সন্তানের উন্নতিতে যে হাসে বুক ভরে,
তার নাম বাবা—গর্ব লুকিয়ে চোখের নীড়ে।
সন্তানের অবনতিতে যে কাঁপে অন্তরে,
তার নাম বাবা—নীরব প্রার্থনায় রাত কাটে ভোরে।
ছোট্ট আবদার মুখে আসার আগেই যে শোনে,
নিজের চাওয়া-পাওয়া সব সরিয়ে রাখে কোণে।
সন্তান যখন চুপ করে, মন খারাপের ছায়া,
নিজের বুকে জমে অশ্রু—তবু মুখে হাসির মায়া।

তার নাম বাবা।
সন্তানকে সেরা করতে সর্বস্ব যে দেয়,
নিজের স্বপ্ন ভেঙে তবু সন্তানের স্বপ্ন বোনে নেয়।
ঝড়ের দিনে ঢাল হয়ে দাঁড়ায় যে দেয়াল,
রৌদ্রের দিনে ছায়া হয়ে রাখে অবিচল।

সন্তানের অসুখে যার নিঃশ্বাস থমকে যায়,
হাসিমুখে বলে—“আমি আছি”, ভয়টা গোপনায়।
মিনিটে পৃথিবী কিনে দিতে পারে যে প্রাণ,
সন্তানের হাসিই যার শ্রেষ্ঠ সম্মান।

হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে একটি চুমুর টানে,
রক্ত জল করে পথ চলে নীরব অভিমানে।
নিজে না খেয়ে সন্তানের মুখে তোলে ভাত,
নিজে অন্ধকারে থেকেও দেয় আলোর প্রভাত।
তার নাম বাবা—
কম কথার মানুষ, অথচ ভালোবাসা ঢেউ,
নীরবতার ভাষায় লেখেন সন্তানের জীবনের বেউ।
তিনি আকাশ, তিনি ভরসা, তিনি দৃঢ় প্রাচীর,
তার দোয়াতেই সন্তানের ভবিষ্যৎ হয় স্থির।

তার নাম বাবা—
ভালোবাসা যার সীমাহীন, নিঃশর্ত, অবিরাম,
বাবা মানেই জীবনের প্রথম নায়ক, প্রথম প্রণাম।

Leave a comment