আজও মনে পড়ে সেই ছেলেবেলার দিন,
শত রঙে আঁকা ছিল প্রতিটি ক্ষণ প্রতিদিন।
আমি আর আমার ভাই, সাথে বন্ধুর দল,
শৈশবের রাজ্যে ছিলাম সুখেরই সম্বল।
সকাল হতো বই খুলে, একটু পড়ার ছলে,
তারপর ছুটে যেতাম মাঠের সবুজ তলে।
ক্রিকেট ব্যাট হাতে নিয়ে স্বপ্ন বুনতাম কত,
জয়-পরাজয় ভুলে গিয়ে খেলতাম অবিরত।
ফিরে যেতে মন চায় সেই হারানো দিনে,
বন্ধুদের হাসির শব্দ ভাসে আজও বুকে গোপনে।
যতই বড় হই না কেন, যতই বদলায় সময়,
শৈশবের সেই স্মৃতিগুলো আজও আমার পরিচয়।
দুপুরবেলা পুকুর ঘাটে বিশাল ছিল মেলা,
দশ-বিশ জন বন্ধু মিলে চলত জলের খেলা।
একবার নামলে উঠতাম না তিন-চার ঘণ্টা আগে,
সেই দিনগুলোর স্মৃতিগুলো আজও হৃদয় জাগে।

বাবা ছিলেন কখনো রোদ,
কখনো কালো মেঘ, কখনো দিতেন খেলার ছাড়,
কখনো রাগের বেগ। পুকুর থেকে উঠেই কত খেয়েছি যে বকুনি,
আজকে ভাবি, সেই রাগেও লুকিয়ে ছিল মমতা গুণী।
বাদশা দাদার টিনের চালে বলটা যেত উড়ে,
আমরা তখন প্রাণপণে ছুটতাম মাঠ ছেড়ে দূরে।
পিছন থেকে দৌড়ে এসে বকতেন তিনি খুব,
আজকে মনে হলে হাসি পায়, মুছে যায় সব ক্ষোভ।

সাদেক দাদা দেখলেই যেন বাঁধত নতুন যুদ্ধ,
আমাদের সব আনন্দে ছিল তার অদ্ভুত রুষ্ট।
তবু কে শোনে কার কথা, খেলেছি আপন মনে,
সেই দিনগুলো রয়ে গেছে হৃদয়েরই কোণে।
ফিরে যেতে মন চায় সেই হারানো দিনে,
বন্ধুদের হাসির শব্দ ভাসে আজও বুকে গোপনে।
যতই বড় হই না কেন, যতই বদলায় সময়,
শৈশবের সেই স্মৃতিগুলো আজও আমার পরিচয়।

রেজাল্ট খারাপ হলে বুকের ভিতর ভয়,
বাবার হাঁটার শব্দ শুনে কাঁপত হৃদয়ময়।
আজও কোনো শব্দ এলে চমকে উঠি হঠাৎ,
শৈশবের সেই ভয়গুলো এখনো করে আঘাত।
তবু সেই মানুষটাকেই আজ বেশি মনে পড়ে,
যার শাসনের আড়াল জুড়ে ছিল ভালোবাসা ভরে।
যত দূরেই যাই না কেন, যত বদলাক কাল,
বাবার সেই মুখখানাই আমার প্রথম জয়-পরাজয়।

আজকে সবাই ব্যস্ত খুব, জীবন গেছে বদলে,
কেউ সংসারে, কেউ চাকরিতে, কেউ দূর দেশের ছলে।
তবু রাতে স্বপ্নে দেখি সেই ক্রিকেটের মাঠ,
আমি, আমার ভাই আর বন্ধুরা—সবাই আছি একসাথ।
সময় শুধু মানুষ বদলায়, বদলায় না স্মৃতি,
শৈশব নামের সেই রাজ্য আজও সবচেয়ে প্রীতি।
যদি একদিন ফেরত পেতাম হারিয়ে যাওয়া ক্ষণ,
আর কিছু চাইতাম না আমি—ফিরে পেতাম জীবন।

ফিরে যেতে মন চায় সেই হারানো দিনে,
বন্ধুদের হাসির শব্দ ভাসে আজও বুকে গোপনে।
যতই বড় হই না কেন, যতই বদলায় সময়,
শৈশবের সেই স্মৃতিগুলো আজও আমার পরিচয়।

Leave a comment