ইউনিফর্মে ঢাকা ছিল কত অজানা ব্যথা,
বুকের মাঝে লুকিয়ে ছিল এক বাবারই কথা।
ওয়্যারলেসে ভেসে এলো দুর্ঘটনার ডাক,
জানতাম না সেই মুহূর্তে হারাবো আমার প্রাণ।
দ্রুত ছুটে গেলাম আমি, কর্তব্য ছিল সাথী,
জীবন সেদিন লিখে রাখলো নিষ্ঠুর এক গাঁথা।
ছোট্ট একটি নিথর দেহ, মানুষেরই ভিড়,
একটি নাম শুনেই যেন থেমে গেলো নিঃশ্বাস স্থির।

“তুহিন, শুনে কেঁপে উঠল বুকের প্রতিটি ধ্বনি,
এক পা, দুই পা এগিয়ে দেখি, ওই তো আমার প্রাণই।
সকালে যে বলেছিল, “আব্বু, তাড়াতাড়ি আসবা?”
সন্ধ্যা হল, আমি ফিরলাম, তুই আর ফিরলি না।
তুহিন, ও তুহিন, শুনতে পাই না “আব্বু” ডাক,
বুকের ভেতর রক্ত ঝরে, চোখে নামে শোকের ফাঁক।
দেশের পুলিশ হতে পেরেছি, বাবা হতে পারিনি,
নিজের ছেলের লাশ কাঁধে নিয়ে আজও আমি বাঁচিনি।

স্কুলব্যাগটা নীরব হয়ে কোণায় পড়ে রয়,
খাতার পাতায় অসমাপ্ত সেই ছোট্ট হাতের ছোঁয়।
জুতোর জোড়া অপেক্ষাতে, খুলে রাখা দরজা,
শুধু তুই আর ফিরবি না—এই তো জীবনের সাজা।
অপরাধী ধরতে পারি, আইনেরই পথে,
সময়টাকে ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা নেই হাতে।
পদক, সম্মান, কর্তব্য সব আজ অর্থহীন,
ছেলের শূন্য বিছানাতে বসে কাঁদে রাতদিন।

একটা বেপরোয়া গতি শুধু চাকা ঘোরায় না,
কারও মায়ের বুকের ভেতর আগুন জ্বালায় না?
কারও বাবার পৃথিবীটাকে মুহূর্তেই ভাঙে,
একটি ভুলে হাজার স্বপ্ন ধুলোয় মিশে যায় রে।

রাস্তা শুধু রাস্তা নয়, জীবন চলার পথ,
একটু অসতর্কতায় শেষ হয়ে যায় রথ।
ধীরে চলো, মানুষ বাঁচাও, এটাই হোক শপথ,
একটি শিশুর হাসির চেয়ে বড় নয় কোনো রথ।

তুহিন, ও তুহিন, আজও ডাকি নীরব রাতে,
স্বপ্ন হয়ে ফিরিস শুধু চোখের জলের সাথে।
দেশের পুলিশ হতে পেরেছি, বাবা হতে পারিনি,
ক্ষমা করে দিস বাবা, তোকে আমি বাঁচাতে পারিনি।
আজও আমি ডিউটিতে যাই, ইউনিফর্মটা গায়,
ভেতরটা শুধু শূন্য হয়ে তোরই নামটা চায়।
হে মানুষ, একটু থামো, গতি কমাও আজ,
আর কোনো বাবা যেন না হারায় সন্তানের সাজ।

তুহিন, বাবা, ক্ষমা করে দিস,
আজও আমি শুধু অপেক্ষায়.,

Leave a comment