াল ম্যাস-হাই-কে সার্থক করেছে ।
- তৃষা ও সুরিয়ার সম্পর্ক: কোনো অবান্তর রোমান্স ছাড়াই তাদের কাজের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গভীর বন্ধুত্ব ছিল দেখতে খুব চমৎকার ।
- ইন্দ্রানসের আবেগ: কেরালা থেকে আসা সুকুমারনের চরিত্রটি সিনেমার প্রথমার্ধের মূল ট্র্যাজেডি ও আবেগ অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে ।
৯. দুর্বল দিকসমূহ (Weaknesses)
- লক্ষ্যহীন দ্বিতীয়ার্ধ: প্রথম অর্ধে তৈরি করা দুর্দান্ত ইমোশন ও উত্তেজনাকে হঠাৎ করে পরিত্যাগ করে দ্বিতীয়ার্ধে অন্য মামলা আনা এবং অতিরিক্ত ফ্যান-সার্ভিসের আধিক্য সিনেমার ভারসাম্য নষ্ট করে ।
- দুর্বল অ্যান্টাগনিস্ট: খলনায়ক হিসেবে আর জে বালাজি সুরিয়ার সামনে একেবারেই দাঁড়াতে পারেননি, ফলে সিনেমার প্রধান সংঘাতটি শেষপর্যন্ত বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে ।
- নিম্নমানের ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস (CGI): ক্লাইম্যাক্সের অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর দুর্বল গ্রাফিক্স সিনেমার পুরো ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতাকে ক্ষুণ্ণ করে ।
১০. রেটিং (Rating)
- The Times of India: ২.৫ / ৫ (2.5/5)
- The Indian Express: ৩.০ / ৫ (3/5)
- পাঠক ও ভক্তদের গড় রেটিং: ২.৭৫ / ৫
১১. চূড়ান্ত রায় (Final Verdict)
‘কারুপ্পু’ হলো একটি সাহসী ও প্রশংসনীয় ফ্যান্টাসি সমাজ-সচেতন ছবি, যা তার অভিনব ও চমত্কার ধারণার জন্য দর্শকদের মন জয় করেছে । যদিও দুর্বল স্ক্রিনপ্লে ও অসঙ্গতিপূর্ণ সিজিআই-এর কারণে দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটি কিছুটা পথ হারায়, তবুও সুরিয়ার অবিশ্বাস্য স্ক্রিন প্রেজেন্স ও সাই অভয়ঙ্করের দুর্দান্ত থিয়েট্রিকাল সঙ্গীতের জন্য এটি অন্তত একবার অবশ্যই উপভোগ করার মতো সিনেমা ।
১২. চলচ্চিত্রের ব্যক্তিগত পর্যালোচনা (Movies Personal Review)
ব্যক্তিগতভাবে, ‘কারুপ্পু’ ছবিটির ট্রেইলার ও টিজার দেখেই আমি এর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলাম । কোর্টরুমে লোকদেবতা নেমে আসার এই ধারণাটি সত্যিই অসামান্য ছিল । ছবিটির প্রথমার্ধ দেখার সময় মনে হচ্ছিল, তামিল সিনেমায় দীর্ঘ সময় পর একটি কাল্ট-ক্লাসিক ম্যাস ছবি তৈরি হতে চলেছে। সুরিয়া যখন সাধারণ আইনজীবী সারাবাননের ছদ্মবেশে অলৌকিক ক্ষমতা বাদ দিয়ে বেবি কান্নানের বুদ্ধির খেলাগুলো ভেঙে দিচ্ছিলেন, তখন প্রতিটি দৃশ্য ছিল উপভোগ্য ।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বিনুর মৃত্যুর পর গল্পের সেই মানবিক দুঃখ ও অনুভূতি হারিয়ে যায় এবং সিনেমাটি অতিমাত্রায় রিলস-স্টাইলের মাস্ হিরো কন্টেন্টে রূপান্তরিত হতে থাকে । আর জে বালাজির কমজোর অভিনয় অ্যান্টাগনিস্ট হিসেবে সুরিয়ার তেজস্বী রূপের সাথে মোটেও ভারসাম্য রাখতে পারেনি । তা সত্ত্বেও, সিনেমায় সাই অভয়ঙ্করের হাই-এনার্জি ড্রাম বিটস এবং সুরিয়ার পর্দা কাঁপানো সোয়াগ সিনেমাটিকে একঘেয়ে হতে দেয়নি । এটি সর্বাঙ্গীন নিখুঁত ছবি না হলেও বিনোদনের সব উপাদানই এতে কমবেশি বিদ্যমান ।

১৩. কাদের দেখা উচিত? (Who Should Watch?)
- আপনি যদি সুরিয়ার কট্টর সমর্থক বা ভক্ত হন এবং দীর্ঘ সময় পর তাকে পূর্ণ শক্তি ও সোয়াগে দেখতে চান, তবে এই ছবি আপনার জন্য আবশ্যক ।
- যারা সাধারণ কোর্টরুম ড্রামার পাশাপাশি হালকা অলৌকিকতা বা ফ্যান্টাসি ঘরানার ছবির মেলবন্ধন পছন্দ করেন।
- যারা তামিল লোকসংস্কৃতি, রক্ষক দেবতা ‘ভেট্টাই কারুপ্পু’-র বিশ্বাস এবং সাধারণ শোষিত মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে রোমাঞ্চ পান ।

Leave a comment