অবুঝ মনের গহিন কোণে ছিল যে এক ঘর,
স্বপ্নকন্যার মায়ায় ব্যাকুল, জগত ভাবত পর।
কল্পনাতে আঁকা ছিল এক মায়াবী হাসি,
না দেখেই ছেলেটা তাকে বলতো “ভালবাসি”।
রাতের আকাশে চেয়ে নিত্য হতো প্রার্থনা—
“হে বিধাতা, একবার দেখাও, ভরুক হৃদয় বাসনা।”
অবুঝ হৃদয় জানত না তখনো, ভাবতো সকাল রাত,
স্বপ্নের সেই মেয়ে হয়তো বাস্তবেরই সাজ।
ও স্বপ্নের রাজকুমারী,
তুমি কি কোথাও আছো?
মনের শত অজানা স্বপ্নে,
কেন বারবার তুমি আসো?
রাতের আকাশ সাক্ষী ছিল তার নীরব ওই প্রার্থনায়—
বলতো মনে একবারটি দেখা দাওগো তুমি আমায়।
হঠাৎ একদিন বাসের ভিড়ে থমকে গেল চোখ,
স্বপ্ন যেন সত্যি হয়ে কাটালো মনের শোক।

মনে হলো—এই তো সেই মুখ,
যাকে দেখেছি কত স্বপ্নে।
তার চোখ, তার হাসি, তার চুলের দোল
মনটা হারাল নীরব স্পন্দনে।
সেই যে দেখা, সেই যে পাওয়া— বদলে গেল দিন,
অনাগ্রহী ছেলেটা আজ ভার্সিটিতে রঙিন।
ক্লাসের ফাঁকে দূর থেকে ওই মায়ায় ভরা মুখ,
এক পলকের দেখাতেই তার অসীম হদয়সুখ।

ও স্বপ্নের রাজকুমারী,
তুমি এই মনেতেই আছো।
মনের শত অজানা স্বপ্নে,
প্লিজ গল্প হয়ে থাকো।
কাছে যাওয়ার সাহসটুকু জমলো না আর বুকে,
হারিয়ে ফেলার ভয়টি যেন কাঁটা হয়ে রূখে।
যদি সে বলে “হবে না গো”— যদি ফেরায় মুখ?
তার চেয়ে এই আড়াল থেকেই সইবে চেনা দুখ।
এই ভয়েই তাই নীরব থাকে
ভালোবাসার প্রতিটি কথা,
তবু হৃদয়ের গভীর কোণে
জেগে থাকে সেই ব্যথা।
কেউ জানল না গোপন কথা, গোপন দীর্ঘশ্বাস,
অপ্রকাশিত প্রেমেই ছিল ছেলেটার বিশ্বাস।
কিছু ভালোবাসা রয় না লেখা কোনো কাব্যগানে,
স্বপ্নরাণী বেঁচে থাকে শুধু স্বপ্ন দেখার টানে।

ও স্বপ্নের রাজকুমারী,
তুমি এই মনেতে থাকো।
আমার মত তোমার মনেতে,
আমায় চুপটি করে রাখো।

Leave a comment