আজব এক স্বপ্ন দেখে হঠাৎ করে আজ সকালে ইরাজের ঘুমটা ভাঙ্গলো । এমনিতে রাতে খুব দেরী করে ঘুমানোর অভ্যাস ইরাজের। তাই ঘুম থেকে দেরীতেই উঠা হয়। কিন্তু দু:স্বপ্ন দেখার কারণে ইরাজের ঘুম খুব তাড়াতাড়ি ভেঙ্গে গেলো। স্বপ্নটা কেমন যেন খুব বাস্তব ছিলো। ইরাজ ঘুম থেকে উঠে ভেবে উঠতে পারছিলো না কি করবে। তার স্ত্রী নাইরার সাথে শেয়ার করবো; না কি করবে না। ইরাজ ভাবলো যদি নাইরা ইরাজকে ভুল ভাবে।
সকালে নাস্তা করার পর ইরাজ তার স্ত্রীকে তার স্বপ্নের কথা বলেই দিলো। কারণ ইরাজের চাপা কষ্ট বুঝার ক্ষমতা আল্লাহর পর একমাত্র নাইরার-ই আছে।

ইরাজঃ নাইরা জানো আজ আমি একটি বাজে স্বপ্ন দেখেছি।
নাইরাঃ কি দেখেছো? বলো
ইরাজঃ তুমি অন্য কিছু ভাববা নাতো।
নাইরাঃ না পাগল। আমি অন্য কিছু ভাবতে যাবো কেনো?
ইরাজঃ আমি স্বপ্নে খুবই পপুলার একজন তারকাকে দেখেছিলাম। আমি দেখলাম তার সাথে আমি পুরো দিনটা কাটিয়েছি। রাতে ওর বাসায় যখন ডিনারে যাচ্ছিলাম, পথের মাঝে খুব পরিচিত একজনের কন্ঠস্বর শুনলাম। আমি অবাক হয়ে তাকালাম। আরে এটাতে আমার আন্টি, রাবেয়া রশিদ। উনি এখানে কি করছে??? আমাকে দেখে ওনি খুব লজ্জ্বা পেলেন। ওনার চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম, উনি খুব কষ্টের মাঝে আছেন। বাসায় ওনার বৃদ্ধ স্বামী আর একজন বেকার ছেলে। ইদানিং ওনার বড় ছেলেকেও নিজেরই চালাতে হয়। তাই হয়তো আর কোনো উপায় না পেয়ে; পেটের দায়ে এই রাস্তায় নেমেছে। ওনার চোখের মাঝে লজ্জ্বা, ভয়, অভাবের ছাপ দেখে আজ নিজেকে খুব অসহায় লাগছে। স্বপ্নের মাঝেই যেন আমি ঘুঙ্গিয়ে ঘুঙ্গিয়ে কাঁদছিলাম আর ভাবছিলাম। ইস আমার যদি স্বামর্থ্য থাকতো আর আমি যদি আমার আন্টিকে টাকা, আশা, ভরসা দিয়ে সাহায্য করতে পারতাম। স্বপ্নের মধ্যে আমার কান্নার ফাকেই আমার ঘুমটা ভেঙ্গে যায়। আর তখনই আমি বুঝতে পারি। আমি আন্টিকে সাহায্য করবো কিভাবে? আল্লাহ আমাকেও তো অভাব দিয়ে পরীক্ষা করছেন। জানিনা এ অভাব কখন শেষ হবে।
নাইরাঃ (অনেকক্ষন কি যেন ভেবো) ভরসা রাখো আল্লাহর উপর। আল্লাহ অবশ্যই সবকিছু ঠিক করে দেবেন।

ইরাজঃ হা! সেই ভরসাতেই তো এখনো বেঁচে আছি। আর নাহলো তো এতদিনে……………..
নাইরাঃ প্লিজ! এসব কথা মুখে এনো না।

Leave a comment